Published : 07 Jan 2026, 01:40 PM
বিশালাকার টিভি, কমপ্যাক্ট প্রজেক্টর ও ট্রাইফোল্ড ডিভাইসের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি মেলা সিইএস ২০২৬-এ ল্যাপটপের নতুন সিরিজও উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাগতিক কোম্পানি স্যামসাং।
কোম্পানিটি বলেছে, তিনটি নতুন ল্যাপটপে এমন সব ফিচারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা, যা গ্রাহকরা সাধারণত নিজেদের পরবর্তী ল্যাপটপে পেতে চাইবেন। এতে থাকছে ইনটেলের সর্বশেষ চিপসেট, আগের চেয়ে আরও পরিচ্ছন্ন ডিজাইন ও এক চার্জে পুরো একদিনের বেশি সময় চলবে এমন ব্যাটারি।
‘গ্যালাক্সি বুক ৬ আল্ট্রা’, ‘গ্যালাক্সি বুক ৬ প্রো’ ও ‘গ্যালাক্সি বুক ৬’ নামে নিজেদের তিনটি নতুন ল্যাপটপ উন্মোচন করেছে স্যামসাং। এসব ল্যাপটপ ওজনে বেশ হালকা ও পাতলা বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
‘গ্যালাক্সি বুক ৬ আল্ট্রা’
এসব ল্যাপটপে বিশেষভাবে তৈরি ইনটেলের সর্বশেষ ‘প্যান্থার লেক’ নামের প্রসেসর ব্যবহার করেছে স্যামসাং। ১৬ ইঞ্চির গ্যালাক্সি বুক ৬ আল্ট্রা ল্যাপটপটিতে সর্বোচ্চ ‘কোর আল্ট্রা এক্স ৯’ প্রসেসর ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি। ল্যাপটপটি ১৫.৪ মিলিমিটার পুরু।
ল্যাপটপটিতে বড় ধরনের পারফরম্যান্স উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্যামসাং, যার মধ্যে রয়েছে নতুন পঞ্চম প্রজন্মের ‘এনপিইউ’, ইনটেল আর্ক গ্রাফিক্স ও এনভিডিয়ার আরটিএক্স ৫০ সিরিজের জিপিইউ।
স্যামসাংয়ের দাবি, প্যাকেজটি গত গ্যালাক্সি বুক সিরিজের তুলনায় ১.৬ গুণ সিপিইউ সক্ষমতা এবং ১.৭ গুণ উন্নত গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স দেবে।
এ সিরিজের সবকটি ল্যাপটপেই উন্নত হিট-ম্যানেজমেন্ট বা তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে চওড়া ‘ভেপর চেম্বার’ ও নতুনভাবে তৈরি ফ্যান, বিশেষ করে, আল্ট্রা মডেলে নতুন এক ‘ডুয়াল-পাথ’ বা দুইমুখী চলাচলের ফ্যান যোগ করেছে কোম্পানিটি, যা জিপিইউ-কে আরও দ্রুত ও সক্ষমতার সঙ্গে ঠান্ডা করবে।
‘গ্যালাক্সি বুক ৬ প্রো’
ল্যাপটপটি ১৪ ইঞ্চি ও ১৬ ইঞ্চি এ দুই মাপে পাওয়া যাবে। বুক ৬ প্রো কেবল ১১.৯ মিলিমিটার পাতলা। এতে সর্বোচ্চ ‘কোর আল্ট্রা এক্স ৭’ প্রসেসর ও ইনটেল আর্ক গ্রাফিক্স ব্যবহৃত হয়েছে। বুক ৬ আল্ট্রা ও প্রো উভয় মডেলেই উন্নত ‘অ্যামোলেড ২এক্স’ টাচ ডিসপ্লে রয়েছে, যার রেজোলিউশন ২৮৮০ বাই ১৮০০ পিক্সেল।
এসব ডিসপ্লে ১০০০ নিটস পর্যন্ত উজ্জ্বলতা দিতে পারে, যা আগের বুক ৫ প্রো-এর তুলনায় দ্বিগুণ। এ ছাড়া উভয় মডেলেই ‘অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট’ সুবিধা রয়েছে, যা সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গ্যালাক্সি বুক ৬ আল্ট্রা দেখতে সাধারণ ল্যাপটপের মতো হলেও, বুক ৬ প্রো-এর ডিজাইনটি ‘টিয়ারড্রপ’ বা একপাশে চওড়া ও অন্যপাশে সরু আকৃতির, যা মূলত ম্যাকবুক এয়ারের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়েছে।
অ্যাপল থেকে কিছুটা অনুপ্রেরণা নিলেও স্যামসাংয়ের এসব ল্যাপটপ দেখতে চমৎকার। এবার ল্যাপটপের নকশা থেকে অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু বাদ দিয়েছে কোম্পানিটি। বুক ৬ আল্ট্রাতে এখনও ‘ইউএসবি-এ’ পোর্ট থাকলেও এতে অবশেষে একটি ফুল-সাইজ এসডি কার্ড রিডার যোগ করেছে স্যামসাং।
‘গ্যালাক্সি বুক ৬’
ল্যাপটপের ভেতরের হিট-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করেছে স্যামসাং, যার মধ্যে রয়েছে আরও চওড়া ‘ভেপার চেম্বার’ ও নতুনভাবে তৈরি ফ্যান। নিবিড় বা ভারী কাজের সময়ও যেন ল্যাপটপটি সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে তা নিশ্চিত করাই ছিল বুক ৬ সিরিজের অন্যতম লক্ষ্য।
‘অ্যামোলেড ২এক্স’ ডিসপ্লেটি ১০০০ নিটস পর্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে। সরাসরি রোদে বা উজ্জ্বল আলোতেও স্ক্রিন পরিষ্কার দেখা যাবে। এ ছাড়া এতে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকায় স্ক্রিন ব্যবহার করতে খুব মসৃণ লাগে।
নিজেদের আগের গ্যালাক্সি বুক ৫ সিরিজে কোনো ‘আল্ট্রা’ সংস্করণ আনেনি স্যামসাং। ব্যাটারির কাঠামো ও অবস্থান নতুনভাবে সাজিয়েছে স্যামসাং।
কোম্পানিটির দাবি, নতুন বুক ৬ আল্ট্রা ও প্রো প্রতিটিই একটানা ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক সুবিধা দিতে সক্ষম। এর পাশাপাশি বুক ৬ আল্ট্রাতে রয়েছে দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা, যা মাত্র ৩০ মিনিটে ৬৩ শতাংশ চার্জ হতে পারে।
এসব ল্যাপটপে এআই ফিচারও রয়েছে। গ্যালাক্সি বুক ৬ সিরিজের পাশাপাশি স্যামসাং এমন এক টুলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যা এআই ব্যবহার করে ছবি থেকে কোনো অংশ কেটে অন্যখানে পেস্ট করতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া এতে আরও রয়েছে ‘নোট অ্যাসিস্ট’ ফিচার, যা ব্যবহারকারীর বিভিন্ন নোট গুছিয়ে রাখতে ও সেগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরিতে সাহায্য করবে।
প্রতি বছরের মতো এবারের সিইএস মেলাতেও গ্যালাক্সি বুক ৬ সিরিজের দাম বা বাজারে আনার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি স্যামসাং। আগামী মাসগুলোতে এ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।