Published : 20 Jan 2024, 05:38 PM
প্রথমবারের মতো চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখল জাপানের কোনো মহাকাশযান। ‘স্লিম’ নামের এই যানটি সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করলেও বেশিক্ষণ থাকছে না সে বিজয়োল্লাস - সম্ভবত শীগগীরই জীবনাবসান হতে যাচ্ছে এর।
যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে স্লিমে-মহাকাশযানটির সোলার প্যানেল কোষগুলোতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এটা ঠিকমতো কাজ করছে না।
স্মার্ট ল্যান্ডার ফর ইনভেস্টিগেটিং মুন (স্লিম) নামে পরিচিত মহাকাশযানটি বানিয়েছে জাপানের মহাকাশ গবেষণা বা জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা) ও দেশটির খেলনা নির্মাতা কোম্পানি তাকারা তোমি।
চাঁদে অনুসন্ধানের জন্য গত ছয় সেপ্টেম্বর মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় আধুনিক মহাকাশযান ওরফে মুন স্নাইপার ‘স্লিপ’কে। আর ‘স্লিপ’ বড়দিনে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছায়।
পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদকে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রদক্ষিণ করার পর এটি অবশেষে শুক্রবার চাঁদের পৃষ্ঠ স্পর্শ করে। ‘স্লিম’ সফলভাবে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করার পর ‘জাক্সা’র সঙ্গে যোগাযোগও স্থাপন করে।
পাশাপাশি এ মুন স্নাইপারটির প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘স্লিপ’এর তাপমাত্রা এবং চাপের মান অবতরণের সময় যথেষ্ট ভাল ছিল। আর এর অবতরণের জন্য নির্ধারিত স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যেই নামতে পেরেছিল এটি।
মুন স্নাইপার এর সৌর প্যানেলের কোষ ঠিক মতো কাজ না করতে পারায় এটা সূর্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে রীতিমতো লড়াই করছে। জাক্সার কর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন, ‘স্লিম’ এখন এর নিজস্ব ব্যাটারিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আর এভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা এই মুন স্নাইপারটি কাজ করতে পারবে।
কেন এই সৌর প্যানেলগুলো প্রত্যাশিত শক্তি উৎপন্ন করতে পারছে না বা ঠিকমতো কাজ করছে না – এর কারণ খুঁজে বের করতে জাক্সার প্রকৌশলীরা যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন৷

তবে, এটা সম্ভব যে, ‘স্লিপ’ চাঁদে অবতরণ করার সময় এর সৌর প্যানেল কোনো কারণে ঢেকে গেছে বা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এর ফলে মুন স্নাইপার সূর্য থেকে আলো নিতে পারছে না এবং এর নিজস্ব ব্যাটারির চার্জ ব্যবহার করছে।
এদিকে, মিশনটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জাক্সা এখনও আশা হারাতে রাজি নয়। সংস্থাটি বলেছে, তারা মুন স্নাইপারটির প্রোবের সরবরাহ সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারিকে সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে। পাশাপাশি সূর্যের আলো যখন যানটির ওপর ভিন্ন কোণে পড়বে তখন আবার একে চালুর চেষ্টা করা যেতে পারে।
আর সেই মুহুর্ত পযন্ত ‘স্লিম’এর নিজস্ব ব্যাটারি এর সৌর প্যানেলে পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি মুন স্নাইপারটিতে কী ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে তাও নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, মুন স্নাইপারটিকে চাঁদে সফলভাবে অবতরণ করানো হয় এবং এর সঙ্গে যোগাযোগও স্থাপন করা হয়েছিল। তাই আমার দৃষ্টিতে এতে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সাফল্য হয়েছে।” — বলেন জাক্সা সভাপতি হিরোশি ইয়ামাকাওয়া।
“আর সার্বিকভাবে এই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ফের চাঁদে মহাকাশযান পাঠানো সম্ভব হবে।”
আর জাক্সা তাদের নিদির্ষ্টি স্থানে মুন স্নাইপারটি নামাতে পেরেছে। মহাকাশযানটি চাঁদের এই নিদির্ষ্ট স্থানেই অনুসন্ধান চালাবে।
মুন স্নাইপার ‘স্লিম’ এর মধ্যে ‘লুনার এক্সকারশন যান ১’ এবং ‘লুনার এক্সকারশন যান ২’ নামের দুটি পেলোড আছে। আর এই দুইটি পেলোডই সফলভাবে ল্যান্ডার থেকে আলাদা হয়ে গেছে বলে ধারণা করছে জাক্সা। এই পেলোড দুটিকে অবতরণ স্থান পরিদর্শনের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে জাক্সা বলেছে, ‘স্লিপ’ যদি চাঁদে অনুসন্ধানের কাজটি একদিনের বেশি চালিয়ে যেতে না’ও পারে তবুও এটা চাঁদের মাটিতে সংস্থাটির প্রথম-সফট ল্যান্ডিং। আর এটা চাঁদের পৃষ্ঠে অনুসন্ধানের জন্য সবচেয়ে কঠিন অংশে অবতরণ করেছে।
পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের পরে জাপান এখন এই কৃতিত্ব অর্জনকারী পঞ্চম দেশ। এর আগে জাপানের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় শেষ হয়।
‘স্লিম’ মিশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল এই মহাকাশযানটির চাঁদে অবতরণের প্রযুক্তির নির্ভুলতা পরীক্ষা করা। পাশাপাশি আরও ছোট এবং হালকা হার্ডওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে চাঁদকে অনুসন্ধান করা সম্ভব কিনা — তা দেখা। আর এ ক্ষেত্রে ‘স্লিম’ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রেজিষ্টার।
এই মিশনের সাফল্যের মাপকাঠি পরিমাপ করতে বলা হলে জাক্সার মহাপরিচালক হিতোশি কুনিনাকার আড়ষ্ট হেসে বলেন, ‘১০০র মধ্যে সম্ভবত এটাতে ৬০ দেওয়া যায়’।