Published : 11 Apr 2026, 05:10 PM
কলোরাডোর নতুন এআই আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি এক্সএআই। এ আইনের কঠোর বিধিনিষেধকে বাক-স্বাধীনতার লঙ্ঘন দাবি করে তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছে কোম্পানিটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, অ্যালগরিদমিক বৈষম্য রোধে কলোরাডোর এ আইনটি আগামী জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে এক্সএআইয়ের এ মামলার লক্ষ্য, আইনটির প্রয়োগ বন্ধ করা।
কলোরাডোর নতুন এ আইনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং আর্থিক পরিষেবার মতো বিভিন্ন খাতে নাগরিকদের ‘অ্যালগরিদমিক বৈষম্য’ থেকে রক্ষা করতে এআই সিস্টেমগুলোর ওপর বেশ কিছু নতুন বিধিনিষেধ ও শর্ত আরোপ করেছে অঙ্গরাজ্যটি।
কলোরাডোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য যারা এআই নিয়ন্ত্রণে এমন বড় পরিসরে বিল পাস করেছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, এক্সএআইয়ের দাবি, আইনটি তাদের বাক-স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন ও কোম্পানিটিকে ‘বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে বর্ণবৈষম্য দূর করার মতো ইস্যুতে রাষ্ট্রের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার’ করতে বাধ্য করবে।
মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, “এ আইনের বিধানগুলো এআই ডেভেলপারদের এমন কোনো বক্তব্য তৈরি করতে বাধা দেবে যা কলোরাডো সরকার পছন্দ করে না।”
কলোরাডোর মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে করা এ মামলাটি এমন এক সময়ে এল যখন দ্রুত বেড়ে ওঠা এ প্রযুক্তি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো কঠোর নিয়মের মাধ্যমে এআইকে নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অন্যদিকে নিয়ম শিথিল ও অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
চ্যাটবট গ্রক-এর নির্মাতা কোম্পানি এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বৈষম্যমূলক আচরণের নানা অভিযোগ রয়েছে।
চ্যাটবটটি নিয়মিত বর্ণবাদী, লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও ইহুদিবিদ্বেষী কনটেন্ট প্রচারের পাশাপাশি ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’র মতো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়েছে এবং নিজেকে ‘মেকাহিটলার’ হিসেবেও বর্ণনা করেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক এক্স পোস্টে এই মামলার প্রশংসা করে এক্সএআইয়ের সাবেক মুখপাত্র ও ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার বলেছেন, “কলোরাডো চায় গ্রক’কে সত্য অনুসন্ধানের বদলে সাম্য ও জাতিগত বিষয়ে তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা মানতে বাধ্য করতে। গ্রক প্রমাণের ভিত্তিতে চলে, বামপন্থী সরকারের প্রগতিশীল নিয়ম মেনে নয়।”
কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট গভর্নর জ্যারেড পোলিস ২০২৪ সালে বিলটিতে স্বাক্ষর করলেও বলেছিলেন, এ নিয়ে তার কিছু ‘দ্বিধাদ্বন্দ্ব’ রয়েছে।
তিনি অঙ্গরাজ্য আইনপ্রণেতাদের আইনটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন। আইনটি ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৩০ জুন নির্ধারিত হয়েছে।
এক্সএআই এ বছরের শুরুতে মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সঙ্গে একীভূত হয়েছে। কলোরাডোর এ আইনের প্রয়োগ বন্ধ করতে নিষেধাজ্ঞা ও আইনটি অসাংবিধানিক বলে আদালতের ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এক্সএআই।
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে রাজি হয়নি কলোরাডোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং এক্সএআইয়ের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি।