Published : 19 Jun 2026, 12:02 PM
বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট ও আকাশচুম্বী খরচের কারণে আইফোনসহ অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি এখন অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাপল প্রধান টিম কুক।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদায়ী সিইও টিম কুক এই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, বাজারে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার কারণে যন্ত্রাংশের সরবরাহ কমেছে, যা কোম্পানির উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়েছে। ফলে আসন্ন আইফোন ১৮ সিরিজসহ নতুন ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের দাম আগের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে।
তিনি বলেছন, “দুর্ভাগ্যবশত, অ্যাপল পণ্যের দাম বৃদ্ধি এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের ওপর যে বিপুল খরচ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা কমানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি গ্রাহকদের যেন বাড়তি দাম দিতে না হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।”
কুক নির্দিষ্ট করে বলেননি কোন পণ্যের দাম ঠিক কতটা বাড়বে বা কবে থেকে এ বাড়তি দাম কার্যকর হবে।
‘ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬’ শেষ হওয়ার পর অ্যাপল এখন তাদের নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ ঘোষণা থেকে কেবল কয়েক মাস দূরে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব নতুন ডিভাইসের দাম আগের প্রজন্মের আইফোনের তুলনায় অনেকটাই বেশি হতে পারে।
এ বছর অ্যাপলের বাজারে আনতে যাওয়া নতুন ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে বিশ্বজুড়ে যন্ত্রাংশের যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এর ফলে অ্যাপলের বর্তমান বিভিন্ন পণ্যের দামও হুট করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কুক বলেছেন, “এমন এক সময়ে বাজারে যন্ত্রাংশের সরবরাহ কমেছে যখন গ্রাহকদের কাছে ডিভাইসের চাহিদা তুঙ্গে। আর মেমোরি চিম নির্মাতা কোম্পানিগুলো আমাদের ওপর মেটা অংকের বাড়তি দাম চাপিয়ে দিচ্ছে। সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ের পণ্যের জন্য মেমোরির দাম ও সরবরাহ যৌক্তিক পর্যায়ে ফিরে আসা জরুরি। এটাই আসল কথা।”
কুকের এ সাক্ষাৎকারটি ছিল স্বভাবসুলভ কূটনৈতিক ভঙ্গিতে ভরা। আসন্ন দাম বৃদ্ধির এ অপ্রিয় খবরটি তিনি নিজেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তার উত্তরসূরি জন টার্নাসকে শুরুতেই এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে না হয়।
র্যাম ও স্টোরেজের বাজারের বর্তমান চরম পরিস্থিতি স্বীকার করে কুক বলেছেন, “গত ৪০ বছরেরও বেশি সময়ে আমি কোনো খাতেই এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি।”
প্রযুক্তি বাজারের এ সংকটের কথা প্রথম ঘোষণা করা কোম্পানি অ্যাপল নয়। গেল কয়েক মাসে র্যামের আকাশচুম্বী দাম ও ক্রমাগত চাহিদার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্যামসাং, এইচপি, মাইক্রোসফট, নিনটেনডো ও ভালভ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোও।