এই স্পেসস্যুট পরে চাঁদে নামবেন ‘আর্টেমিস ৩’ নভোচারীরা

চাঁদে অবতরণ ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্যান্য সরবরাহকরাও স্যুটের অর্ডার পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 March 2023, 02:18 PM
Updated : 16 March 2023, 02:18 PM

আর্টেমিস ৩ মিশনের নভোচারীরা কী পরে চাঁদে পাড়ি জমাবেন, অবশেষে তা দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ও রকেট কোম্পানি এক্সিওম স্পেস।

এরইমধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এই স্পেসস্যুটের একটি প্রোটোটাইপ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠান দুটো। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই স্পেসস্যুটের নকশা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে এর মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক ধরন খাপ খাওয়াতে পারে। আগের বিভিন্ন স্যুটের চেয়ে এর ‘ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা নমনীয়তাও তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি, বিভিন্ন অনুসন্ধান কেন্দ্রিক সামগ্রীও যুক্ত থাকবে এর সঙ্গে।

বিভিন্ন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উদ্দেশ্যে এর হেলমেটের মধ্যে লাইট ও এইচডি ক্যামেরা, দুটো সুবিধাই আছে। এর লাইফ সাপোর্ট ব্যাকপ্যাকে থাকা ‘হ্যাচ’-এর সহায়তায় এই স্যুটে প্রবেশ করতে পারবেন নভোচারীরা। আর পরিধানকারীকে ভাঁজ করে বসতে ও সহজে চলাফেরা করতে সহায়তা দেয় এর বিভিন্ন ‘জয়েন্ট’। এর গ্লাভস এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা ‘তুলনামূলক কম মাধ্যাকর্ষণেও’ ব্যবহার করা যাবে। নকশাটি চাঁদের স্থায়ীভাবে ছায়ায় থাকা অঞ্চলের চরম ঠাণ্ডা, এমনকি নভোচারীর বুট পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে।

তবে, স্পেসস্যুটের এই কালো রঙের সংস্করণটিই ব্যবহৃত হচ্ছে না। আমেরিকান ড্রামা সিরিজ ‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’-এর কস্টিউম ডিজাইনারের তৈরি এই প্রচ্ছদের নীচে আসলে এর মালিকের নাম লুকানো অবস্থায় থাকার কথা। এর চূড়ান্ত স্পেসস্যুট হবে সাদা রঙের, নভোচারীকে প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে।

এই মূহুর্তে আর্টেমিস ৩ মিশন পরিকল্পিত হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের জন্য। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের পর থেকে মানুষের চাঁদে অবতরণের প্রথম ঘটনার প্রতিনিধিত্ব করবে এটি। সেইসঙ্গে, চাঁদে প্রথম নারী নভোচারীর পাশাপাশি এতে অবতরণ করা প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ নভোচারীও থাকতে পারেন এই মিশনে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে দুই ব্যক্তি চন্দ্রপৃষ্ঠে পৌঁছাবেন, তারা সেখানে এক সপ্তাহেরও কম সময় কাটাবেন, যেখানে সর্বোচ্চ চারটি ‘মুনওয়াক’ পরিচালনা করতে পারবেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে একটি ‘রোভার’ অভিযান ও বরফের নমুনা সংগ্রহের মতো বিষয়গুলোও।

আর বাকি দুই সদস্য থাকবেন ওরিয়ন ক্যাপসুলে, যা স্পেসএক্স-এর স্টারশিপ ব্যবহার করে ফিরে আসার সময় তাদেরকে ফিরিয়ে আনবে।

তবে, নাসা কেবল এই একটি স্পেসস্যুটই ব্যবহার করবে, বিষয়টি এমন নয়। চাঁদে অবতরণ ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্যান্য সরবরাহকরাও স্যুটের অর্ডার পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্পেসস্যুটের বেলায় সম্ভবত এটি একটি ‘হাই-প্রোফাইল’ উদাহরণ। তবে, এর মাধ্যমেই নাসা ইতিহাস তৈরি করবে বলে ধারণা প্রকাশ করেছে এনগ্যাজেট।