Published : 25 Nov 2025, 05:19 PM
ইউক্রেইনে যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রচেষ্টার মধ্যে আবু ধাবিতে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের অঘোষিত আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে আরও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মধ্যকার মতভিন্নতা কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনের কর্মকর্তাদের চেষ্টার মধ্যে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ড্রিসকলের এ আলোচনার খবর মিলল।
যুক্তরাষ্ট্রের এ নতুন পরিকল্পনা এরই মধ্যে কিইভ ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের ভয়, ইউক্রেইনকে শেষ পর্যন্ত এমন চুক্তি বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হবে যাতে মস্কোর স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পাবে।
আবু ধাবিতে আলোচনার ধরন কি ছিল তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। মার্কিন এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে এ আলোচনার খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে রুশ প্রতিনিধি দলে কারা আছেন তা জানতে পারেনি তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ড্রিসকলের সঙ্গে আবু ধাবিতেই ইউক্রেইনের কয়েক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও বৈঠক হওয়ার কথা, বলেছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
এতসবের মধ্যেও ইউক্রেইনের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত আছে। সোমবার রাত থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত কিইভে রাশিয়ার তুমুল হামলায় অন্তত ৬ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেইনের রাজধানীর অনেক বাসিন্দাই শীতের কাপড় পরে ভূগর্ভস্থ টানেলে আশ্রয় নেন, কেউ কেউ তাঁবুতেও চলে যান।
এর আগে অগাস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে আলাস্কায় তড়িঘড়ি আয়োজিত এক সম্মেলন শেষেও কিইভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মনে হয়েছিল, ওয়াশিংটন হয়তো রাশিয়ার অনেক দাবিই মেনে নিতে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হয়ে রাশিয়ার ওপর ওয়াশিংটনকে আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে দেখা গেছে।
সর্বশেষ যে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, তা দিনকয়েক আগে প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু এই পরিকল্পনা ইউক্রেইন, তার ইউরোপীয় মিত্র এমনকী মার্কিন প্রশাসনের অনেককেও বিস্মিত করেছে। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে মস্কো তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে বলেই তাদের ধারণা।
২৮ দফার ওই পরিকল্পনায় কিইভকে ভূখণ্ডের দাবি ছাড়ার পাশাপাশি নিজেদের সামরিক বাহিনীর আকার কমানো ও নেটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্তকে কিইভ অনেক দিন ধরেই ‘আত্মসমর্পণের শামিল’ মনে করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগে ২০২২ সালে রুশ অভিযান শুরুর পর সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক এলাকা হারানোর খবর মিলছে, অন্যদিকে দুর্নীতি সংক্রান্ত এক কেলেঙ্কারিতে তার দুই মন্ত্রীকে বরখাস্তও হতে হয়েছে।
যদিও জেলেনস্কি সোমবার জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে জেনিভায় হওয়া আলোচনায় ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনেক ‘সঠিক’ দফা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তবে এখনও সংবেদনশীল অনেক বিষয় নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা বাকি রয়েছে।
আলোচনা চললেও চূড়ান্ত নথি তৈরি করা খুবই জটিল হবে, বলেছেন তিনি।
এদিকে ক্রেমলিন বলেছে, আবু ধাবির বৈঠক নিয়ে যেসব খবর এসেছে তা নিয়ে এখন পর্যন্ত বলার মতো কিছু নেই।
“আপাতত, একমাত্র যা বলার মতো আছে সেটি হল মার্কিনিদের প্রকল্প, ট্রাম্পের প্রকল্প। এটি শেষ পর্যন্ত আলোচনার একটি ভালো ভিত্তি হতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস,” বলেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।