মাইক্রোচিপের উৎপাদন বাড়াতে ১৬ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

‘চিপস ফর আমেরিকা’ প্রকল্প থেকে দ্বিতীয় অনুদানের ঘটনা এটি। ২০২২ সালের অগাস্টে সেমিকন্ডাক্টর খাতের উৎপাদন ও গবেষণা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Jan 2024, 08:06 AM
Updated : 5 Jan 2024, 08:06 AM

সেমিকন্ডাক্টর ও ‘মাইক্রোকন্ট্রোলার ইউনিট (এমসিইউ)’র উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন চিপ নির্মাতা ‘মাইক্রোচিপ টেকনোলজি’কে ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এ অনুদানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র অংশের দুটি কারখানায় সেমিকন্ডাক্টর ও এমসিইউ’র উৎপাদন তিনগুণ করার সুযোগ মিলবে। আর গাড়ি, ওয়াশিং মেশিন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট রাউটার, অ্যারোপ্লেন ও প্রতিরক্ষা খাতে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এ অনুদান ‘সেমিকন্ডাক্টর খাতের সরবরাহ চেইন বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টার বড় এক ধাপ।’ --এক বিবৃতিতে বলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো।

ঘোষণাটি এমন এক সময় এল, যখন চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ থেকে চিপ উৎপাদন ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলার লক্ষ্য নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

অনুদানটি এখনও চূড়ান্ত না হলেও পাঁচ হাজার ২৭০ কোটি ডলারের ‘চিপস ফর আমেরিকা’ প্রকল্প থেকে দ্বিতীয় অনুদানের ঘটনা এটি। ২০২২ সালের অগাস্টে সেমিকন্ডাক্টর খাতের উৎপাদন ও গবেষণা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস।

এর আগে ডিসেম্বরে ঘোষিত প্রথম কিস্তিতে সাড়ে তিন কোটি ডলার অনুদান পেয়েছিল অ্যারোস্পেস কোম্পানি ‘বিএই সিস্টেমস’, যার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ফাইটার প্লেনের চিপ তৈরি করা।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মাইক্রোচিপের জন্য ধার্য করা অনুদানের নয় কোটি ডলার যাবে কোম্পানির কলোরাডোর কারখানায়। আর বাকি সাত কোটি ২০ লাখ ডলার যাবে অরিগন অংশের কারখানায়। এর ফলে, বিভিন্ন বিদেশী উৎপাদক কোম্পানির ওপর নির্ভরতাও কমে আসবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের অটোমেটিভ, বাণিজ্যিক, শিল্প, প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস খাতের জন্য চিপ উৎপাদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউজের ‘ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিল’-এর পরিচালক লায়েল ব্রেইনার্ড বলছেন, বৈশ্বিক যেসব সরবরাহ চেইনের ওপর নির্ভরতার কারণে মহামারীর সময় অটো থেকে ওয়াশিং মেশিন সকল পণ্যের ক্ষেত্রেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল, অনুদানটি সে সব ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

অনুদানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করার দিকে সরাসরি বিনিয়োগ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মাইক্রোচিপের সিইও গানেশ মুর্থি।

এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে অরিগনের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণে নেওয়ার লক্ষ্যে ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল মাইক্রোচিপ।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, কীভাবে বিভিন্ন মার্কিন কোম্পানি তথাকথিত ‘লিগাসি চিপ’-এর প্রচলিত সংস্করণের সেমিকন্ডাক্টর কাঁচামাল সংগ্রহ করছে, তা নিয়ে জরিপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এ জরিপের লক্ষ্য, চীনের মতো দেশগুলো থেকে ‘সম্ভাব্য জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমিয়ে আনা’ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পে চীনে তৈরি লিগাসি চিপের ব্যবহার ও সোর্সিংয়ের দিকে মনযোগ দেওয়া।

গত মাসে রয়টার্সকে রাইমন্ডো বলেন, ২০২৪ সালে এ ধরনের ডজনখানেক অনুদান দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। এর মধ্যে কয়েকটি অনুদান গিয়ে ঠেকতে পারে শত কোটি ডলারেও, যা যুক্তরাষ্ট্রের চিপ উৎপাদন খাতকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে সাহায্য করবে।