Published : 30 May 2026, 05:20 PM
হিউম্যানয়েড রোবটের ওপর কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি রোবটের জন্য ডিজিটাল আইডি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।
এসব রোবট তৈরির শুরু থেকে রিসাইক্লিং পর্যন্ত পুরো জীবনচক্র ট্র্যাক করতে এ আইডি ব্যবহৃত হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি’র বরাতে জানা গেছে, রোবটগুলোকে এদের পুরো জীবনচক্র জুড়ে নজরদারিতে রাখার জন্য চীন প্রতিটি রোবটের জন্য একটি করে ডিজিটাল পরিচয় নম্বর চালুর পরিকল্পনা করছে প্রযুক্তিতে দ্রুত শীর্ষে উঠে আসা দেশটি।
এ কাজের উদ্দেশ্য, রোবট তৈরির শুরু থেকে সেগুলোর পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যেন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
এরইমধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কীভাবে এদের আইডিগুলো ট্র্যাক করা যাবে সেই বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
নতুন এ নির্দেশিকা অনুসারে, হিউম্যানয়েড রোবটের আইডিতে মোট চারটি অংশ থাকবে। যার মধ্যে প্রথম দুই ডিজিটের একটি কোড থাকবে আন্তর্জাতিক চালান ট্র্যাকিংয়ের জন্য। এরপর থাকবে চার ডিজিটের একটি কোড, যা দিয়ে রোবটটি কোন চীনা কোম্পানি তৈরি করেছে তা শনাক্ত করা যাবে।
পরের ছয় ডিজিটের প্রোডাক্ট কোডটি রোবটের ধরন বা টাইপ বুঝতে সাহায্য করবে এবং সবশেষ ১৭ ডিজিটের একটি সিরিয়াল কোড দিয়ে প্রতিটি নির্দিষ্ট রোবটকে আলাদাভাবে চেনা যাবে।
এ সিদ্ধান্ত চীনের ১০০টিরও বেশি প্রস্তুতকারক কোম্পানির ওপর প্রযোজ্য হয়েছে, যেখানে দুইশোটি মডেলের ২৮ হাজারেও বেশি হিউম্যানয়েড রোবটকে এমন একটি করে ডিজিটাল আইডি দেওয়া হয়েছে।
পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অ্যান্ড এমবডিড ইন্টেলিজেন্স স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে চীনে এসব হিউম্যানয়েড রোবট বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ল্যাব ও উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে দেশটি এখন বয়স্কদের সেবা ও ঘর পরিষ্কারের মতো বাণিজ্যিক বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যাপক পরিসরে এ রোবট নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পাশাপাশি, চীন তাদের হার্ডওয়্যার সরবরাহ ব্যবস্থাকে খুব দ্রুত সম্পূর্ণ নিজস্ব বা দেশীয় প্রযুক্তিতে রূপান্তর করছে। ফলে মার্কিন চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া’র চিপের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে এসেছে।
তবে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে চীনে ব্যবহৃত এসব হিউম্যানয়েড রোবট এখনও পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় কাজের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
বিভিন্ন ধরনের কাজ নিখুঁতভাবে ও সক্ষমতার সঙ্গে করতে যে ধরনের সূক্ষ্ম চটপটে ভাব দরকার তা প্রায়শই এসব রোবটের মধ্যে দেখা যায় না। এগুলোকে এখন বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষামূলক কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমাবদ্ধ কর্মসক্ষমতার কারণে মানুষের তুলনায় এসব রোবট কেবল আংশিকভাবে সফল বা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
‘গিগাইআই’, ‘ইউনিট্রি’ ও ‘অ্যাজিবট’-এর মতো কোম্পানিগুলো তাদের মূল হার্ডওয়্যার উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সম্প্রতি ঘরের কাজের জন্য চীনের প্রথম সাধারণ-ব্যবহারোপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে গিগাইআই।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, গিগাইআইয়ের ‘সিল্যার্ট এস১’ রোবটটি ‘হুবেই হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টার’ ও ‘হুবেই হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্স’-এর যৌথ সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে।
২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে রোববটটি উহানের বিভিন্ন পরিবারের কাছে বিনামূল্যে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে।
রোবট নির্মাতা কোম্পানিটি চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইচ্যাটে এক ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে, দুই হাত ও চাকাওয়ালা এ হিউম্যানয়েড রোবটটি তরকারি কাটা, ডিম ভাজা ও ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়ার মতো ঘরের নানা রকমের কাজ করছে।