এ উদ্যোগটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ফোর্স’ গঠনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেছেন ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
Published : 20 Sep 2026, 04:36 PM
প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা যখন এআইয়ের বিকাশ ধীর করার আহ্বান জানাচ্ছেন তখন স্রোতের বিপরীতে হেঁটে এআই ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শব্দটির নাম বদলানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এআই ফোর্স পরিচালনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট একজন প্রধান বা ‘জার’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি ‘অদূর ভবিষ্যতে’ এআই ফোর্স পরিচালনার জন্য তার পছন্দের ব্যক্তির নাম ঘোষণা করবেন।
নতুন এ ফোর্সটি সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের কার্যপরিধি পরিচালনা করবে সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এ উদ্যোগটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ফোর্স’ গঠনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ওই পোস্টে এআই শিল্পের বিকাশকে বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা কোনোভাবেই এ বিস্ময়কর শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে দমিয়ে রাখব না, বরং এআই যেমন যেমন বড় হবে আমরা এটাকে লালন করব, সহায়তা করব ও এর ওপর নজর রাখব!”
এআই ফোর্স গঠনের বড় এ ঘোষণা ছাড়াও ট্রুথ সোশালের মাধ্যমে একটি অনলাইন পোল বা জরিপ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প, সেখানে তিনি ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দকে পরিবর্তন করে আরও মার্জিত ও নিখুঁত কোনো নাম দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
তার ভাষ্য, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর মতো নাম বেশি মানানসই।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের করা দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রের জন্ম দিয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে, অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই বিকাশের গতি কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়ে দীর্ঘ এক প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছিলেন।
এরপরই চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ও ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি এক্সএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরাও আমোদেইয়ের সেই দাবির সঙ্গে একমত হন।
এর পাল্টা যুক্তিতে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে এ প্রতিযোগিতায় চীন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে।
আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এআইয়ের বিষয়টি অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হিসেবে স্থান পাবে।