Published : 14 Jan 2024, 04:49 PM
নিজেদের চ্যাটবট প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতিমালায় অনেকটা নিভৃতেই পরিবর্তন এনেছে ওপেনএআই।
সামরিক ও যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কাজে চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল, এ সপ্তাহের শুরুতে তা তুলে নিয়েছে চ্যাটজিপিটি’র নির্মাতা কোম্পানিটি।
ওপেনএআইয়ের ব্যবহারিক বিধিনিষেধে নতুন অঘোষিত এ আপডেট এসেছে ১০ জানুয়ারি। তবে, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি, অন্যদের আহত করা বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওপেনএআইয়ের পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে না বলে সংবাদ সাইট বিজনেস ইনসাইডারকে বলেছেন কোম্পানির মুখপাত্র।
তিনি আরও বলেন, কোম্পানির লক্ষ্য হল এমন এক ধরনের বৈশ্বিক নীতিমালা বানানো, যেটি মনে রাখা ও প্রয়োগ করা উভয় ক্ষেত্রেই সহজ হয়। বিশেষ করে যখন কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য এখন গোটা বিশ্বে নিয়মিতই ব্যবহার করা হচ্ছে।
১০ জানুয়ারি নতুন এ আপডেটের পাশাপাশি নিজেদের ‘জিপিটি স্টোর’ চালু করেছে ওপেনএআই। এটি এমন এক মার্কেটপ্লেস, যেখানে চ্যাটজিপিটি’কে নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করার সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারী।
ইনসাইডার বলছে, যেসব ব্যবসা নিজেদের উদ্ভাবনী পণ্যের বিস্তার বাড়াতে ইচ্ছুক, তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পণ্যের সক্ষমতা বাড়ানো।
ওপেনএআইয়ের নতুন ব্যবহারিক বিধিনিষেধে ‘অন্যদের ক্ষতি করা যাবে না’ এমন শর্তও যোগ করা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র বলছেন, এমন বেশ কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে নিয়মটি সহজেই ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি, অনেক ক্ষেত্রে এটি যুক্তিসঙ্গতও বটে। এ ছাড়া, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি বা ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই রাখা হয়েছে।
এদিকে, কয়েকজন এআই বিশেষজ্ঞ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ওপেনএআইয়ের নতুন নীতিমালা বেশিই সাধারণ। বিশেষ করে যখন গাজায় চলমান সংঘাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এরইমধ্যে দেখা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বিভাগ বলেছে, ফিলিস্তিনি অঞ্চলের ভেতর বোমা শনাক্ত করার লক্ষ্যে তারা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
“নতুন নীতিমালাটি যে ভাষায় লেখা হয়েছে, সেটা এখনও অস্পষ্ট। ওপেনএআই কীভাবে এটি প্রয়োগ করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।” --মার্কিন সংবাদ সাইট ইন্টারসেপ্টকে বলেছেনন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এআই নাও ইনস্টিটিউট’-এর মহাপরিচালক ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফটিসি’র সাবেক এআই নীতিমালা বিশ্লেষক সারা মায়ার্স।