নিজেকে উচ্চ তাপমাত্রা থেকে নিরাপদ রাখতে মহাকাশযানটির বেশ কিছু অংশ হারাতেও হয়েছে। এমনকি রকেটের অবতরণ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এর একটি ডানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
Published : 07 Jun 2024, 03:21 PM
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট স্টারশিপের সফল উৎক্ষেপন ও প্রায় নিরাপদ অবতরণ সম্পন্ন করেছে ইলন মাস্ক মালিকানাধীন রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স।
রকেটটি উৎক্ষেপিত হয়েছিল টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্স’র নিজস্ব লঞ্চপ্যাড স্টারবেইজ থেকে। এর বুস্টারটি রকেটের মূল অংশ থেকে আলাদা হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠে নেমেছে। আর রকেটটি পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে পানিতে পড়ার মাধ্যমে একটি ‘ল্যান্ডিং বার্ন’ সম্পন্ন করেছে।
ল্যান্ডিং বার্ন হল রকেট ইঞ্জিনের নিয়ন্ত্রিত, টেকসই ফায়ারিং, যা রকেটের গতি কমাতে ও এর নিরাপদ অবতরণের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।
এ ছাড়া, নিজেকে উচ্চ তাপমাত্রা থেকে নিরাপদ রাখতে মহাকাশযানটির বেশ কিছু অংশ হারাতেও হয়েছে। এমনকি রকেটের অবতরণ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এর একটি ডানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, রকেটটি যেন সমুদ্রেই অবতরণ করে, তা ঠিকই নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে স্পেসএক্স।
“রকেটের একটি ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এর বেশ কিছু অংশ হারিয়ে ফেলার পরও স্টারশিপ সমুদ্রপৃষ্ঠে সফলভাবে ‘সফট ল্যান্ডিং’ করতে পেরেছে!” এক্স-এ লেখেন মাস্ক।
“এ অভূতপূর্ব অর্জনের জন্য স্পেসএক্স দলকে অভিনন্দন!”
স্টারশিপের আগের উৎক্ষেপণ পরীক্ষাগুলোয় রকেটটি পুরোপুরি ধ্বংস হতে দেখা গেছে, বিশেষ করে মিশনের শেষ পর্যায়ের দিকে।
কোম্পানি বলেছে, তারা ‘শিগগিরই’ স্টারশিপের পরবর্তী টেস্ট মিশন পরিচালনা করবে।
রকেটটির চতুর্থ উৎক্ষেপণ পরীক্ষা ছিল এটি। নাসা ও মাস্কের আশা, এর মাধ্যমে পরবর্তীতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো যাবে।
প্রাথমিক এ পরীক্ষামূলক ভ্রমণে রকেটটি একেবারে খালি ছিল, যেখানে চারশ ফুট উচ্চতার এই মহাকাশযানটি মেক্সিকো উপসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে পরবর্তীতে পূর্বের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
পরিকল্পনা মাফিক মিশনের প্রথম পর্যায়ে বুস্টারটি রকেটকে আকাশের দিকে ঠেলে নিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে রকেটের মূল অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়।
“আর আমরা এখন একটি স্প্ল্যাশডাউন দেখতে পাচ্ছি!” বুস্টার অবতরণের সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কোম্পানির সদর দপ্তরের মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে বলেন স্পেসএক্স-এর ধারাভাষ্যকার কেইট টাইস।
স্টারশিপের সুপার হেভি বুস্টারকে লঞ্চ সাইটে পুনর্ব্যবহার করার লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল কোম্পানির পরিকল্পনায়।
পরবর্তীতে নিজের যাত্রা অব্যাহত রেখেছে স্টারশিপ, যেখানে পৃথিবীর অর্ধেক অংশ প্রদক্ষিণ শেষে ভারতীয় মহাসাগরে অবতরণ করে রকেটটি।
স্পেসএক্স-এর দাবি, এ অবতরণ পরিকল্পনা মাফিকই হয়েছে, যেখানে পানিতে অবতরণ করার আগে সফলভাবেই ল্যান্ডিং বার্ন সম্পন্ন করেছে স্টারশিপ।
এর আগে মার্চের উৎক্ষেপণ পরীক্ষাটিও সফলতার কাছাকাছি পর্যায়ে ছিল। তবে, রকেটের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলায় এটি মহাকাশে বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল স্পেসএক্স। এমনকি মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণের আগ মূহুর্তে এর বুস্টারটিও ফেটে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে রকেটের সফটওয়্যার আপগ্রেড ও এর কিছু খুঁটিনাটি পরিবর্তন করে স্পেসএক্স, যাতে মিশনটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।