মাস্কের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ টুইটার আইনজীবীদের

ইলন মাস্ক ‘ইচ্ছা করে, জেনে শুনে’ টুইটার অধিগ্রহণের সমঝোতা চুক্তি বাতিলের অবৈধ চেষ্টা করছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন টুইটারের আইনজীবীরা।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 July 2022, 01:34 PM
Updated : 12 July 2022, 01:34 PM

‘বিষের বড়ি’র উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড ক্যাটজ-কে নিয়োগ দিয়ে সোমবারেই নতুন শিরোনামের জন্ম দিয়েছে টুইটার।

মাস্ক চুক্তি বাতিলের নথিপত্র জমা দেওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)’র কাছে পাল্টা চিঠি লিখেছেন টুইটারের নতুন আইনজীবীরা। চিঠিতে ইলন মাস্কের চুক্তি ভাঙ্গার চেষ্টাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছেন, “মাস্ক এবং তার পক্ষের ব্যক্তিরা জেনে শুনে, ইচ্ছা করে, যথেচ্ছভাবে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছেন।”

সপ্তাহের শুরুতেই চার হাজার চারশ কোটি ডলারে টুইটার ক্রয়ের সমঝোতা চুক্তি বাতিল করার লক্ষ্যে এসইসির কাছে নথিপত্র জমা দিয়ে আবেদন করেছেন ইলন মাস্ক। আবেদনে মাস্কের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, টুইটার বট বা স্প্যাম অ্যাকাউন্ট নিয়ে মাস্কের চাহিদা মতো তথ্য সরবরাহ না করে সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

মাস্ক চুক্তি বাতিল করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টুইটার চেয়ারম্যান ব্রেট টেইলর টুইট করে বলেছিলেন, মাস্কের বিরুদ্ধে আদালতে যাবে তার কোম্পানি।

টুইটারের আইনজীবী দলের অন্তত দুজন সদস্য আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছেন তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে। এর মধ্যে উইলিয়াম সাভিটের পরিচিতি আছে ডেলাওয়্যারের আদালতে অ্যানথেম এবং সুথবাইয়ের মতো কোম্পানির হয়ে আদালতে লড়াইয়ের জন্য।

আর ডেলাওয়্যার চ্যান্সেরি কোর্টের সাবেক চ্যান্সেলর ছিলেন লিও স্ট্রাইন। অঙ্গরাজ্যটির আদালতে ২০ বছর বিচারকের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে তার; রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

চুক্তির বাতিল করার কারণ হিসেবে মাস্ক দাবি করছেন, টুইটার নিজ প্ল্যাটফর্মের স্প্যাম বা বট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা নিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে। মাস্ক নিজে ক্রয় প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই টুইটার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্প্যাম অ্যাকাউন্টের বিড়ম্বনা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন।

কিন্তু টুইটার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছে না বলে দাবি করেন মাস্ক। আর টুইটার বলছে, মাস্ককে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছে তারা।

একশ কোটি ডলার সমমূল্যের একটি ‘ব্রেকাপ ফি’ এবং ‘পারফর্মেন্স’ সম্পর্কিত একটি ধারার কথাও উল্লেখ রয়েছে সমঝোতা চুক্তির বিবরণীতে।

চুক্তির শর্ত ভঙ্গের জন্য কে দায়ী, সেই প্রশ্নের উত্তরই বলে দিতে পারে কোন পক্ষ অপর পক্ষের কাছে বেশি অর্থ পাবে। সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, এই পুরো ঘটনাটিই মাস্কের ‘সামাজিক মাধ্যমটিকে চাপে ফেলে দাম কমানোর’ একটি চেষ্টা।

এই ঘটনার পর থেকেই টুইটার শেয়ারের দাম কমতে শুরু করেছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য কমেছে ১১ শতাংশ। এতে মাস্ক তার তুলনামূলক কম দামে মাধ্যমটি কেনার চেষ্টায় সফল হতে পারেন বলে ধারণা করছে ভার্জ।

মার্কিন প্রকাশনা ব্লুমবার্গের লেখক ম্যাট লিভাইন বলছেন, সমঝোতা চুক্তিতে জরিমানার কথা উল্লেখ থাকায় মাস্ককে চুক্তি সম্পন্ন করতে বাধ্য করার পাশাপাশি মামলার রায় বিপক্ষে গেলে তাকে আরও বেশি জরিমানা করতে পারে আদালত।

সমঝোতা চুক্তি নিয়ে টুইটারের আপাতত অবস্থান, “চুক্তিটি বাতিল হয়নি।”

এর বিপরীতে স্বভাবতই টুইট করে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক।