পিঁপড়াটি আসলে এক ধরনের বোলতা। এর কামড় এতটাই যন্ত্রণাদায়ক যে, এটি হুল ফোটালে মনে হয় যেন হাতের উপর গরম তেল ছড়িয়ে পড়েছে।
Published : 22 Mar 2025, 04:05 PM
‘স্কারলেট ভেলভেট অ্যান্ট’ নামে পরিচিত পিঁপড়াটি আসলে এক ধরনের বোলতা। এর কামড় এতটাই যন্ত্রণাদায়ক যে, এটি হুল ফোটালে মনে হয় যেন হাতের উপর গরম তেল ছড়িয়ে পড়েছে।
এ পিঁপড়ার বিষে মৃত্যু না ঘটলেও তীব্র জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি হয়, যার ফলে প্রাণীজগতের অন্যতম যন্ত্রণাদায়ক হুলে পরিণত হয়েছে এটি। কিন্তু এর কারণ কী?
বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘কারেন্ট বায়োলজি’র এক নতুন গবেষণায় এ রহস্যের সন্ধান মিলেছে।
ভেলভেট পিঁপড়ারা তাদের হুল মূলত শিকারকে হত্যা করার বদলে এদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করে। উজ্জ্বল লাল-কালো রঙের দেহের পাশাপাশি এদের হুল শিকারীদের দূরে থাকতেও সতর্ক করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।
দক্ষিণ ও পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া এসব পিঁপড়ারা শুকনো, বালুকাময় পরিবেশে বাস করে ও বেশিরভাগ সময় মধু বা পোকামাকড়ের হোস্ট বা পোষক খুঁজতে দেখা যায় এদের।
কীভাবে এদের বিষ কাজ করে তা বোঝার জন্য ফলের মাছি নিয়ে গবেষণা করেছেন গবেষকরা, যা জৈবিক গবেষণার জন্য খুব সাধারণ একটি মডেল।
গবেষকরা বলছেন, বিষটি দেহের ব্যথা সংবেদনশীল স্নায়ু কোষ অর্থাৎ ‘নোকিসেপ্টর’-এর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। এ স্নায়ু কোষের কাজ দেহে তাপ বা চাপের মতো ক্ষতিকর উদ্দীপনাকে শনাক্ত করা।
গবেষণায় এ পিঁপড়ার একটি মূল বিষের উপাদান শনাক্ত করেছেন গবেষকরা, যা ‘ডো৬এ’ নামের একটি পেপটাইড। পেপটাইড হচ্ছে অ্যামাইনো অ্যাসিডের ছোট চেইন, যা বিশেষভাবে দেহের বিভিন্ন আয়ন চ্যানেলকে সক্রিয় করে তোলে। এটি কোষের প্রোটিন, যা চার্জিত বিভিন্ন কণাকে চলাচলে সাহায্য করে ও স্নায়ু কোষের অনুভূতিকে ট্রিগার করে।
গবেষকরা বলছেন, পোকামাকড় ও স্তন্যপায়ী উভয় প্রাণীর মধ্যে একই আয়ন চ্যানেল রয়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যথা বা যন্ত্রণা প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতি একই রকম।
তবে পোকামাকড় ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ওপর ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে ভেলভেট পিঁপড়ার বিষ। পোকামাকড়ের যন্ত্রণাদায়ক বিভিন্ন স্নায়ু কোষকে জোরালোভাবে সক্রিয় করে তোলে ‘ডো৬এ’।
স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে ইঁদুরের ওপর বিষের পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখেছেন, অন্যান্য যৌগ যন্ত্রণায় সরাসরি কম সাড়া দেয় এটি। কেবল প্রকৃতির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুঝতেই গবেষকদের সহায়তা করে নি, বরং চিকিৎসা গবেষণাকেও প্রভাবিত করেছে এ গবেষণা।
ভেলভেট পিঁপড়ার বিষ নির্দিষ্ট ব্যথার স্নায়ুকে টার্গেট করে। তাই বিজ্ঞানীদের দাবি, মানুষের জন্য নতুন ব্যথার চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে এটি।
“ব্যথা রিসেপ্টরের সঙ্গে বিষ কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে তা বুঝতে পারলে ব্যথানাশক ওষুধ তৈরিতে সহায়তা করা যেতে পারে,” বলেছেন ‘ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি’র গবেষক লুয়ানা অ্যাসিস ফেরেইরা।
ভেলভেট পিঁপড়েরা বিস্ময়করভাবে এক নির্ভুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার থেকে আবারও ইঙ্গিত মেলে, রোমাঞ্চকর অভিযোজনে পরিপূর্ণ প্রকৃতি এবং এগুলো নিয়ে গবেষণা করলে নতুন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি মিলতে পারে।