Published : 24 Apr 2026, 04:09 PM
ক্লাউড কম্পিউটিং বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ও উইন্ডোজ সার্ভার সফটওয়্যারের জন্য ‘অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট।
প্রায় ৬০ হাজার কোম্পানির পক্ষে করা এই গণ-মামলায় ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৮০ কোটি ডলার। মঙ্গলবার লন্ডনের এক ট্রাইব্যুনাল মামলাটি বিচার প্রক্রিয়ায় নেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় মাইক্রোসফটের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অ্যামাজন, গুগল ও আলিবাবার ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট তাদের ‘উইন্ডোজ সার্ভার’ সফটওয়্যারের জন্য অতিরিক্ত দাম রেখেছে।
অ্যান্টিট্রাস্ট আইনজীবী মারিয়া লুইসা স্টাসি প্রায় ৬০ হাজার কোম্পানির পক্ষ থেকে এ মামলাটি লড়ছেন। এসব কোম্পানি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে উইন্ডোজ সার্ভার ব্যবহার করে।
স্টাসির আইনজীবীরা আগে বলেছিলেন, এ মামলায় দাবি করা ক্ষতির পরিমাণ ২৮০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
গত বছর এক শুনানিতে তারা যুক্তি দিয়েছিলেন, কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বেশি দাম রাখা হয়েছে কারণ মাইক্রোসফট তাদের নিজস্ব ক্লাউড পরিষেবা ‘অ্যাজিউর’ ব্যবহারকারীদের তুলনায় অন্যদের জন্য উইন্ডোজ সার্ভারের পাইকারি দাম বেশি ধরে।
এ বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস বা গুগলের তুলনায় মাইক্রোসফটের অ্যাজিউর ব্যবহার করা সাশ্রয়ী হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে, মাইক্রোসফট বলেছিল, স্টাসির এ মামলায় কথিত ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করার কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। ফলে মামলাটি বাতিল করা উচিত।
তবে লন্ডনের ‘কম্পিটিশন অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল’ মামলাটি বিচারের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যা এ আইনি প্রক্রিয়ার কেবল শুরু হলেও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মঙ্গলবারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের পরিকল্পনা করছেন তারা।
“মামলার প্রতিনিধি (স্টাসি) যেসব অভিযোগ এনেছেন আমরা সেগুলোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আজকের এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই সেসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়।”
অন্যদিকে, মারিয়া লুইসা স্টাসি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আদালতের এ সিদ্ধান্তটি ‘মাইক্রোসফটের আচরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া হাজার হাজার কোম্পানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত’।
গেল বছরের শুনানিতে মাইক্রোসফট যুক্তি দিয়েছিল, তাদের ব্যবসার ধরনটি (যেখানে তারা উইন্ডোজ সার্ভারকে একদিকে যেমন নিজেদের অ্যাজিউরের কাজে লাগায় অন্যদিকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছেও লাইসেন্স বিক্রি করে) আসলে বাজারের প্রতিযোগিতার জন্য সহায়ক হতে পারে।
ব্রিটেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট এবং অন্যান্য কোম্পানির কার্যক্রম পরীক্ষা করে দেখছে।
গত বছরের জুলাইয়ে ব্রিটেনের ‘কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি’ বা সিএমএ-এর তদন্তকারী একটি দল বলেছিল, মাইক্রোসফটের লাইসেন্সিং পদ্ধতি অ্যামাজন ও গুগলকে ব্যবসায়িক অসুবিধায় ফেলে ক্লাউড পরিষেবার প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিচ্ছে।
ওই সময় মাইক্রোসফট বলেছিল, এ প্রতিবেদনে ‘ক্লাউড মার্কেট এর আগে কখনোই এত গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ছিল না’ এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
গত মাসে সিএমএ পুনরায় বলেছে, তারা ক্লাউড মার্কেটে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার লাইসেন্সিং পদ্ধতি ফের খতিয়ে দেখবে।