অ্যাপল পণ্যে প্রতিযোগিতাবিমুখ অনুশীলন অ্যামাজনে, মামলা

২০১৮ সালের শুরুতে অ্যামাজন মার্কেটপ্লেসে ছয়শ’র বেশি কোম্পানি অ্যাপল পণ্য বিক্রি করত। ২০১৯ সালের জুলাই নাগাদ এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় কেবল সাতে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Nov 2022, 01:17 PM
Updated : 14 Nov 2022, 01:17 PM

ইলেকট্রনিক জায়ান্ট অ্যাপল ও অ্যামাজনের বিরুদ্ধে একটি ‘ক্লাস অ্যাকশন’ মামলা করেছেন অ্যামাজন মার্কেটপ্লেস থেকে অ্যাপলের পণ্য কেনা এক গ্রাহক। তার দাবি, প্ল্যাটফর্মে তাকে ‘কম দামে পণ্য কেনা’ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

২০১৮ সালের শুরুতে অ্যামাজন মার্কেটপ্লেসে ছয়শ’র বেশি কোম্পানির কাছ থেকে অ্যাপলের পণ্য কিনতে পারতেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে ছিলেন কিছু বিক্রেতা যারা অ্যাপলের চেয়ে কম দামে তাদের ‘রিফার্বিশড’ পণ্য বিক্রি করতেন।

২০১৯ সালের জুলাই নাগাদ এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় কেবল সাতে। আর এই ‘ক্লাস-অ্যাকশন’ মামলার দাবি, টেক জায়ান্ট দুটির মধ্যকার ‘বেআইনি চুক্তির’ ফলাফল এটি।

বুধবার, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেল শহরের ফেডারেল আদালতে স্টিভেন ফ্লয়েড নামে এক ব্যক্তির পক্ষে এই মামলা দায়ের করে আইনি সংস্থা ‘হ্যাগেনস বারম্যান’।

ফ্লয়েড হলেন দেশটির পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের অধিবাসী, যিনি ২০২১ সালের শুরুতে অ্যামাজন থেকে তিনশ ২০ ডলারে একটি আইপ্যাড কিনেছিলেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ‘কম দামে পণ্য কেনা’ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা এতোদিন কেবল একটি সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ঘটতো।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট আর্স টেকনিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হ্যাগেনস বারম্যান’ নামটি অ্যাপলের পরামর্শক ও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষকদের কাছে পরিচিত মনে হতে পারে। কারণ, ২০০৫ সালে ‘আচড় লাগা’ আইপডের ন্যানো কেস, ২০১১ সালে ই-বুকের দাম নির্ধারণ এবং ২০২১ সালে অ্যাপ স্টোরের তুলনামূলক ছোট আইওএস অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে সমঝোতা প্রশ্নে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সংস্থাটি।

‘আইওএস টাচস্ক্রিন পেটেন্ট’ সম্পর্কিত এক জটিল মামলাতেও জড়িত ছিল হ্যাগেনস বারম্যান, যেখানে সংস্থাটির বিরুদ্ধে একজন ‘অতিরিক্ত অ্যাটর্নি’র সঙ্গে ‘গোপনে আঁতাতের’ অভিযোগ তোলে অ্যাপল।

মূলত, ২০১৮ সালের নভেম্বরে অ্যাপল ও অ্যামাজনের মধ্যকার চুক্তি নিয়ে শঙ্কার কথা উল্লেখ রয়েছে এই মামলায়।

সে সময় অভিযোগ উঠেছিল, নিজস্ব মার্কেটপ্লেসে অ্যাপলকে সরাসরি পণ্য বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে অ্যামাজন। পাশাপাশি, ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর থেকে অন্যান্য কোনো কোম্পানি অ্যাপলের অনুমতি ছাড়া তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে না, এমন শর্তের কথাও উল্লেখ রয়েছে এতে।

এর প্রভাবে বন্ধ হয়ে যায় অ্যাপল পণ্যের সুপরিচিত এক রিফার্বিশড পণ্য বিক্রেতা কোম্পানি, যারা বেশিরভাগ নতুন ইলেক্ট্রনিক পণ্যের বিপরীতে পুনর্ব্যবহৃত ও ‘রিফার্বিশড পণ্য’ তৈরির জন্য বেশি পরিচিত ছিল।

“প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীর ঝুঁকি একেবারে সরিয়ে ফেলা বা ব্যাপক হারে কমানোর উদ্দেশ্যে অ্যাপল ও অ্যামাজনের মধ্যে একটি বেআইনি আনুভূমিক (দুই ব্যবসায়ীর চুক্তি) চুক্তি ছিল এটি।”--উল্লেখ রয়েছে মামলার অভিযোগে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চুক্তি হলো ‘নেকেড রিস্ট্রেইন্ট’ (প্রতিযোগিতার ওপর বিধিনিষেধ) ও এটি ‘শার্মান’ আইনের পরিপন্থী।

মামলায় উল্লেখ আছে, এই কারসাজির সুযোগ নিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ মূল্যছাড়ে পণ্যের নিয়মিত সরবরাহ পেত অ্যামাজন। এই শর্তে যে তারা যেন অননুমোদিত রিসেলারদের স্টোর থেকে দূরে রাখে ও সাইটে অ্যাপল পণ্যের সবচেয়ে বড় সরবরাহক হয়ে ওঠে।

এদিকে, অ্যাপল সেইসব ‘সক্রিয় মূল্য প্রতিযোগীদের’ সরিয়ে ফেলে, যারা কোম্পানির পণ্যের খুচরা মূল্য কমিয়ে ফেলছিল।

মামলা অনুযায়ী, চুক্তিটির আগে অ্যামাজনে ২০ শতাংশ বা এর চেয়েও সাশ্রয়ী মূল্যে আইফোন ও আইপ্যাড বিক্রি করতে পারতেন থার্ড পার্টি সরবরাহকরা। বিষয়টি এক ব্লগ পোস্টে উল্লেখ করেছেন হেগেনস বারম্যানের এক আইনজীবী।

এর আগে এই একই চুক্তির অধীনে সাইটটির ইতালীয় স্টোরে ‘বিটস’ হেডফোন বিক্রি করা কোম্পানির সংখ্যা সীমিত করায়, ইতালির প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষের জরিমানার মুখে পড়েছিল অ্যামাজন।

প্রতিবেদনটি লেখার আগ পর্যন্ত, অ্যাপল বা অ্যামাজন কেউই মামলাটি সম্পর্কে কিছু বলেনি। এ ছাড়া, সংস্থাটি এমন গ্রাহক খুঁজছে, যারা অ্যামাজনের স্ট্যান্ডার্ড ‘বাই বক্স’-এর মাধ্যমে আইফোন বা আইপ্যাড কিনেছেন।

এর ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু লেখা নেই মামলায়। তবে, এর একটি শুনানির দাবির পাশাপাশি অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের অধীনে বেশ কয়েক ধরনের জরিমানা চায় সংস্থাটি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক