১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদ অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নাসার আর্টেমিস ২ অভিযাত্রীরা

এর মাধ্যমে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর চাঁদের অভিমুখে প্রথম মানববাহী যাত্রার প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করলেন নভোচারীরা।

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Mar 2026, 11:26 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:16 PM

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর চাঁদে মানববাহী অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে নাসা। আর্টেমিস ২ মিশনের জন্য নির্বাচিত চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন।

রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের জন্য নির্বাচিত চারজন নভোচারী ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন। এর মাধ্যমে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর চাঁদের অভিমুখে প্রথম মানববাহী যাত্রার প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করলেন তারা।

নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন টেক্সাসের হিউস্টন থেকে নরথ্রপ টি-৩৮ জেটে করে নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আসেন।

সব ঠিক থাকলে ১ এপ্রিল নাসার বিশাল ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস রকেটে চড়ে তারা মহাকাশে যাত্রা করবেন।

মানুষকে মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুল। প্রায় ১০ দিনের এ মিশনে নভোচারীরা চাঁদকে ঘিরে উচ্চগতির এক চক্কর দিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেছেন, “দেশ ও গোটা বিশ্ব দীর্ঘ সময় ধরে আবারও চাঁদে যাওয়ার অপেক্ষা করছে। আমি ও আমার সহকর্মীরা এ অভিযানে যাওয়ার জন্য সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত।

“এর পেছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম, দারুণ এক সফর ও ফ্লোরিডার এই উষ্ণ আবহাওয়ায় আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

আর্টেমিস ২ হচ্ছে নাসার কয়েশ কোটি ডলারের ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের প্রথম মানববাহী মিশন। এ মিশনে মানুষ চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করবে না। তবে তা নভোচারীদের পৃথিবীর থেকে আগের যে কোনো মানব মহাকাশভ্রমণের তুলনায় আরও অনেক দূরে নিয়ে যাবে।

এ অভিযানের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা, ন্যাভিগেশন, যোগাযোগ ও তাপ নিরোধক শিল্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।

এসএলএস রকেটের মূল কাঠামোর প্রধান ঠিকাদার বোয়িং, ‘নরথ্রপ গ্রুম্যান’ হচ্ছে রকেটের সলিডফুয়েল বুস্টারের নির্মাতা এবং ওরিয়ন মহাকাশযানটি নির্মাণ করেছে ‘লকহিড মার্টিন’।

২০২৩ সালে নাম ঘোষণার পর থেকে এ মিশনের জন্য ক্রু সদস্যরা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ১৮ মার্চ থেকে তারা টেক্সাসের হিউস্টনে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে প্রি-ফ্লাইট কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।

মিশনের পাইলট গ্লোভার হবেন চাঁদের কাছাকাছি ভ্রমণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী। কোচ হবেন এ কৃতিত্ব পাওয়া প্রথম নারী, আর হ্যানসেন হবেন পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে যাওয়া প্রথম অ-মার্কিন নভোচারী।

হ্যানসেন বাদে ক্রু সদস্যদের সবারই এর আগে মহাকাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান গত বছর বলেছিলেন, ক্রু সদস্যরা যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছেন।

ওয়াইজম্যান বলেছেন, “পৃথিবী ছেড়ে রওনা হওয়ার সময় আমাদের হয়ত দ্রুত ফিরে আসতে হতে পারে। আবার হয়ত পৃথিবীর কক্ষপথে তিন-চার দিন সময় কাটাতে বা আমরা চাঁদে যেতে পারি, যেখানে যাওয়ার জন্য আমরা উন্মুখ হয়ে আছি। তবে মিশনটি পরীক্ষামূলক ও আমরা প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”

অভিজ্ঞ ক্রু

৫০ বছর বয়সী ওয়াইজম্যান ২০১৪ সালে রাশিয়ান সয়ুজ মহাকাশযানে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস ১৬৫ দিন কাটিয়েছিলেন।

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক এ টেস্ট পাইলট আর্টেমিস ২-এর কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে নাসার প্রধান নভোচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

৪৯ বছর বয়সী গ্লোভার ২০২০ সাল থেকে মহাকাশে ১৬৮ দিন অতিবাহিত করেছেন। তিনি নাসার ‘ক্রু-১’ মিশনের পাইলট ছিলেন, যা ছিল ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুল ব্যবহার করে পরিচালিত প্রথম আইএসএস মিশন।

নাসায় যোগদানের আগে মার্কিন নৌবাহিনীতে থাকাকালীন তিনি ৪০টিরও বেশি প্লেন চালিয়েছেন, যার মধ্যে যুদ্ধকালীন মোতায়েন ও টেস্ট পাইলটের দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৪৭ বছর বয়সী কোচ ২০১৯ সালে এক টানা ৩২৮ দিন মহাকাশ স্টেশনে থেকে কোনো নারীর দীর্ঘতম মহাকাশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছিলেন।

এর আগে, ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার ও পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে প্রশিক্ষিত কোচ নাসার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন ও অ্যান্টার্কটিকায় দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

মিশনটি ৫০ বছর বয়সী হ্যানসেনের জন্য প্রথম মহাকাশযাত্রা হতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে কানাডা থেকে নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

এ মিশনে তার অংশগ্রহণ মানব মহাকাশভ্রমণে মার্কিন-কানাডা দীর্ঘমেয়াদী পার্টনারশিপেরই প্রতিফলন, যার মধ্যে আইএসএসে ব্যবহৃত রোবোটিক্সে কানাডার অবদানও অন্যতম।

নাসা আগামী বছরগুলোতে আরও আর্টেমিস মিশনের পরিকল্পনা করছে। যার লক্ষ্য, চাঁদে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত ও ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানববাহী মিশন পরিচালনা করা।

আরও পড়ুন…

আর্টেমিস ২: যেভাবে তৈরি হল নাসার ইতিহাসের বৃহত্তম রকেট

আর্টেমিস ২: চাঁদে মানুষের যাত্রা পিছিয়ে গেল মার্চে