নাসাকে চাঁদের জন্য নতুন টাইম জোন বানাতে বলেছে হোয়াইট হাউজ

আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও এতে বড় ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষরদাতাদের ক্ষেত্রে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 April 2024, 10:50 AM
Updated : 4 April 2024, 10:50 AM

অঞ্চলভেদে পৃথিবীর মতো চাঁদেও থাকতে হবে টাইম জোন এমন দাবি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর- হোয়াইট হাউজ। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সাল নাগাদ চাঁদের জন্য নতুন টাইম জোন তৈরির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ নতুন সময়কে ডাকা হচ্ছে ‘কোঅর্ডিনেটেড লুনার টাইম (এলটিসি)’ নামে, যা ভবিষ্যতে চাঁদের বিভিন্ন মিশন পরিচালনায় সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। আর এ পরিকল্পনা একুশ শতকের এমন এক সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর মধ্যে চাঁদ নিয়ে রীতিমতো ইঁদুরদৌড়  চলছে।

নীতিমালার মেমোতে নাসাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন মার্কিন বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রীয় ও পরিবহন বিভাগের সঙ্গে কাজ করে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ এলটিসি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও এতে বড় ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষরদাতাদের ক্ষেত্রে। মহাকাশে অনুসন্ধান ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ আনার লক্ষ্যে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ নীতিমালায় এখন পর্যন্ত স্বাক্ষর করেছে ৩৭টি দেশ, যে সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে, চীন ও রাশিয়া এ দলের অংশ নয়।

“যেহেতু নাসা, বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি ও গোটা বিশ্বের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো চাঁদ, মঙ্গল ও এর চেয়েও দূরে মিশন পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে, তাই নিরাপত্তা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আমাদের মহাকাশীয় অথবা ‘সেলেস্ট্রিয়াল’ সময়ের মানদণ্ড বানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ” হোয়াইট হাউজের প্রকাশিত প্রেস বিবৃতিতে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতিমালা দপ্তর ‘ওএসটিপি’র জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক স্টিভ ওয়েলবি।

“মহাকাশে মিশন পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়ের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা মহাকাশের সফল পরিস্থিতিগত সচেতনতার সক্ষমতা, ন্যাভিগেশন ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এর সবই মার্কিন সরকার ও তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।”

আইনস্টাইনের ‘থিওরি অফ রিলেটিভিটি’ বা আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে, গতি ও মাধ্যাকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে সময় পরিবর্তিত হয়। চাঁদে দূর্বল মাধ্যাকর্ষণ ও পৃথিবীর সঙ্গে এর গতিবিধির পার্থক্য বিবেচনায় নিলে, সেখানে সময় কিছুটা দ্রুত অতিবাহিত হয়।

তাই একটি পৃথিবী-ভিত্তিক ঘড়ির হিসাবে, চাঁদের পৃষ্ঠে গড় দিন পৃথিবীর তুলনায় ৫৮ দশমিক সাত মাইক্রোসেকেন্ড বেশি হবে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ চাঁদে গবেষণা, অনুসন্ধান ও পরবর্তীতে স্থায়ী বসতি নির্মাণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মিশন পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে, তাই একটি একক মানদণ্ড ব্যবহার তাদের প্রযুক্তি ও বিভিন্ন মিশনে নির্ভুল সময় দেখাতে সাহায্য করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

“এই একই ঘড়ি পৃথিবীতে চাঁদের তুলনায় ভিন্ন সময় দেখাবে,” রয়টার্সকে বলেন নাসার ‘স্পেস কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ন্যাভিগেশন’ বিভাগের প্রধান কেভিন কগিন্স।

“এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে ওয়াশিংটনে অবস্থিত মার্কিন ন্যাভাল অবজারভেটরি’র পারমাণবিক ঘড়ি। এগুলো দেশের হৃদস্পন্দন হিসেবে কাজ করে, যেখানে সবকিছুই সামঞ্জস্য করা। তাই চাঁদেরও এমন একটি হৃদস্পন্দন চাইবেন আপনি।”