Published : 04 Mar 2026, 03:15 PM
চীনা কোম্পানি ডিপসিক তাদের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল বাজারে আনতে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, এক বছরেরও বেশি সময় পর এ সপ্তাহেই তারা এ নতুন এআই মডেলটি আনছে, যার মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাইয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের টক্কর দেওয়া।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিপসিকের বিভিন্ন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম চালুর পর মার্কিন বাজার কাঁপিয়েছিল চীনা কোম্পানিটি।
ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ চার্টের শীর্ষে উঠে আসে অ্যাপটি এবং এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য এক ‘সতর্কবার্তা’ ডিপসিক।
ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ডিপসিক-এর নতুন ‘ভি৪’ মডেলটি হবে ‘মাল্টিমোডাল’, অর্থাৎ কেবল টেক্সট বা লেখাই নয়, বরং ছবি ও ভিডিও-ও তৈরি করতে পারবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, হাংঝুভিত্তিক এ স্টার্টআপ তাদের নতুন মডেলটি এনভিডিয়া’র মতো মার্কিন চিপ নির্মাতাদের দেখায়নি। এর বদলে তারা স্থানীয় সরবরাহকারী হুয়াওয়ে’র সঙ্গে মডেলটি শেয়ার করেছে।
প্রযুক্তি জগতের প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ডিপসিক। সাধারণত নতুন কোনো সফটওয়্যার যাতে হার্ডওয়্যারের সঙ্গে ঠিকমতো কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে চিপ নির্মাতাদের আগেভাগেই তা দেখানো হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন চিপ নির্মাতাদের আধিপত্য কমিয়ে আনার জন্য চীন সরকারের যে বড় কৌশল রয়েছে, ডিপসিকের এমন পদক্ষেপ তারই অংশ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিপসিকের ‘আর১’ মডেলটি আসার পর পুরো প্রযুক্তি বিশ্বে তোলপাড় তৈরি হয়েছিল। কারণ, সেই প্রথম কোনো চীনা প্রতিযোগী যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্টদের সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলোর সমান হতে পেরেছিল।
মডেলটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও ওপেন সোর্স হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল কোম্পানিটি। পাশাপাশি, মডেলটি তৈরি করতে খরচও হয়েছিল অনেক কম। এর ফলে অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ার বাজারে ধস নামে।
ডিপসিকের উত্থানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একদিনের লোকসানের মুখে পড়েছিল এনভিডিয়া। প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বাজারমূল্য হারায় মার্কিন চিপ জায়ান্টটি। একইসঙ্গে ওরাকল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের শেয়ারের দামও ব্যাপকহারে কমেছে সে সময়।
এরপর থেকে কোম্পানিটি আরও কিছু উন্নত মডেল বাজারে এনেছে, তবে সেগুলো বর্তমানে কেবল ডেভেলপারদের প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেইস’ ও ‘গিটহাব’-এ পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন এ মডেলটি এমন এক সময়ে আসছে যখন সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের ফেডারেল সংস্থাকে অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই মডেল ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
কারণ এ কোম্পানিটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরিতে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধের দাবি করেছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের সঙ্গে এক চুক্তিতে পৌঁছেছে ওপেনএআই। এ চুক্তির ফলে তাদের বিভিন্ন এআই মডেল পেন্টাগনের গোপন নেটওয়ার্কে ব্যবহারের সুযোগ দেবে।