ব্রেইন-চিপ প্রযুক্তিতে মাস্ককে পেছনে ফেলার দৌড়ে চীন
চীনের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ব্রেইন-চিপ স্টার্টআপ কোম্পানি এরইমধ্যে তাদের তৈরি ডিভাইস বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে।
ইলন মাস্কের ব্রেইন চিপ কোম্পানি নিউরালিংক’কে টেক্কা দিতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে চীন।
বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন-চিপ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও মানব মস্তিষ্কের মেলবন্ধনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে দেশটি।
চীনের স্থানীয় প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, দেশটির কর্তৃপক্ষ ইলন মাস্কের নিউরালিংকের মতোই ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেইস বা বিসিআই উন্নত করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে চীনের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ব্রেইন-চিপ স্টার্টআপ কোম্পানি এরইমধ্যে তাদের তৈরি ডিভাইস বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে।
পাশাপাশি, বিভিন্ন বীমা কোম্পানিও এ চিপ বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জটিল অস্ত্রোপচারের খরচ বহনে তাদের প্রথম বাণিজ্যিক পলিসি ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
মস্তিষ্কে একবার প্রতিস্থাপন করা হলে বিসিআই ডিভাইস ব্যবহারকারীর চিন্তাভাবনাকে ডিজিটাল বা শারীরিক পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারে, যেমন কম্পিউটার বা কোনো রোবোটিক শরীর নিয়ন্ত্রণ করা।
এ বছরের শুরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বিসিআই ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন।
এ ছাড়া, বেইজিং তাদের সর্বশেষ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এ প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান কৌশলগত শিল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, বাজারে বিক্রির অনুমোদন পাওয়া সবশেষ ডিভাইসটি হচ্ছে ইলেকট্রোডওয়ালা একটি ক্যাপ, যা তিয়েনজিনভিত্তিক কোম্পানি ‘তিয়েনকাই সুইশি ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি’ তৈরি করেছে।
এরইমধ্যে বিক্রি শুরু হওয়া এ ক্যাপটি চিকিৎসকদের একজন রোগীর মানসিক বা জ্ঞানীয় সক্ষমতা মূল্যায়ন ও রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করবে।
এর আগে, মুদ্রা আকারের নিউরালিংক ডিভাইসটিকে ‘মাথার খুলির ভেতর এক ফিটবিট’ হিসেবে বর্ণনা করে মাস্ক দাবি করেছিলেন, এর ভবিষ্যৎ বিভিন্ন সংস্করণ ব্যবহারকারীকে এআইয়ের সঙ্গে এক ধরনের নিবিড় মেলবন্ধন তৈরিতে সাহায্য করবে।
গেল বছর এক অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেছেন, “এমন সময় আসতে পারে যখন আপনি নিজের স্মৃতিকথা আপলোড করে রাখতে পারবেন এবং নিজের একটি ‘সেভড ভার্সন’ তৈরি করতে পারবেন, যা পরে কোনো রোবট বা আপনার নিজের ক্লোন করা দেহে ডাউনলোড করা যাবে।
“আমি সত্যিই সায়েন্স ফিকশনের জগতে ঢুকে পড়েছি... তবে আমি বিশ্বাস করি এমন ধরনের বিষয় সম্ভব হবে, যা মানুষকে এক ধরনের অমরত্ব দেবে।”
গেল বছরের অক্টোবরে নিউরালিংক বলেছে, তাদের ব্রেইন-চিপ প্রযুক্তির ট্রায়ালে অংশ নিতে ১০ হাজারের বেশি মানব পেশেন্ট রেজিস্ট্রি বা রোগীর তালিকায় নিবন্ধন করেছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, এরইমধ্যে ২৬ জন রোগীর মস্তিষ্কে নিউরালিংকের ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস ডিভাইস বসানো বা ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রথম দিকের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ‘অ্যামাইওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস’ বা এএলএস আক্রান্ত রোগী ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
এসব ট্রায়ালে প্রমাণ মিলেছে, চিপটির মাধ্যমে মানুষের ভাবনার সাহায্যে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোবোটিক অঙ্গপ্রতঙ্গও সঞ্চালন করা সম্ভব।
ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিউরালিংক বলেছিল, “আমাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের পরিধি বাড়িয়ে সহকারী রোবোটিক আর্মের মতো শারীরিক যন্ত্রপাতির ওপর প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিউরালিংকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ডিভাইসের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।”
এ বছরের শুরুতে বেইজিং সমর্থিত স্টার্টআপ ‘নিউসাইবার নিউরোটেক’ বলেছে, তাদের তৈরি সবচেয়ে উন্নত পণ্যটি সক্ষমতার দিক থেকে নিউরালিংকের চেয়ে এখনও প্রায় তিন বছর পিছিয়ে রয়েছে।
