Published : 07 Jan 2023, 07:38 PM
মানুষের পরিবর্তে এখন বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে রেকর্ড করা অডিওবুক মিলছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের ডিজিটাল স্টোরে।
অ্যাপলের ‘বুকস’ অ্যাপের মধ্যে এগুলো ‘ন্যারেটেড বাই অ্যাপল বুকস’ নামে তালিকাভুক্ত আছে।
অ্যাপের একটি লাইনের পাশে থাকা বিভিন্ন ‘ইনফর্মেশন’ আইকনে ক্লিক করলে একটি টেক্সট বক্স আসে। এতে স্পষ্ট করে বলা থাকে, বইটি ‘মানব বর্ণনাকারীর ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল কণ্ঠস্বরের’ মাধ্যমে বর্ণিত।
‘ম্যাডিসন’ বা ‘জ্যাকসন’-এর মতো বিভিন্ন নামে গোটা ‘অ্যাপল বুকস’ লাইব্রেরিতে একাধিক ডিজিটাল কণ্ঠস্বর রয়েছে। তবে, প্রতিটি বইয়ে কেবল একটি স্বর শোনার সুযোগ মিলবে।
ডিজিটাল উপায়ে বর্ণিত এমনই দুটি শিরোনামের প্রতিটি এক ঘণ্টা করে শুনে পরীক্ষা করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট আর্স টেকনিকা। এতে তুলনামূলক শান্ত কণ্ঠস্বরগুলো পরিষ্কার ও প্রায় নির্ভুল শোনা গেছে। আর এগুলো অল্প সময় শুনলে যে কেউই একে আসল মানুষের কণ্ঠস্বর ভেবে ভুল করে বসতে পারেন।
তবে, এতে কিছু সংখ্যক অসঙ্গতিও খুঁজে পেয়েছে সাইটটি। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, ‘স্যান অ্যান্টোনিও’ শহরের উচ্চারণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। আর নিরপেক্ষ ও আবেগহীন কণ্ঠস্বর মানব বর্ণিত অডিওবুক প্রতিস্থাপন করবে, এমন ধারণাও ‘কিছুটা বাড়াবাড়ি’ বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
আর্স টেকনিকার অনুসন্ধানে প্রশ্নের মুখে পড়া বেশ কিছু সংখ্যক প্রকাশনার বেশিরভাগই হলো ছোট প্রকাশকদের তৈরি তুলনামূলক কম পরিচিত প্রেমের উপন্যাসের মতো বিভিন্ন বই। আর বুকস অ্যাপের সার্চ অপশনে ‘এআই ন্যারেশন’ লিখলে ব্যবহারকারী নিজেও এই তালিকা দেখতে পারবেন।
গার্ডিয়ান বলছে, গত কয়েক মাস বিভিন্ন স্বাধীন বই প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাপল বলেছে, লেখকের রয়্যালটি বাদে বইয়ের ডিজিটাল রেকর্ডিংয়ের খরচ কোম্পানি নিজেই বহন করবে।
এতে কিছু সংখ্যক প্রকাশক রাজি হলেও, বাকিরা এতে সাড়া দেননি। তবে, এটি সম্ভবত অ্যাপলের প্রচেষ্টার শুরু। পরবর্তীতে, এতে আরও কিছু যোগ করা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আর্স টেকনিকা।
অ্যাপল সম্ভবত এই ধরনের প্রচেষ্টা চালানো একমাত্র কোম্পানি নয়। এর আগে ইবুক ও অডিওবুকের মূল সরবরাহক গুগল ও অ্যামাজনও একই সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছে।
অডিওবুক একটি বিশাল ব্যবসা; সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এগুলোর বিক্রি ও জনপ্রিয়তা ‘আকাশচুম্বী’ অবস্থানে পৌঁছেছে। এই খাতে কিছু সংখ্যক স্বাধীন প্রকাশক ও লেখক-প্রকাশক রাজত্ব করে এলেও এটি মূলত শীর্ষস্থানীয় প্রকাশক ও বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের বাজার হিসেবেই বিবেচিত।