গত বছর টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণের সময় ঘটা এক বিস্ফোরণ ধ্বংস করে দিয়েছিল প্লোভার শোরবার্ড পাখির বাসা ও ডিম।
Published : 03 Apr 2025, 05:39 PM
প্রত্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রবালপ্রাচীর থেকে হাইপারসনিক রকেটে পণ্য ডেলিভারি পরীক্ষার জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ও মার্কিন বিমান বাহিনী একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। শঙ্কা আছে, এটি অনেক সামুদ্রিক পাখির ক্ষতি করতে পারে।
প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রের পাখিদের নিয়ে এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন জীববিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা। তারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব পাখিদের রক্ষার জন্য কাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
স্পেসএক্সের কার্যক্রমে সুরক্ষিত পাখিদের ওপর প্রভাব ফেলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে, গত বছর টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণের সময় ঘটা এক বিস্ফোরণ ধ্বংস করে দিয়েছিল প্লোভার শোরবার্ড পাখির বাসা ও ডিম, যা আইনি জটিলতায় ফেলেছিল মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের কোম্পানিকে।
ওই সময় মাস্ক রসিকতা করে বলেছিলেন, এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক সপ্তাহের জন্য অমলেট খাবেন না তিনি।
মার্চ মাসে মার্কিন বিমান বাহিনী ঘোষণা করেছিল, স্পেসএক্সের সঙ্গে ‘রকেট কার্গো ভ্যানগার্ড’ প্রকল্পটি পরীক্ষার স্থান হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের একটি মার্কিন অঞ্চল ‘জনস্টন অ্যাটল’কে।
রয়টার্স লিখেছে, এ প্রকল্পে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটের পরীক্ষামূলক অবতরণের বিষয়টি রয়েছে। এর মাধ্যমে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর যে কোনও স্থানে একশ টন পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। দূরবর্তী স্থানে দ্রুত সামরিক সরবরাহ পাঠানোর কাজটি সহজ করে তোলার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ হবে এটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজ’ ও ‘প্যাসিফিক রিমোট আইল্যান্ডস মেরিন ন্যাশনাল মনুমেন্ট’-এর অংশ হিসেবে মনোনীত ২.৬ বর্গ কিলোমিটার প্রবালপ্রাচীর নিয়ে কাজ করেছেন এমন জীববিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রকল্পটি দ্বীপের ১৪ প্রজাতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পাখির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
সারা বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এই অ্যাটল অঞ্চলটি ব্যবহার করে প্রায় দশ লাখ সামুদ্রিক পাখি। ১৯৮০-এর দশকে এসব পাখির সংখ্যা ছিল কেবল কয়েক হাজার। এসব পাখির প্রজাতির মধ্যে রয়েছে লাল লেজওয়ালা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পাখি, লাল পাওয়ালা বুবি ও গ্রেট ফ্রিগেট পাখি, যাদের ডানা আট ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত।
“এই মুহূর্তে দ্বীপে যে কোনো ধরনের প্লেন চলাচল এসব পাখিদের ওপর প্রভাব ফেলবে,” বলেছেন হাওয়াইভিত্তিক জীববিজ্ঞানী স্টিভেন মিনামিশিন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মৎস্য ও বন্যপ্রাণী পরিষেবার অংশ জাতীয় বন্যপ্রাণী আশ্রয় ব্যবস্থার জন্য কাজ করেন।
জনস্টনে প্রায় এক বছর কাটানো ‘ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস’-এর বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী রায়ান র্যাশ বলেছেন, “এর ফলে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি তৈরি করবে রকেটের শব্দ, যা পাখিদের বাসা থেকে তাড়িয়ে দেবে ও এদের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলবে। এরা এতটাই উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চয়তায় পড়বে যে, এদের আর বাসায় ফিরে আসা হবে না। ফলে এসব পাখিদের প্রজন্ম ক্ষতির মুখে পড়বে।”
এ প্রকল্পের আওতায় চার বছরের মধ্যে দুটি ল্যান্ডিং প্যাড নির্মাণ ও ১০টি রকেট পুনঃঅবতরণ করা হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, “এসব প্রভাব খতিয়ে দেখতে ও সম্ভাব্য পরিবেশগত নানা প্রভাব এড়াতে ও কমিয়ে বা প্রশমিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য” যুক্তরাষ্ট্রের মৎস্য ও বন্যপ্রাণী পরিষেবার পাশাপাশি জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের সামুদ্রিক মৎস্য পরিষেবার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন তারা।
এদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্স।