এআই অবকাঠামোর রেকর্ড চাহিদায় কম্পিউটাসেন্টারের মুনাফা দ্বিগুণ
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানিকে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কম্পোনেন্ট, ডেটা স্টোরেজ এবং নেটওয়ার্কসহ নানা আইটি সেবা দেয় কম্পিউটাসেন্টার।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সিস্টেম পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টার যন্ত্রপাতির বাড়তি চাহিদা সফলভাবে কাজে লাগানোর ফলে প্রযুক্তি সেবাদাতা কোম্পানি কম্পিউটাসেন্টারের মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এ বছরের প্রথমার্ধে উত্তর আমেরিকা বাজারে তাদের রেকর্ড আর্থিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ‘লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ’-এর তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি বলেছে, নতুন ও পুরানো গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া ‘এআই-সংক্রান্ত অবকাঠামোসহ ডেটা সেন্টারের চাহিদা’ এ সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানিকে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কম্পোনেন্ট, ডেটা স্টোরেজ এবং কানেক্টিভিটিসহ প্রয়োজনীয় আইটি অবকাঠামো ডিজাইন, সংগ্রহ ও বাস্তবায়নের সেবা দেয় কম্পিউটাসেন্টার।
কোম্পানিটির তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের কর-পূর্ববর্তী মুনাফা ৯৫ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি, বছরের ব্যবধানে তাদের মোট রাজস্ব ৭৩ শতাংশ বেড়ে ৬৮০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে।
বিদেশি বাজারে চাহিদার এ উল্লম্ফনের ফলে কোম্পানিটির সমন্বিত অপারেটিং লাভের ৬২ শতাংশই এসেছে উত্তর আমেরিকা বাজার থেকে, যা আগের বছর ছিল কেবল ৪৪ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যেও তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতি পেয়েছে। এআই-সংক্রান্ত অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজের সুবাদে গ্রুপের প্রযুক্তি সোর্সিং বিভাগের রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় তিন গুণ হয়েছে।
শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে এ বছরের জুনে ‘এফটিএসই ২৫০’ থেকে ‘এফটিএসই ১০০’ ইনডেক্সে উন্নীত হওয়া কম্পিউটাসেন্টার বলেছে, তাদের অনেক গ্রাহক এখন নিজেদের আইটি খাতের বাজেট পুনর্বিন্যাস করে তা বিভিন্ন এআই প্রকল্পের পেছনে ব্যয়ের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।
মেমোরি চিপের বহুল আলোচিত সরবরাহ সংকট ও চড়া চাহিদার কারণে এ অবকাঠামো পরিচালনার যন্ত্রপাতির দাম বেড়েছে, যা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে, বলেছে প্রযুক্তি সেবাদাতা কোম্পানি কম্পিউটাসেন্টার।
অ্যামাজন, মেটা ও গুগলের মতো বড় ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী কোম্পানি বা ‘হাইপারস্কেলারদের’ কারণে এসব যন্ত্রপাতির চাহিদা এখন তুঙ্গে।
কম্পিউটাসেন্টার বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা, খুচরা বিক্রি, ব্যবসায়িক সেবা ও সরকারি খাতসহ বিভিন্ন খাতে তাদের অধিকাংশ বড় গ্রাহকের কাছ থেকেই তারা আগের চেয়ে বেশি আয় করছে।
কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী মাইক নরিস বলেছেন, এটা ব্যবসার জন্য ‘রেকর্ড প্রথমার্ধ’ ছিল এবং তারা অন্তত ৩৮ কোটি পাউন্ড পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক কর-পূর্ববর্তী মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন।
“উত্তর আমেরিকা আবারও ভালো পারফর্ম করেছে, যেখানে অপারেটিং প্রফিট দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। হাইপারস্কেল, নিওক্লাউড ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসার প্রবৃদ্ধির সুবাদে এ অঞ্চল এখন গ্রুপের সমন্বিত অপারেটিং লাভের ৬০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে।
“পাশাপাশি, আমাদের যুক্তরাজ্য ব্যবসার গতি বাড়তে দেখাটা আনন্দদায়ক। জার্মানিতেও আমাদের মৌলিক ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স বেশ শক্তিশালী।”
