Published : 10 Jan 2026, 02:37 PM
গেল ডিসেম্বরে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ৮৬০ কোটি ডলারের চুক্তি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ। এ চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য ২৫টি নতুন ‘এফ-১৫আইএ’ ফাইটার জেট ডিজাইন, পরীক্ষা ও তৈরি করবে বোয়িং।
এ ‘কস্ট-প্লাস-ফিক্সড-ফি’ নামের হাইব্রিড চুক্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ৮৬০ কোটি ডলার। ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘মার-এ-লাগো’ রিসোর্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পরপরই এ চুক্তির ঘোষণা এসেছে।
এ নতুন বরাদ্দটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিভিন্ন প্লেনের জন্য হওয়া প্রাথমিক ৫২০ কোটি ডলারের চুক্তিরই চূড়ান্ত রূপ। প্রকল্পটি মার্কিন ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে, যা ২০১৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইসরায়েলকে দেওয়া ৩৮০০ কোটি ডলারের এক সামরিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ।
২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত কার্যকর হবে এই প্যাকেজ, যা প্রতি বছরে ৩৮০ কোটি ডলার। এ ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ তহবিল ব্যবহার করে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সামরিক সরঞ্জাম, যেমন ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমানও কিনতে পারবে ইসরায়েল।
চুক্তির ঘোষণা অনুসারে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৪ কোটি ডলারের ‘ফরেন মিলিটারি সেলস’ তহবিল বরাদ্দ হয়েছে এবং এসব প্লেন সরবরাহের কাজ ২০৩৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর সামনে আরও ২৫টি ‘এফ-১৫আইএ’ যুদ্ধবিমান যোগের বিকল্প সুবিধা রয়েছে, যা গ্রহণ করলে চুক্তির সময়সীমা আরও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বর্তমান বহরে আরও ২৫ বা ৫০টি ‘এফ-১৫আইএ’ যুদ্ধবিমান যোগ হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ‘এফ-১৫’ওয়ালা সামরিক বাহিনী হবে না দেশটি। তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে দেশটির প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বোয়িংয়ের সর্বাধুনিক ‘এফ-১৫ইএক্স ঈগল’ যুদ্ধবিমানের ‘ইসরায়েল সংস্করণ’ হচ্ছে এই ‘এফ-১৫আইএ’। যার সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন ৮১ হাজার পাউন্ড, ডানার দৈর্ঘ্য ৪২.৮ ফুট ও সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রায় ম্যাক ২ দশমিক ৫।
আগের ‘এফ-১৫ডি’ মডেলের তুলনায় এই পরবর্তী প্রজন্মের ‘‘এফ-১৫আইএ’-এ ১৩ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত ওজন বহন সক্ষমতা ও প্রায় ২৭০ মাইল প্রতি ঘণ্টা বাড়তি গতি যোগ হয়েছে। এসব উন্নত বৈশিষ্ট্য মূলত ‘জেনারেল ইলেকট্রিক’-এর তৈরি এক জোড়া শক্তিশালী জেট ইঞ্জিনের কল্যাণে সম্ভব হয়েছে।
কোম্পানিটির এসব দুই ইঞ্জিনওয়ালা ‘এফ-১৫আইএ’ যুদ্ধবিমান মিসৌরির সেন্ট লুইসে তৈরি করবে বোয়িং। জায়াগাটি ঐতিহাসিক, কারণ ১৯৭২ সালে এখানেই ‘ম্যাকডোনেল ডগলাস’ প্রথমবারের মতো তাদের ‘এফ-১৫ ঈগল’ যুদ্ধবিমান জনসমক্ষে এনছিল।
১৯৯৭ সালে বোয়িং যখন ম্যাকডোনেল ডগলাসকে অধিগ্রহণ করে, ওই সময় থেকেই সেন্ট লুইসের এই ‘এফ-১৫’ কারখানা ও ম্যাকডোনেল ডগলাসের যাবতীয় প্রোগ্রামের দায়িত্ব বোয়িংয়ের হাতে চলে এসেছে।