গবেষণায় একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। তা হচ্ছে, সম্পদের প্রতিটি স্তরে আমেরিকানদের মৃত্যুর হার ইউরোপীয়দের চেয়ে বেশি।
Published : 05 Apr 2025, 01:09 PM
আমেরিকানরা যত ধনীই হোন না কেন, একই রকম সম্পদের অধিকারী ইউরোপের মানুষদের চেয়ে তাদের আগে মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন অংশজুড়ে থাকা মানুষের সম্পদ ও বেঁচে থাকার হারের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে এ নতুন গবেষণা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘ব্রাউন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ পাবলিক হেলথ’-এর বিজ্ঞানীরা।
গবেষণায় ২০১০ সাল থেকে শুরু করে ৫০ থেকে ৮৫ বছর বয়সী ৭৩ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য পর্যালোচনা করেছেন গবেষকরা।
সম্পদ কীভাবে মানুষের আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে তা দেখার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে আমেরিকানদের তুলনা করেছেন তারা।
ধনী ব্যক্তিরা বেশি দিন বাঁচেন– এ ধারণায় অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে গবেষণায় একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। তা হচ্ছে, সম্পদের প্রতিটি স্তরে আমেরিকানদের মৃত্যুর হার ইউরোপীয়দের চেয়ে বেশি। এমনকি সবচেয়ে ধনী আমেরিকানরাও ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের চেয়ে স্বল্পায়ুর জীবনযাপন করেন।
কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আমেরিকানদের আয়ু পশ্চিম ইউরোপের দরিদ্র দেশগুলোর গড় আয়ুর সমান।
এ গবেষণার লেখক ও ‘ব্রাউন ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক আইরিন প্যাপানিকোলাস বলেছেন, এই ব্যবধান থেকে ইঙ্গিত মেলে, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য, চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত ঝুঁকির মতো গুরুতর বিভিন্ন সমস্যা কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেছেন, আমেরিকায় ধনী মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করলেও তা আপনাকে দেশটির স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ থেকে পুরোপুরিভাবে রক্ষা করবে না।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, শীর্ষ ধনী শ্রেণীর মানুষদের মৃত্যুহার স্বল্প আয়ের শ্রেণীগুলোর মানুষের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম। দক্ষিণ ইউরোপীয়দের মধ্যে মৃত্যুর হার আমেরিকানদের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম। এমনকি পূর্ব ইউরোপের মানুষের মধ্যেও মৃত্যুর হার আমেরিকানদের চেয়ে ১৩ থেকে ২০ শতাংশ কম।
গবেষণার আরেক লেখক সারা মাচাদো বলেছেন, নিজের দেশে আপনার সম্পদ ও অন্যান্য দেশের সম্পদের সঙ্গে তুলনা করলে তা আপনি কতদিন বাঁচবেন তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, স্বাস্থ্যের উন্নতির বিষয়টি কেবল নিম্নআয়ের মানুষদের একার বিষয় নয়, বরং এটি এমন বিষয়, যা ধনী আমেরিকান’সহ সবার ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে।
এ গবেষণায় আমেরিকানদের কম আয়ুর পেছনে থাকা কয়েকটি সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন গবেষকরা। যেমন– দুর্বল সামাজিক সুরক্ষা ও কম জনসমর্থনের মতো বিষয় অনেক বেশি মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এ ছাড়াও রয়েছে আমেরিকানদের জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক কারণ। যেমন– ধূমপান ও গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাস উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রে বেশি দেখা যায়, যা তাদের দুর্বল স্বাস্থ্যে অবদান রাখছে।
মার্কিন নীতিনির্ধারকদের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয়ের বাইরে নজর দেওয়ার এবং সম্পদ ও জীবনকালের মধ্যে ক্রমাগত ব্যবধান কমিয়ে আনতে বড় পরিসরে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে এ গবেষণায়।
গবেষকরা বলছেন, অন্যান্য দেশ একইরকম বা কম খরচে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে, যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র শিখতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ।