নতুন যুগের সূচনা করতে ফিরছে সুপারসনিক ফ্লাইট?

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সুপারসনিক জেট ব্যবহার করছে। এ ছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘এক্স-৫৯’ নামের একটি বিমান উন্মোচন করেছে নাসা, যা মূলত এক-সিটের সুপারসনিক গবেষণা বিমান।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 March 2024, 10:12 AM
Updated : 25 March 2024, 10:12 AM

নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইটে লন্ডন যেতে গড়পরতা আট ঘণ্টা লাগে। বলা হচ্ছে, এর অর্ধেক সময়েই পেরোনো যাবে এই পথ। কিন্তু কীভাবে?

বাণিজ্যিক সুপারসনিক ফ্লাইট খাতে নতুন করে আগ্রহ দেখানোর পাশাপাশি বিনিয়োগও করেছে বেশ কিছু কোম্পানি। তাদের লক্ষ্য, কেবল অর্ধেক সময়ে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনে পৌঁছানোর লক্ষমাত্রা অর্জন।

শব্দের গতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারলে তাকে বলে সুপারসনিক। এর মানে হচ্ছে সুপারসনিক ফ্লাইটের গতি শব্দের গতির চেয়েও বেশি।

তবে, এ ধরনের ফ্লাইটের আকাশচুম্বী টিকিটমূল্য ও ২০০০ সালের কনকর্ড দুর্ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হওয়ার পর ২০০৩ সালে সুপারসনিক এয়ারলাইনারের নাম চলে যায় ইতিহাসের পাতায়।

এর পর থেকেই জনসাধারণের নাগালের বাইরে সুপারসনিক ফ্লাইট।

বিশ্বের প্রথম সুপারসনিক যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক এয়ারলাইনার ছিল ‘কনকর্ড’, যা তৈরি করেছিল যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স মিলে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী এরইমধ্যে সুপারসনিক জেট ব্যবহার করছে। আর, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘এক্স-৫৯’ নামের একটি প্লেন উন্মোচন করেছে নাসা, যা মূলত এক-সিটের সুপারসনিক গবেষণা যান।

নাসার এই সুপারসনিক গবেষণা প্লেন উন্মোচনের পর থেকে বেশ কয়েকটি নির্মাতা কোম্পানি বিশেষ করে ‘বুম সুপারসনিক’, ‘স্পাইক’ ও ‘এক্সোসনিক’ এ ধরনের উচ্চ-গতির আকাশযাত্রাকে জনসাধারণের হাতের নাগালে আনতে রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

আর এ সব কোম্পানিই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সুপারসনিক ফ্লাইটে ভ্রমণের নতুন অভিজ্ঞতা হবে নিরিবিলি, আগের চেয়ে টেকসই ও যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী।

তবে এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ফ্লাইট প্রশিক্ষক ও মার্কিন বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের সাবেক কর্মী ব্রুস ম্যামন্ট। বর্তমানে তিনি ‘নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি সিয়াটল’ ক্যাম্পাসে ফ্লাইট ও বিমান চালনার কোর্স শেখান।

“এটা কি নিশ্চিতভাবে সম্ভব? এটা কি বাস্তব জীবনে হতে পারে? এটা কি আদৌ বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর? আমি এসব বিষয়ে অত্যন্ত সন্দিহান,” বলেন ম্যামন্ট।

ম্যামন্টের মতে, প্রতিটি এয়ারলাইন কোম্পানিকেই সুপারসনিক ফ্লাইটের ‘অ্যারোডাইনামিক বা বায়ুগতিবিদ্যা’ ও ব্যবহারিক খরচের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়। তবে এক্ষেত্রে মূল সমস্যা হল– কোনও বস্তুর গতিবিধির বিপরীতে চালনার বিষয়টি।

বিমানের বিভিন্ন প্রপালশন সিস্টেম বিমানকে এমন গতিতে নিয়ে যায়, যেখানে এর ডানার ওপর পর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহ থাকে। এতে করে বিমানও সহজে মাটি থেকে ওপরে উঠতে পারে।

সাধারণত কোনও বিমান উড্ডয়নের পর সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানোর আগে প্রাথমিকভাবে তা স্থির বা ধীর গতিতে চলতে থাকে।

একবার সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানোর পর ফ্লাইটের গতি বাড়ানো বা কমানো যায় না।

“একবার ট্রান্সনিক ও সুপারসনিক গতিতে পৌঁছে গেলে ইঞ্জিন থেকে বাতাস সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে প্লেনের ওপর বাতাসের বাধা অনেক বেড়ে যায়। এর মানে, জ্বালানীর প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যাবে,” ম্যামন্ট বলেছেন।

“আপনি যত বেশি জ্বালানি বহন করবেন, আপনাকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া পণ্য বহনের সংখ্যাও কমে আসবে। এ ছাড়া, আপনি কত বড় যান বানাতে পারেন, তারও একটা ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা আছে।”

প্লেনের আকার বাড়ানোর মানে দাঁড়ায়, আরও বেশি যাত্রীর জন্য জায়গা তৈরি, যা বিমানবন্দর অবকাঠামোতেও চাপ ফেলে। ‘এয়ারবাস ৩৮০’র মতো বড় আকারের এয়ারলাইনার এরইমধ্যে এমনটা করেছে, বলেছেন ম্যামন্ট।

আর, এতগুলো চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে সুপারসনিক ফ্লাইটে যাত্রীদের ভ্রমণ খরচ কমিয়ে আনা যায় কি না, তা নিশ্চিত নন ম্যামন্ট।

“সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, দ্রুততার সঙ্গে দূরে যাওয়া সত্যিই খরচসাপেক্ষ, যেখানে দ্রুত যেতে পারার সক্ষমতাও একটি পার্থক্য তৈরি করবে,” বলেছেন তিনি।

এদিকে, সুপারসনিক ফ্লাইট পরিবেশগতভাবে কতটা টেকসই হবে, সেটিও বড় এক প্রশ্ন।

এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্টেশন অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নির্গমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বিভিন্ন এয়ারলাইন।