Published : 23 Dec 2025, 08:15 PM
বিদেশে তৈরি ড্রোন ও এর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ হচ্ছে এসব পণ্য।
এক বিজ্ঞপ্তিতে এফসিসি বলেছে, বিদেশে তৈরি ড্রোন বা ‘আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম’ বা ইউএএস ও সেগুলোর যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে– এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দেশটির বেশ কয়েকটি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা।
সংস্থাটি বলেছে, “ইউএএস ও এর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলো অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে হবে। ড্রোন প্রযুক্তি মূলত দ্বিমুখী ব্যবহারের জন্য উপযোগী। এগুলো যেমন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়, তেমনি সামরিক বা আধাসামরিক নজরদারি ও অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।
“বিদেশে তৈরি ড্রোন ও এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যেমন তথ্য আদান-প্রদানকারী ডিভাইস, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফ্লাইট কন্ট্রোলার, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন, ন্যাভিগেশন সিস্টেম, ব্যাটারি ও মোটর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী নজরদারি, তথ্য চুরি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশ্বকাপ ফুটবল, অলিম্পিক গেইমস ও অন্যান্য বড় জনসমাবেশের জায়গায় এগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
এক এক্স পোস্টে এফসিসি’র চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা পুরানো বিভিন্ন ড্রোনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। যারা এরইমধ্যে ড্রোন কিনেছেন, তারা সেগুলো আগের মতোই ব্যবহার করতে পারবেন।
অন্যদিকে, এরইমধ্যে এফসিসি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এমনসব ড্রোনের মডেল বিক্রি চালিয়ে যেতে পারবেন খুচরা বিক্রেতারা। নতুন নিয়মটি কেবল ভবিষ্যতে বাজারে আসবে এমন বিভিন্ন মডেলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেছেন, আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ চাইলে বিশেষ কোনো নতুন মডেল, নির্দিষ্ট শ্রেণির ড্রোন বা বিশেষ কোনো যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির অনুমতি দিতে পারবে।
এফসিসি নির্দিষ্ট করে কোনো কোম্পানির নাম না নিলেও এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পরতে যাচ্ছে বিশ্বে ড্রোন উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি ডিজেআই।
এফসিসির এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে চীনা কোম্পানিটি।
কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, “ডিজেআইয়ের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করেনি সংস্থাটি। তবে মার্কিন সরকার কোন তথ্যের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, সে ব্যাপারেও কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।”
দীর্ঘদিন ধরেই ডিজেআই মার্কিন সরকারের কড়া নজরে রয়েছে এবং কোম্পানিটি বারবার প্রমাণের চেষ্টা করে আসছে, তাদের বিভিন্ন পণ্য মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়।
ডিজেআই আরও বলেছে, “বাজারের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে ডিজেআইয়ের পণ্য অন্যতম। বছরের পর বছর ধরে মার্কিন সরকারি সংস্থা ও স্বতন্ত্র বিভিন্ন থার্ড পার্টির মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন পর্যালোচনায় এর প্রমাণ মিলেছে।
“ডিজেআইয়ের ডেটা বা তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে যেসব উদ্বেগ দেখানো হচ্ছে, তার কোনোটারই বাস্তব ভিত্তি বা প্রমাণ নেই, বরং দেশটির মুক্ত বাজারের নীতির পরিপন্থী এক সংরক্ষণবাদী আচরণেররই প্রতিফলন যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ।”