Published : 15 Dec 2022, 11:47 AM
২০২৪ সাল নাগাদ ‘সাইডলোডিং’ ও তৃতীয় পক্ষের অ্যাপস্টোর সমর্থনের পরিকল্পনা করছে মার্কিন ইলেকট্রনিক জায়ান্ট অ্যাপল।
মার্কিন প্রকাশনা ব্লুমবার্গের দাবি, অ্যাপলের কর্মীরা এখন আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে কয়েকটি পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। এর ফলে, আইফোনে চালানো যাবে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরের বাইরের অ্যাপও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’-এর মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন নীতিমালার কারণে ২০২৪ সাল নাগাদ এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে অ্যাপল। এমনকি আগামী বছরের শেষ নাগাদ, ‘আইওএস ১৭’-এর উন্মোচনেও এইসব পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরেই অ্যাপলের অবস্থান ছিল, নিজস্ব অ্যাপ স্টোরের বাইরের বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ স্টোর ও ‘সাইডলোডিং’ অ্যাপ, আইফোন মালিকের নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির ঝুঁকি বাড়ায়।
যাই হোক, সম্ভাব্য ক্ষতিকারক অ্যাপগুলো থেকে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি রক্ষার বিভিন্ন উপায় খুঁজে দেখছে অ্যাপল। উদাহরণ হিসেবে, বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধাসহ অ্যাপ স্টোরের বাইরের বিভিন্ন অ্যাপ অ্যাপলের মাধ্যমে ‘ভেরিফাই’ করার একটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছে কোম্পানিটি।
এই পদ্ধতি দেখতে অনেকটা ম্যাকের মতো হতে পারে, যেখানে ব্যবহারকারীর পছন্দের যে কোনো অ্যাপই ইনস্টল করা যায়। তবে, অ্যাপল যাচাই করেনি এমন কিছু ইনস্টলের বেলায় কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয় ব্যবহারকারীকে।
ব্লুমবার্গের সূত্র বলছে, অ্যাপলের বেশ কয়েকটি দল এই পদক্ষেপের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও, এটি বাস্তবায়নের ধারণা কোম্পানির ভেতর জনপ্রিয় নয়।
কোম্পানির যুক্তি দেওয়া প্রাইভেসি ও নিরাপত্তাজনিত কারণের সঙ্গেও একমত পোষণ করেছেন কয়েকজন কর্মী। কেউ কেউ আবার একে অ্যাপলের সফটওয়্যারে ‘অন্যান্য ফিচার সংযোজন’ বা ‘সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাধা’ হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট আর্স টেকনিকা।
ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট-এর বিপরীতে, এপিআই ও কোম্পানির জন্য বিশেষভাবে তৃতীয় পক্ষীয় অ্যাপ নির্মাতাদের মাধ্যমে তৈরি বেশ কয়েকটি ফিচার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি বাড়তি কয়েকটি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল।
উদাহরণ হিসেবে, ‘নিয়ার-ফিল্ড পেমেন্ট (এনএফসি)’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপ। আর ক্যামেরার ফিচারগুলোতে তুলনামূলক বেশি প্রবেশাধিকার পাবে বিভিন্ন থার্ড-পার্টি ক্যামেরা অ্যাপ।
তবে, আইনটিতে এখনও এমন অনেক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ আছে, যেগুলো নিয়ে এখনও বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করতে পারেনি অ্যাপল।
‘আইমেসেজ’-এর মতো বিভিন্ন মেসেজিং ব্যবস্থার আন্তঃকার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিয়ন্ত্রকরা।
ব্লুমবার্গের সূত্র বলছে, অ্যাপল প্রকৌশলীরা আশঙ্কা করছেন, এইসব পরিবর্তনের কারণে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’-এর পাশাপাশি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন প্রাইভেসি ও সুরক্ষা ফিচার বিপদে পড়তে পারে, যেগুলোর কারণেই অ্যাপলের পণ্য ও ওএসকে অন্যান্য বিকল্পের চেয়ে আলাদা করে দেখে নির্মাতা ও ব্যবহারকারীরা।
আইনটির আরেক অংশে বিভিন্ন অ্যাপ নির্মাতার জন্য অ্যাপলকে থার্ড-পার্টি অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা চালুর কথাও উল্লেখ আছে।
জাপান সরকারের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির অংশ হিসাবে বিভিন্ন ‘রিডার’ ও ক্লাউডভিত্তিক অ্যাপে ব্যবহারকারীদের ওয়েবভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থায় কিছু ক্ষুদ্র ছাড়ের বাইরে, কীভাবে এই আইনটির শর্ত পূরণ করা যায়, তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অ্যাপল।
আর্স টেকনিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনলে তা অ্যাপলের শেষের সারি অর্থাৎ থার্ড-পার্টি অ্যাপ স্টোর ও সাইডলোডিংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্লুববার্গের প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত মিলছে, কেবল ইউরোপেই কার্যকর হতে পারে এইসব পরিবর্তন। আর উত্তর আমেরিকা বা অন্যান্য দেশের ব্যবহারকারীর ওপর এই আইনের কোনো প্রভাব পড়বে না।
এটি অ্যাপলের জন্যেও ‘বড় ধাক্কা’ হবে। কারণ, বিভিন্ন অঞ্চলের অপারেটিং সিস্টেম ও ডিভাইসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একই ধরনের ফিচার ও অভিজ্ঞতা দিয়ে আসছিল কোম্পানিটি। তবে, অ্যাপলের পরিকল্পনা নিয়ে এখনও অনেক সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও নির্দিষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আর্স টেকনিকা।