১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নিজের বিশৃঙ্খলার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাচ্ছে অ্যাপল’: ওপেনএআই

চাকরি ছাড়ার পরপরই কর্মীদের দ্রুত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার যে সংস্কৃতি অ্যাপলের রয়েছে তার কারণে কর্মীরা দাপ্তরিক ডিভাইস ফেরত দেওয়া ও নতুন কারো কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পান না।

‘নিজের বিশৃঙ্খলার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাচ্ছে অ্যাপল’: ওপেনএআই
নিজস্ব হার্ডওয়্যার প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে অ্যাপল থেকে প্রায় চারশ কর্মী নিয়োগ দিয়েছে ওপেনএআই। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 03:15 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

বাণিজ্যিক প্রাইভেসি চুরির মামলায় অ্যাপলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো তাদের নীতির গলদকেই দায়ী করেছে ওপেনএআই।

রয়টার্স লিখেছে, সাবেক কর্মীদের তথ্য চুরির পেছনে অ্যাপলের নিজস্ব অগোছালো ব্যবস্থাকে দায়ী করে স্যান হোসের আদালতে কড়া অবস্থান নিয়েছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা কোম্পানিটি।

ওপেনএআইয়ের দাবি, তাদের সাবেক কোনো কর্মী অ্যাপলের প্রাইভেসি তথ্য চুরি করেছেন এমন কোনো প্রমাণই পেশ করতে পারেনি আইফোন নির্মাতা কোম্পানি অ্যাপল।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সোমবার দাখিল করা নথিতে ওপেনএআই বলেছে, “বিতর্কটি অ্যাপলের নিজেরই তৈরি করা এক জটলা। তারা নিজেদের দোষ অন্যদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে।”

কনজিউমার ডিভাইসের বাজারে ওপেনএআই ঢোকার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যে গেল জুলাইয়ে স্যান হোসের আদালতে একটি মামলা করেছে অ্যাপল। মামলায় ওপেনএআইয়ের পাশাপাশি অ্যাপলের সাবেক দুই কর্মী ট্যাং তান ও চ্যাং লিউকে বিবাদী করা হয়।

অ্যাপলের অভিযোগ, হার্ডওয়্যার নকশা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সাপ্লাই-চেইন সংক্রান্ত সংবেদনশীল বাণিজ্যিক প্রাইভেসি হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানিটির পাল্টা অভিযোগ, তাদের মতো একজন উদীয়মান প্রতিদ্বন্দ্বীকে থামিয়ে দিতে ও কর্মীদের চাকরি ছাড়া নিরুৎসাহিত করতে মামলার পথ বেছে নিয়েছে অ্যাপল।

আদালতকে দুই পক্ষই বলেছে, নিজস্ব হার্ডওয়্যার প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে অ্যাপল থেকে প্রায় চারশ কর্মী নিয়োগ দিয়েছে ওপেনএআই।

চ্যাটজিপিটি নির্মাতা কোম্পানিটির যুক্তি, ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুসারে একজন কর্মী এক প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে নির্দ্বিধায় যোগ দিতে পারেন।

ঘটনাটি দুই হেভিওয়েট কোম্পানির সম্পর্ককে নাটকীয় এক বৈরিতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। অথচ দুই বছর আগেও চ্যাটজিপিটির ব্যবহার বাড়ানো ও এআইয়ের বাজারে অ্যাপলকে শক্ত ভিত্তি দিতে দুই কেবাম্পানির মধ্যে গড়ে উঠেছিল কৌশলগত পার্টনারশিপ।

বিশ্বজুড়ে এআই শিল্পে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরুর পরপরই অ্যাপল ও ওপেনেএআইয়ের সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।

মামলায় অ্যাপলের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবসায়িক প্রাইভেসি রপ্ত করাই ছিল অ্যাপল কর্মীদের ভাগিয়ে নেওয়ার পেছনে ওপেনএআইয়ের মূল কৌশল। অ্যাপল ছেড়ে যাওয়ার পরও তান ও লিউ অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নথিতে প্রবেশ করেছিলেন বলেও আদালতে দাবি করেছে অ্যাপল।

অ্যাপলের নিজস্ব নীতিমালার কারণেই কোম্পানি ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের পক্ষে ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক তথ্য আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আদালতে দাখিল করা নতুন নথিতে এমন দাবি করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই।

তাদের যুক্তি, অ্যাপল নিজেই তার কর্মীদের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন ও ফাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করে।

সোমবার আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ওপেনএআই বলেছে, চাকরি ছাড়ার পরপরই কর্মীদের দ্রুত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার যে সংস্কৃতি অ্যাপলের রয়েছে তার কারণে কর্মীরা দাপ্তরিক ডিভাইস ফেরত দেওয়া, অভ্যন্তরীণ ফাইল হস্তান্তর বা নতুন কারো কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পান না।

এ মামলার অন্যতম বিবাদী ও অ্যাপলের সাবেক কর্মী চ্যাং লিউ নথিতে বলেছেন, অ্যাপল ছাড়ার পর তিনি যেসব ফাইলে প্রবেশ করেছিলেন তা কেবল সাবেক সহকর্মীদের প্রয়োজনীয় নথি খুঁজে পেতে ও কাজের সুবিধার্থে সহায়তার উদ্দেশ্যেই করেছিলেন।

লিউয়ের দাবি, চাকরি ছাড়ার পর অ্যাপলের কর্মীরাই সহায়তার জন্য বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

অন্যদিকে, অ্যাপলে দীর্ঘ ২৪ বছর কাজ করা আরেক সাবেক কর্মকর্তা ট্যাং তান বলেছেন, কোম্পানি ছাড়ার আগেই তিনি অ্যাপলের যাবতীয় প্রোটোটাইপ ফেরত দিয়েছেন। তিনি কেবল বাণিজ্যিক ও প্রকাশযোগ্য নয় এমন নথি নিজের কাছে রেখেছিলেন, যার মধ্যে একটি ‘এমপ্লয়ি ডিপারচার চেকলিস্ট’ ছিল, যা কোনোভাবেই গোপন নথির পর্যায়ে পড়ে না।

মামলার নথিতে অ্যাপলের নীতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে ওপেনএআই বলেছে, “কর্মীরা অ্যাপলের মতো একটি কোম্পানি, যা এআই প্রযুক্তিতে খাপ খাইয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে তা ছেড়ে নতুন উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করা প্রতিশ্রুতিশীল কোনো স্টার্টআপে যোগ দিতেই পারেন।

“অ্যাপল হয়ত কর্মীদের এসব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না। তবে সেগুলোকে বেআইনি বলা বা নিজেদের অগোছালো ব্যবস্থার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর কোনো সুযোগ অ্যাপলের নেই।”