Published : 01 Feb 2026, 12:01 PM
হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপ্টেড বার্তা ‘মেটা পড়তে পারে’, এমন অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেছে।
গত সপ্তাহে করা একটি মামলার সূত্র ধরে বিষয়টি সামনে এল। ওই মামলায় অভিযোগ রয়েছে, মেটা “প্রায় সব হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথাকথিত ‘প্রাইভেট’ যোগাযোগে প্রবেশাধিকার রাখতে পারে”।
এ নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অবশ্য বলছে, মেটা অভিযোগটি অস্বীকার করেছে এবং একে “একেবারেই মিথ্যা ও হাস্যকর” বলে উল্লেখ করেছে।
মেটার দাবি, মামলাটি করাই হয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক স্পাইওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি এনএসও গ্রুপকে সমর্থনের অংশ হিসাবে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের করা মামলায় এনএসও গ্রুপ হেরে গেছে।
মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে আইন ফার্ম কুইন ইমানুয়েল উর্কহার্ট অ্যান্ড সালিভান। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ‘সাহসী’ হুইসেলব্লোয়ারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ অভিযোগ তুলেছে।
আলাদা একটি মামলায় একই আইন ফার্ম এনএসও গ্রুপের পক্ষে আপিলে সহায়তা করছে। ওই মামলায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে এক হাজার চারশর বেশি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপের শর্ত ভঙ্গের দায়ে এনএসও গ্রুপকে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে।
মেটার মুখপাত্র কার্ল উগ এক বিবৃতিতে বলেন, “শুধু শিরোনাম দখলের উদ্দেশ্যে করা ভিত্তিহীন এই মামলার জন্য কুইন ইমানুয়েলের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।”
“এই একই প্রতিষ্ঠান সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে স্পাইওয়্যার ব্যবহারের কারণে এনএসওর কার্যক্রমে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করতে তাদের সহায়তা করছে।”
কুইন ইমানুয়েলের অংশীদার অ্যাডাম উলফসন বলেন, “ওই মামলার সঙ্গে আমাদের কাছে প্রকাশ পাওয়া তথ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। এ তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের পক্ষে এই মামলা করেছি।”
“আমরা এসব অভিযোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে আগ্রহী এবং লক্ষ্য করছি, হোয়াটসঅ্যাপের অস্বীকারগুলো এমনভাবে শব্দচয়ন করা হয়েছে, যাতে অভিযোগের মূল বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করা হয় না।
“আমাদের মামলার মূল বিষয়টি হলো, ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে’র দাবি থাকা সত্ত্বেও মেটার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পড়ার সক্ষমতা রয়েছে।”
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক স্টিভেন মারডক মামলাটিকে “কিছুটা অদ্ভুত” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এটি মূলত হুইসেলব্লোয়ারদের ওপর নির্ভর করছে, যাদের সম্পর্কে বা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমরা খুব বেশি কিছু জানি না।”
তিনি আরও বলেন, “তারা যা দাবি করছে, সেটি সত্য হলে আমি খুবই বিস্মিত হব।”
মারডক আরও বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ যদি সত্যিই ব্যবহারকারীদের বার্তা পড়ে থাকে, তাহলে সেটি কোম্পানির ভেতর থেকেই ধরা পড়ত এবং এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যেত।
তিনি বলেন, “কোনো কোম্পানির ভেতরে এমন কিছু দীর্ঘদিন গোপন রাখা খুব কঠিন। যদি এত বড় কেলেঙ্কারির মতো কিছু ঘটত, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের ভেতর থেকেই কারও মাধ্যমে সেটি ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি ছিল।”
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলা হয়, মেটা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। তবে দপ্তরটির একজন মুখপাত্র এই দাবিকে “ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করেন।
হোয়াটসঅ্যাপ নিজেদের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরে। এর মানে, বার্তা শুধু প্রেরক ও প্রাপকই পড়তে পারেন, মাঝখানের কোনো সার্ভার তা ডিকোড করে না।
প্রযুক্তি খাতের একজন শীর্ষ নির্বাহী গার্ডিয়ানকে বলেন, ব্যবহারকারীদের মেটাডেটা প্রশ্নে হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসিতে অনেক ঘাটতি রয়েছে সত্য, তবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড আলাদা কনটেন্ট বেছে বা পরে গিয়ে পড়ার সক্ষমতা হোয়াটসঅ্যাপের আছে, এমন ধারণা গাণিতিকভাবে অসম্ভব।”