Published : 24 Jun 2026, 01:00 AM
এলোমেলো পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টে বাজে শুরুর পর, কী দুর্দান্তভাবেই না ঘুরে দাঁড়াল পর্তুগাল। দারুণ দুটি গোলে সমালোচকদের জবাবও দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের জালে গোল উৎসব করে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জোরাল করল রবের্তো মার্তিনেসের দল।
হিউস্টনে মঙ্গলবার ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি ৫-০ গোলে জিতেছে পর্তুগাল। তাদের অন্য দুই গোলদাতা নুনো মেন্দস ও খাফায়েল লেয়াও।
পজেশন রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করা পর্তুগাল গোলের জন্য মোট ১৭টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। নবাগত উজবেকিস্তানের সাত শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।
পথে ফেরা জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠল পর্তুগাল। একটি করে ম্যাচ খেলা কলম্বিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ও ডিআর কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে।
দুই ম্যাচ খেলে উজবেকিস্তান এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পর দলকে পথে ফেরানোর পাশাপাশি সমালোচকদের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জে নেমে পাঁচ মিনিটেই দারুণ সুযোগ পান রোনালদো। কিন্তু বাঁ দিক থেকে নুনো মেন্দসের ডি-বক্সে বাড়ানো ক্রসে একটুর জন্য পা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।
পরের মিনিটেই দারুণ এক গোলে আগের ব্যর্থতাটা ঢেকে দেন রোনালদো। এবার ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান জুয়াও কান্সেলো, প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল ভলিতে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান আল নাস্র তারকা।
প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয় বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়লেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে চার ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন রোনালদো। বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ, ইউরো) পর্তুগালের হয়ে ১০ ম্যাচের গোল খরাও কাটল তার।
১১ মিনিট পর দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যায় পর্তুগাল। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিক পায় তারা। শট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন রোনালদো ও মেন্দস, প্রতিপক্ষের সবার হয়তো রোনালদোর দিকেই মনোযোগ ছিল; কিন্তু ছুটে গিয়ে জোরাল শটে রক্ষণ দেয়াল ফাঁকি দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন পিএসজি লেফট-ব্যাক মেন্দস।
হাইড্রেশন ব্রেক থেকে ফেরার পর, ২৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান আজিজ গানিভ। উল্লাসে ফেটে পড়ে উজবেকিস্তান সমর্থকরা; তবে তাদের উচ্ছ্বাস স্থায়ী হয়নি। আজিজের শটের আগ মুহূর্তে, কান্সেলো ফাউলের শিকার হওয়ায়, ভিএআরে সাহায্যে গোল দেননি রেফারি।
শক্তিশালী দলের বিপক্ষে শুরুতে দুই গোল হজম করলেও, আত্মবিশ্বাস হারায়নি এশিয়ার দলটি। সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠছিল তারা। তবে প্রথমার্ধেই আরেক গোল হজম করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বড় ধাক্কা খায় তারা।
৩৯তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। ডি-বক্সে ডান দিকে থ্রু বল বাড়ান ব্রুনো ফের্নান্দেস, বলের পেছনে ছুটে যান রোনালদো, তাকে বাধা দিতে এগিয়ে যান গোলরক্ষক; নিখুঁত শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।
এই গোলে সর্বোচ্চ মঞ্চে দেশের এতদিনের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইউসেবিওকে (৯) ছাড়িয়ে গেলেন রোনালদো (১০)। গ্রেট ইউসেবিও অবশ্য ৯ গোল করেছিলেন কেবল ৬ ম্যাচে, রোনালদোর লাগল ২৪ ম্যাচ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড গোলদাতার মোট গোল হলো ১৪৫টি, ২৩০ ম্যাচে।
বিরতির আগে হ্যাটট্রিকও হতে পারতো রোনালদোর। কান্সেলোর বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে, স্লাইড করে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে পাঠানোর চেষ্টায় সফল হননি তিনি।
৫৮তম মিনিটে ডি-বক্সের অনেকটা দূরে ফ্রি কিক পায় পর্তুগাল। শট নেওয়ার ভঙ্গিতে এগিয়ে শট না নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রোনালদো, এবং ওই মুহূর্তে উঁচু করে বাড়ানো বলে তাকে খুঁজে নেন ফের্নান্দেস। শটও নেন রোনালদো, তবে সঠিক সময়ে এগিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক নেমাতোভ।
গোলরক্ষকের পায়ের সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যথা পান রোনালদো, তবে একটু পরই উঠে দাঁড়িয়ে খেলা চালিয়ে যান তিনি।
ওখান থেকে পাওয়া কর্নারেই চতুর্থ গোলটি আসে। ফের্নান্দেসের নিচু কর্নারে গোলমুখে কোনোমতে একটা ছোঁয়া দেন জোয়াও ফেলিক্স, এরপর বল খুশানভের গায়ে লেগে, গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে গোললাইন পেরিয়ে যায়।
গোলরক্ষকের ভুলে ৭৪তম মিনিটে আবার হ্যাটট্রিকের দারুণ সুযোগ আসে রোনালদোর সামনে, তবে তার জোরাল শটে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন নেমাতোভ।
নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে সতীর্থের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে জোরাল শটে শেষ গোলটি করেন এসি মিলান উইঙ্গার লেয়াও।
প্রথম ম্যাচে দলের বাজে পারফরম্যান্সে তীব্র সমালোচনা সইতে হয় পর্তুগাল কোচকেও। প্রতিটি গোলের পর ডাগআউটে তার উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, ছেলেদের ছন্দে ফেরা, গোল পাওয়া তার জন্য অনেক কিছু।
গ্রুপে শেষ রাউন্ডে আগামী রোববার ভোরে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। একই সময়ে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামবে উজবেকিস্তান।