Published : 25 Jul 2026, 11:30 AM
যে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পেছনে চোখ বোলালেই সাধারণত চাকাওয়ালা একটি ডাস্টবিনের ওপর ক্রস চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। দেখতে ছোট হলেও বৈশ্বিক ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুরানো প্রযুক্তির সঠিক পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ চিহ্নের গুরুত্ব রয়েছে।
ডিভাইসের ডাস্টবিনের ওপর ক্রস দেওয়া চিহ্নটিকে বলে ‘ডব্লিউইইই’ মার্কিং, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্দিষ্ট এক আইন বা নির্দেশনা। এর মানে, পণ্যটি সাধারণ গৃহস্থালি ময়লার সঙ্গে ফেলে দেওয়া যাবে না, বরং ই-বর্জ্য হিসেবে আলাদাভাবে সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে এ নিয়ম বাধ্যতামূলক হলেও গোটাবিশ্বেই কম-বেশি সব ইলেকট্রনিক পণ্যে প্রতীকটি দেখা যায়।
এ চিহ্নের মূল বার্তা কী?
‘ডব্লিউইইই’-এর পূর্ণরূপ ‘ওয়েস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট ডিরেকটিভ’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত এ নিয়মে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক বর্জ্যকে সাধারণ বর্জ্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতীকটির বার্তা সহজ ও সুস্পষ্ট যে, ডিভাইসটি কোনোভাবেই সাধারণ ময়লার বালতিতে ফেলা যাবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুসারে, পণ্যের ওপর এই লেবেল সংযোজনের জন্য তিনটি বিষয় থাকা আবশ্যক। প্রথমটি হচ্ছে ডাস্টবিনের ওপর স্পষ্ট ক্রস চিহ্ন। দ্বিতীয়টি ব্র্যান্ডের নাম, ট্রেডমার্ক বা প্রস্তুতকারক কোম্পানির নিজস্ব লোগো।
তৃতীয়টি, পণ্যটি যে ২০০৫ সালের ১৩ অগাস্টের (আইনটি কার্যকরের তারিখ) পরে বাজারে এসেছে তার স্পষ্ট প্রমাণ। সাধারণত ডাস্টবিনের নিচে একটি মোটা অনুভূমিক কালো দাগ বা নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে এমনটা বোঝানো হয়।
রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ, টোস্টার, হেয়ার ড্রায়ার ও টিভি-মনিটরের মতো প্রায় সব ধরনের দৈনন্দিন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এ চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
কেন ই-বর্জ্য সঠিক উপায়ে রিসাইকেল করা জরুরি?
ইলেকট্রনিক পণ্যের ভেতর সীসা, ক্যাডমিয়াম ও পারদের মতো ক্ষতিকর পদার্থ থাকে, যা খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
একইসঙ্গে এসব বর্জ্যে তামা বা রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ ধাতুর মতো মূল্যবান ও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ধাতুও থাকে। প্রতিদিন বেড়েই চলা বৈশ্বিক ই-বর্জ্যের সংকট সামাল দিতেই এ সাধারণ ডাস্টবিন থেকে ইলেকট্রনিক পণ্যকে আলাদা করার বার্তা দেয় প্রতীকটি।
পণ্যটির ওপর থাকা ক্রস দেওয়া ডাস্টবিন কেবল কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের ছাপ নয়, বরং এ চিহ্ন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তির উৎপাদন থেকে শুরু করে তার বাতিল হওয়ার পর পর্যন্ত পরিবেশের ওপর এর গভীর প্রভাব থাকে।
পুরানো বা অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য ফেলবেন যেভাবে
মানুষের সুবিধার্থে পুরানো গ্যাজেট রিসাইকেল বা পুনরায় ব্যবহারের জন্য নানা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কোম্পানি ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে খুব সহজেই বর্জ্য ফেলে দেওয়া যায়।
ব্র্যান্ড ভেদে অ্যাপল ও ডেলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি গ্রাহকদের জন্য নিজস্ব ট্রেড-ইন বা রিসাইক্লিং কর্মসূচি পরিচালনা করে। অ্যামাজনেরও ট্রেড-ইন সুবিধা রয়েছে, বিশেষ করে তাদের নিজস্ব পণ্য যেমন, কিন্ডল, রিং ডোরবেল বা ফায়ার টিভি এক্সচেঞ্জ করলে আকর্ষণীয় ছাড় মেলে।
পণ্যের পেছনে থাকা ছোট ডাস্টবিনের এ প্রতীকটি অনেক সময় আমাদের অলক্ষ্যেই থেকে যায়। তবে, এর পেছনে থাকা মহৎ বার্তাটি অস্বীকারের উপায় নেই।
যে কোনো পুরানো মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা মনিটর উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া মানেই পরিবেশের বড় ক্ষতি ডেকে আনা, নতুন করে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চাপ বাড়ানো এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মূল্যবান উপাদান অপচয় করা।
ব্যবহারকারীর বসবাসরত স্থানে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকুক বা না থাকুক এ যুক্তির প্রয়োজনীয়তা সর্বজনীন। ফলে বাতিল ইলেকট্রনিক পণ্যের দায়িত্বশীল পুনর্ব্যবহার কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের বিষয় নয়, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।