Published : 22 Jul 2025, 04:21 PM
অ্যাপল ব্যবহারকারীদের এনক্রিপ্টেড ক্লাউড পরিষেবায় প্রবেশের জন্য এ বছরের শুরুতে কোম্পানিটির কাছে একটি ব্যাকডোর তৈরির দাবি জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য। তবে ওই দাবি থেকে এখন পিছু হটতে পারে দেশটি।
ওয়াশিংটনের চাপের কারণে ব্রিটিশ সরকার হয়ত তাদের সেই দাবি থেকে সরে আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপলকে অনুরোধ করেছিল, তারা যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থাকে তাদের গ্রাহকদের গোপন তথ্যে বা এনক্রিপ্ট করা মেসেজে প্রবেশাধিকার দেয়।
ওই সময় সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল মার্কিন আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজার থেকে নিজেদের উন্নত তথ্য সুরক্ষা সেবাও সরিয়ে নিয়েছিল অ্যাপল। সরকারের এমন দাবি বাতিলের জন্য পাল্টা আইনি পদক্ষেপও নিয়েছে কোম্পানিটি।
যুক্তরাজ্যের ‘ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ারস ট্রাইব্যুনাল’-এ আপিল করেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটি। ‘ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ারস ট্রাইব্যুনাল’ স্বাধীন এক আদালত, যার নিরাপত্তা পরিষেবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা রয়েছে।
কোম্পানিটি যুক্তি দিয়েছিল, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত প্রাইভেসি হচ্ছে অ্যাপলের ‘মূল আদর্শগুলোর’ একটি।
ওই সময় পুরো বিষয়টিকে তথ্য প্রাইভেসি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কোম্পানি ও যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যে নজিরবিহীন দ্বন্দ্বের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনা বলে প্রতিবেদনে লিখেছিল বিবিসি।
ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, যুক্তরাজ্য সরকারের একাধিক সূত্র মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স’সহ ওয়াশিংটনের চাপের কারণে আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে, ভ্যান্স বলেছিলেন, ‘নিজ দেশের নিরাপত্তার জন্য হলেও নিজেদের প্রযুক্তি নেটওয়ার্কে ব্যাকডোর তৈরির’ ধারণাটিকে ‘পাগলামি’ বলে মনে করেন তিনি। কারণ শত্রুরা সেটার সুযোগ নিতে পারে।
একজন হোয়াইটহল সূত্রের বরাত দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মূলত পিছু হটতেই হবে।” আরেকজন বলেছেন, “তারা এখন এ বিষয়টিকে ঘিরে কোনও বিকল্প উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য গার্ডিয়ানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
‘ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ নামের আইনের অধীনে অ্যাপলকে একটি ‘টেকনিক্যাল ক্যাপাবিলিটি নোটিশ’ পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এর জবাবে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে নিজেদের ‘অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন’ বা এডিপি সেবা প্রত্যাহার করে নিয়ে অ্যাপল বলেছিল, “আমরা কখনোই আমাদের কোনো পণ্যে বা সেবায় ব্যাকডোর বা মাস্টার কি তৈরি করিনি, কখনো করবও না।”
এডিপি’র মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাউড সার্ভারে ব্যবহারকারীদের আপলোড করা ব্যক্তিগত ডেটা সংরক্ষণ ও তা এনক্রিপ্টটেড করে অ্যাপল। বিশ্বের সব জায়গায় এটি পাওয়া যায় এবং এর মাধ্যমে আইক্লাউড ড্রাইভ ও ব্যাকআপ, নোটস, ওয়ালেট পাস, রিমাইন্ডার’সহ অন্যান্য সেবার জন্য ব্যবহারকারীদের ‘এন্ড টু এন্ড’ এনক্রিপশন সুরক্ষাও দেয়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাকডোর তৈরির দাবির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে অ্যাপল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চেয়েছিল এ মামলা গোপন রাখা হোক। তবে বিচারকরা আদেশ দিয়েছেন, এ মামলার শুনানি রুদ্ধদ্বার হবে না।
গার্ডিয়ান লিখেছে, সরকার যুক্তরাজ্যকে এমন এক জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে, যেখানে মার্কিন বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
কিছু মন্ত্রীরা বলছেন, এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা অপরাধীদের, বিশেষ করে শিশু নির্যাতকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তবে ভিন্ন একটা মতবাদ বলছে, ব্যাকডোরের দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা লেবার পার্টির দলের বাণিজ্য নীতির গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ হতে পারে।