তার ১৬ দিন পরে জন্ম নেওয়া ব্রাজিলের নান ইনাহ ক্যানাবারো লুকাসকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বলে মনে করা হচ্ছে।
Published : 05 Jan 2025, 10:17 AM
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃত তোমিকো ইতোকা ১১৬ বছর বয়সে মারা গেছেন।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, এই জাপানি নারীর মৃত্যু হয়েছে হিয়োগো প্রিফেকচারের আশিয়া শহরের একটি নার্সিং হোমে।
২০২৪ সালের অগাস্টে স্পেনের মারিয়া ব্রানিয়াস মোরেরা ১১৭ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর ইতোকা বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হন।
আশিয়ার ২৭ বছর বয়সী মেয়র রিওসুকে তাকাশিমা এক বিবৃতিতে বলেন, “মিজ ইতোকা তার দীর্ঘ জীবনে আমাদের সাহস ও আশা জুগিয়েছেন। এজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।”
ইতোকা জন্মেছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ছয় বছর আগে, ১৯০৮ সালের মে মাসে। ওই বছরই ফোর্ড মডেল টি গাড়ি চালু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে।
বিবিসি লিখেছে, ইতোকা বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি কি না তা যাচাই করা হয়েছিল গেল সেপ্টেম্বরে। এরপর প্রবীণ দিবসে তার হাতে গিনেস রেকর্ডসের সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রবীণ নাগরিকদের শ্রদ্ধা জানাতে দিবসটিতে জাপানে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়।
তিন ভাইবোনের একজন ইতোকা বিশ্বযুদ্ধ ও মহামারীর পাশাপাশি প্রযুক্তির উৎকর্ষগত সাফল্য দেখে গেছেন।
ছাত্রাবস্থায় তিনি ভলিবল খেলতেন এবং ৩,০৬৭ মিটারের অনটেক বা কিসো অনটেক পর্বত আরোহণ করেন দুইবার।
মেয়রের বিবৃতিতে বলা হয়, বৃদ্ধ বয়সে ইতোকা কলা ও দুধের মত কোমল পানীয় ক্যালপিস খেতে পছন্দ করতেন। এই পানীয় জাপানে বেশ জনপ্রিয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, ইতোকা ২০ বছর বয়সে বিয়ে করে, তার ঘরে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে জন্ম নেয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্বামীর টেক্সটাইল কারখানা দেখভাল করতেন ইতোকা। ১৯৭৯ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই থাকতেন।
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ইতোকার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে জাপানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরে গণনা করা তথ্য অনুযায়ী, তখন জাপানে শতবর্ষ বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজারের বেশি, যাদের ৮৮ শতাংশই নারী।
১২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি।
ইতোকার মৃত্যুর পর ব্রাজিলের ১১৬ বছর বয়সী নান ইনাহ ক্যানাবারো লুকাসকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি মনে করা হচ্ছে। তিনি ইতোকার ১৬ দিন পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।