দায়মুক্তি ধারা না থাকলে হ-য-ব-র-ল হবে ইন্টারনেট: গুগল

দায় সুরক্ষা ছাড়া বিভিন্ন ইন্টারনেট কোম্পানির কিছু সংখ্যক ওয়েবসাইট হয়তো এমন কনটেন্ট সরাতে বাধ্য হবে, যেগুলো ‘বৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও বিতর্কিত বক্তব্য’।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Jan 2023, 07:54 AM
Updated : 15 Jan 2023, 07:54 AM

ইউটিউব ও ফেইসবুকের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সুরক্ষায় ব্যবহৃত কনটেন্ট মডারেশন নীতিমালাকে চ্যালেঞ্জ করা মামলা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। সার্চ জায়ান্ট গুগল বলছে, এই সুরক্ষা না থাকলে গোটা ইন্টারনেটের চেহারাই বদলে যেতে পারে।

আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে ‘রেনালডো গনজালেস বনাম গুগল’ নামে পরিচিতি পাওয়া এক মামলার শুনানি চলবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

এই মামলা দায়ের করেছে নোয়েইমি গনজালেসের পরিবার। তিনি ২০১৫ সালে প্যারিসে জঙ্গি সংগঠন ‘আইসিস’ পরিচালিত হামলায় নিহত হন। আর ১৯৯৬ সালের ‘ইউএস কমিউনিকেশন্স ডিসেন্সি অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত আইনের ‘সেকশন ২৩০’-কে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

এই আইনের ‘সেকশন ২৩০’ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে সামাজিক প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা কনটেন্টের জন্য আংশিক দায়মুক্তি দেয়।

মামলার বাদীপক্ষের যুক্তি হলো, সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলো জঙ্গিবাদের ভিডিও’র মতো বিভিন্ন ক্ষতিকারক কনটেন্টের ‘সাজেশন’ দিলে তারা ‘সেকশন ২৩০’র অধীনে সুরক্ষা পেতে পারে না।

‘সেকশন ২৩০’-এর প্রয়োগ ব্যবহারকারীদের করা কনটেন্ট ও মন্তব্যের দায় থেকে প্ল্যাটফর্মকে মুক্তি দেয়। ফলে, এই ধরনের ‘ক্ষতিকর’ কনটেন্ট দেখানোর বা ‘সাজেশন’ দেওয়ার সুযোগ পায় প্ল্যাটফর্মগুলো।

গনজালেসের পরিবারের আইনজীবি বলছেন, এর ফলে, প্ল্যাটফর্মগুলোর “সকল নাগরিক দায়বদ্ধতাও হারিয়ে যায়। এটি ভুক্তভোগীর প্রতিকারের বিষয়টিও পাশ কাটিয়ে চলে যায়।”

ভুক্তভোগীদের এমন কনটেন্ট পরামর্শ দেখানো, যেখানে তার নিজের শারীরিক ক্ষতি বা তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, সেটিও যুক্তিযুক্ত নয় বলে আদালতের শুনানিতে বলেন তিনি।

সেকশন ২৩০ হলো ইন্টারনেটের ‘অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড’।
গুগল

নিজেদের সর্বশেষ জমা দেওয়া নথিতে গুগল বলেছে, তাদের কোম্পানি ইউটিউব জঙ্গিবাদ ঘৃণা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জঙ্গিবাদ ও এই বিষয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট সরাতে তারা বেশ কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই প্রযুক্তি জায়ান্ট বৃহস্পতিপার আদালতে বলেছে, এই দায়মুক্তির ব্যবস্থা সরিয়ে নিলে কনটেন্ট মডারেশনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। ফলে, বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো অনেক বিষয়ই ‘সম্ভাব্য আপত্তিকর’ বিবেচনায় বন্ধ হয়ে যাবে।

গুগলের ভাষ্যমতে, সেকশন ২৩০ হলো ইন্টারনেটের ‘অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড’।

নিজেদের জমা দেওয়া নথিতে কোম্পানিটি যুক্তি দেখিয়েছে, দায় সুরক্ষা ছাড়া বিভিন্ন ইন্টারনেট কোম্পানির কিছু সংখ্যক ওয়েবসাইট হয়তো এমন কনটেন্ট সরাতে বাধ্য হবে, যেগুলো ‘বৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও বিতর্কিত বক্তব্য’। এর ফলে, অন্যান্য ওয়েবসাইট এমন ‘ক্ষতিকারক বা অবৈধ’ কনটেন্টগুলো নিয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করে দিতে পারে।

গুগল বলেছে, এই ধারার সুরক্ষা ছাড়া বিভিন্ন ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম সম্ভবত ‘বাজে কনটেন্ট না দেখার’ মনোভাব গ্রহণ করতে পারে। ফলে, গোটা ইন্টারনেটই এক ‘অগোছালো জগাখিচুড়িতে পরিণত হতে পারে।

“প্ল্যাটফর্ম গুলো হয়ে উঠবে মামলার খনি।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন’সহ অন্যান্য বেশ কিছু আইনপ্রণেতা সেকশন ২৩০-এর ত্রুটিগুলো উল্লেখ করে এতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন। আর টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া’সহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সংখ্যক অঙ্গরাজ্যেও বিভিন্ন কারণে সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট মডারেশন আইন নিয়ে বিবাদ চলছে।

“এই আদালতের উচিত বিভিন্ন অভিনব ও অপরীক্ষিত তত্ত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো। কারণ এগুলো বর্তমান সময়ের ইন্টারনেটে অনেক বেশি নিরাময় করা বিভিন্ন মূলধারার সাইট বা প্রান্তিক সাইটকে আপত্তিকর কনটেন্টে পরিপূর্ণ করে একে ব্যবহারকারীর বাধ্যতামূলক পছন্দে রূপান্তরের ঝুঁকি রাখে।” যুক্তি দেখিয়েছে গুগল। এ বিষয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক