Published : 12 Dec 2025, 02:50 PM
সস্তা চার্জিং প্লাগ কেনার পেছনে কারণের অভাব নেই। ভালো চার্জার তুলনামূলক দামি তাই কম দামের প্লাগ অনেকের চোখেই আকর্ষণীয় লাগে। অনলাইনে কেনাকাটা করলে দ্রুত ডেলিভারি আর কম দাম দুটোই সহজে ক্রেতার সিদ্ধান্ত পাল্টে দিতে পারে। দোকানে গেলেও একই ব্যাপার, দামই বড় ফ্যাক্টর।
তবে, অভিজ্ঞ লোকজন বলছেন, বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের চার্জারগুলোর দাম বেশি হতে পারে, কিন্তু একটু বেশি খরচ বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।
মূল সমস্যা হলো, সস্তা চার্জিং প্লাগ অনেক সময় নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় না। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের এফসিসি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেগুলেট করে। নিম্নমানের চার্জার এসব মান না মানায় হস্তক্ষেপ বা ইন্টারফিয়ারেন্স তৈরি করতে পারে।
শুধু তাই নয়, এরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতেও পিছিয়ে থাকে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
দুর্বল ক্যাপাসিটরের কারণে লাইভ কারেন্ট বের হতে পারে
বেনামী ব্র্যান্ডের চার্জিং কেবল ব্যবহার করলে গরম হয়ে যাওয়ার বিষয়টি চোখে পড়বে নিশ্চয়ই। মনে হতে পারে ফোন বেশি চার্জে লাগিয়ে রেখেছেন এজন্য হয়ত। কিন্তু এটি আসলে অস্বাভাবিক এবং বিপজ্জনক।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্নমানের চার্জারে ব্যবহার হওয়া অংশগুলো নিরাপত্তা মান পূরণ করে না। যেখানে অন্তত পাঁচ মিমি দূরত্বে লাইভ ভোল্টেজ থাকা উচিত সেখানে নকল চার্জারে মাত্র এক মিমি ফাঁক পাওয়া গেছে। এত কম দূরত্বে লাইভ তার ছুঁয়ে যেতে পারে ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সস্তা চার্জারে আগুন লাগতে পারে
গরম হওয়া শুধু সমস্যার শুরু। অনেক ক্ষেত্রে সস্তা চার্জার আগুন ধরিয়ে পুরো ঘর পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রোডাক্ট সেইফটি কমিশন এরইমধ্যে ই-বাইক চার্জারসহ বিভিন্ন বেনামী ব্র্যান্ড চার্জারে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে।
তারে সামঞ্জস্যতা না থাকায় অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ বা ওভারলোড হতে পারে যা ডিভাইস ও তারে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে।
ওয়্যারলেস চার্জার, পাওয়ার ব্যাংকসহ আরও অনেক চার্জিং অ্যাকসেসরিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। নিম্নমানের ব্যাটারি ও তাপ নিয়ন্ত্রণের অভাবই এসবের মূল কারণ।
ভুল সোল্ডারিংয়ে নষ্ট হতে পারে ফোন
একটি চার্জার দেখতে সাধারণ হলেও, ভেতরের কারিগরি অংশগুলো যথেষ্ট সংবেদনশীল। সস্তা চার্জারে তারগুলো সঠিকভাবে সোল্ডার করা না থাকলে খুলে যেতে পারে। এমন অবস্থায় তার চার্জারের ভেতর শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে যা ফোনকেও নষ্ট করতে পারে।
এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বীমা বা ফোনের ওয়ারেন্টিও সস্তা তার ব্যবহারের কারণে বাতিল হতে পারে। অ্যাপলের ক্ষেত্রে, ডিভাইসের সঙ্গে আসা চার্জার ব্যবহার করা না হলে বীমার দাবি গ্রহণ নাও করতে পারে।
সস্তা প্লাগ সকেটে ভেঙে আটকে যেতে পারে
বেনামী ব্র্যান্ডের চার্জার সাধারণত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সনদ ছাড়া বাজারে আসে। সনদ পেতে বড় খরচ লাগে তাই সস্তা প্রস্তুতকারকরা এগুলো এড়িয়ে যায়।
ইউএল, ইটিএল অথবা ওএসএইচএ নির্দেশিত ল্যাব সনদ না থাকলে চার্জারটি মানসম্পন্ন হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। এমন ক্ষেত্রে চার্জার ব্যবহারের সময় ভেঙে সকেটের ভেতরে আটকে যেতে পারে যা বিদ্যুৎ-ঝুঁকি তৈরি করে।
অনেক নকল চার্জার ভুয়া সার্টিফিকেটও ব্যবহার করে তাই আসল সার্টিফিকেশন লেবেল যাচাই করা জরুরি।
সস্তা প্লাস্টিকের আগুনে বিষাক্ত ধোঁয়ার ঝুঁকি
সেইফটি ফার্স্ট- এর গবেষণায় দেখা গেছে, নকল চার্জিং প্লাগে ব্যবহার করা প্লাস্টিকও নিম্নমানের। পলিকার্বনেটের বদলে তারা সস্তা ‘পলিএবিএস’ ব্যবহার করে যা টেকসই নয়, আগুন ধরতে পারে এবং এতে কোনো ফায়ার-রিটার্ডেন্ট ফিচার নেই।
আগুন ধরলে এ প্লাস্টিক থেকে যে ধোঁয়া বের হয় তা অত্যন্ত বিষাক্ত এবং ঘরের ভেতর শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসে ক্ষতি করতে পারে।
যে কোনো ডিভাইসের ইউজার ম্যানুয়াল সবসময় বলে সঠিক চার্জার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে শুধু মূল চার্জার ব্যবহারের চেয়েও প্রয়োজন সার্টিফাইড, নিরাপদ, পরীক্ষিত চার্জার বেছে নেওয়া। দামে সস্তা হলেই তা ভালো নয়। একটি নিম্নমানের প্লাগ ফোন নষ্ট, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অথবা ঘরে আগুন লাগানোর মতো বিপদের মুখে ফেলতে পারে।