Published : 27 Feb 2023, 06:27 PM
ওয়েব জায়ান্ট গুগলের বিভিন্ন অফিস এক সময় জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ‘অদ্ভুত ও জাদুকরী’ জায়গা হিসেবে। গেটা বিশ্বেই তরুণ প্রফেশনালদের কাছে গুগল ছিল প্রথম পছন্দ। সেই সুদিন কি মিলিয়ে যাচ্ছে হাওয়ায়?
গুগলের ওই ইমেজের পেছনে কারণ ছিল কোম্পানির বিশাল খেলার মাঠের স্লাইড, কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা মাসাজ সেবা, বুফেতে বিনামূল্যের খাবার ও লন্ড্রি সেবা। তবে, খরচ বাঁচানোর যুগে প্রবেশ করা গুগলের অনেক কর্মী এখন নিজের জন্য একটি ডেস্কও পাচ্ছেন না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি’র প্রতিবেদক জেনিফার ইলিয়াসের কাছে আসা গুগলের ‘ক্লাউড’ বিভাগের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যাচ্ছে- “এখন থেকে বেশিরভাগ ‘গুগলার’ (গুগল কর্মী) অন্য কোনো গুগলারের সঙ্গে ডেস্ক শেয়ার করবেন।”
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট আর্স টেকনিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ সম্ভবত কোম্পানির খরচ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ, যা গুগলকে নিজেদের ক্লাউড সেবায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। এর ফলে, কিছু বিভাগ খালিও হতে পারে।
সিএনবিসি বলছে, গুগল ক্লাউডের সবচেয়ে বড় মার্কিন অফিসগুলোর বেলায় নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে আছে, কার্কল্যান্ড, ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক সিটি, স্যান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানিভেল শহরের অফিসগুলো।
গুগল কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসে থাকা ও ডেস্ক স্পেসের জন্য লড়াই করার মতো হাস্যকর দৃশ্যের বদলে, কর্মীদের জন্য ডেস্ক ব্যবহার দৈনিক ভিত্তিতে পরিবর্তিত হবে বলে অনুমান প্রকাশ করেছে আর্স টেকনিকা।
কোভিড মহামারী ও বাড়ি থেকে কাজের প্রবণতা শুরুর পর, এখন গুগল চায় কোম্পানির কর্মীরা যেন ‘হাইব্রিড ওয়ার্ক’ নীতিতে সপ্তাহে দু’বার অফিসে যান। এর ফলে, তাদেরকে কোনো সহকর্মীর সঙ্গে ডেস্ক ভাগাভাগি করতে হবে। আর তারা কীভাবে ভাগাভাগি করবেন, সেটিও তাদেরই নির্ধারণ করে নিতে হবে।
গুগলের নথি বলছে, কোনো কর্মী এই সময় সূচী মেনে না চললে তাদের ডেস্ক ছাড়াই কাজ করতে হতে পারে। ওই ক্ষেত্রে, তাকে কোনো ‘ওভারফ্লো ড্রপ-ইন স্পেসে’ কাজ করতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানির বিভিন্ন দলের নেতৃত্ব দেওয়া সদস্যরা ‘শেয়ারিং ডেস্কের আশপাশে নিজস্ব দলের জন্য নিয়ম নির্ধারণের পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করবে, গুগলাররা বিভিন্ন কর্মী জুটি কীভাবে সাজাবে বা সাজাতে পারবে না, নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ কীভাবে সঞ্চয় করবে ও অফিস কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা যেন কথা বলেন। এ ছাড়া, অফিসের কনফারেন্স রুম ব্যবহারেও সীমাবদ্ধতা বাড়িয়েছে গুগল।
ডেস্ক শেয়ারিং ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কর্মীদের গুরত্বপূর্ণ ডেস্ক সামগ্রীর বেলায় প্রযোজ্য হবে, ওই বিষয়টি পরিষ্কার নয়। উদাহরণ হিসেবে, ডেস্কে কেবল একটি কম্পিউটার থাকলে তা ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সিএনবিসি’র প্রতিবেদনের এক অদ্ভুত লাইনে উঠে এসেছে, গুগলের এফএকিউ পেইজ বলছে, কম্পিউটার ওয়ার্কস্টেশনের কর্মীরা আর ডেস্কে সরাসরি ওয়ার্কস্টেশন পাবেন না। এর বদলে তাদের একটি ডেটাবেইজে ডেস্কের অবস্থান খুঁজতে হবে বা এর সমাধানের জন্য টিকিট কাটতে হবে।
আর্স টেকনিকা বলছে, গুগল নিজেদের ডেডিকেটেড ওয়ার্কস্টেশন ব্যবস্থা থেকে সরে কর্মীদের ‘ক্লাউডটপ’ নামে পরিচিত এক অভ্যন্তরীন ভার্চুয়াল ডেস্কটপ টুল ব্যবহার করাতে চায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে. গুগলে অভ্যন্তরীণভাবে, কর্মীরা ‘কর্পস্পিক’-এ ঘোষণাটি দেওয়ায় কোম্পানির সমালোচনা করেছেন।
গুগল এই ডেস্ক শেয়ারিংয়ের পরিকল্পনাকে ‘ক্লাউড অফিস এভোলিউশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, এটি ‘নমনীয়তার সঙ্গে মহামারী পূর্ববর্তী ব্যবস্থাকে’ সমন্বিত করবে ও শেষ পর্যন্ত নিজস্ব জায়গার তুলনামূলক দক্ষ ব্যবহারের দিকে নিয়ে যাবে।
দুইশ থেকে তিনশ কর্মীর এইসব দল সাজানো হয়েছে ‘নেইবরহুড’ ভিত্তিতে, যেখানে প্রতিটি নেইবরহুডের একজন ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট বা পরিচালককে’ এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, অফিসের বিভিন্ন সামগ্রী সকলে যেন ন্যায্য উপায়ে শেয়ার করেন।
এই মাসের শুরুতে মার্কিন সংবাদ সাইট ‘এসএফগেইট’কে গুগলের মুখপাত্র বলেন, কোম্পানিটি বেশ কিছু অব্যবহৃত জায়গার ইজারা শেষ করবে। আর ভবিষ্যতে অব্যবহৃত জায়গাগুলো সমন্বয়ে কাজ করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যপক হারে খরচ কমিয়েছে গুগল। গত মাসে, কোম্পানিটি প্রায় ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে —যা কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই কার্যক্রম।
গত সাত মাস বা তার বেশি সময়ে গুগলের স্টেডিয়া, পিক্সেল ল্যাপটপ, প্রজেক্ট লুন ও সবচেয়ে সাম্প্রতিক ‘এভরিডে রোবটস’ নামে পরিচিত রোবটিক বিভাগ বন্ধ করেছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি, ‘এরিয়া ১২০’ বিভাগ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি, ‘ওয়েজ’ নামের অ্যাপটি সমন্বিত হয়েছে গুগল ম্যাপসের সঙ্গে।
আরেক দফার ছাঁটাই কার্যক্রমে অ্যালফাবেটের স্বাস্থ্যবিষয়ক কোম্পানি ‘ভেরিলি’র ১৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি রোবটিক কোম্পানি ‘ইনট্রিনসিকের’ ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা উঠে এসেছে আর্স টেকনিকার প্রতিবেদনে।