Published : 09 Sep 2025, 02:36 PM
চীনের বিভিন্ন বড় অনলাইন কোম্পানি বিক্রির বাড়াতে দাম কমিনোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তবে ভয়ের কথা হল, ‘দাম কমানোর এ যুদ্ধ’ কোম্পানিগুলোকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
এ পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব বা মূল্য পতনের চাপ বাড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
এক ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার বাজারে নিজেদের দখল বাড়াতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ডিসকাউন্ট ও কুপন দিচ্ছে চীনের আলিবাবা, মেইতুয়ান ও ‘জেডি ডটকম’-এর মতো বিভিন্ন কোম্পানি। এতে তাদের অর্থ খরচ হচ্ছে অনেক আর সেই সাথে কমে যাচ্ছে লাভের পরিমাণ। ফলে, এ ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিনিয়োগকারীরা।
চীনে লাগাতার অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে মানুষ কেনাকাটায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। আর সেখান থেকে ক্রেতাদের বাজারমুখী করতে দেওয়া এসব বড় ছাড় ও ভর্তুকি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকারও। ফলে চীনের নিয়ন্ত্রক বিভিন্ন সংস্থার নজরেও পড়েছে কোম্পানিগুলো।
গত কয়েক সপ্তাহে তিন মাসের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনের বিভিন্ন ই কমার্স ও খাবার সরবরাহ কোম্পানি। এসব আয়ের হিসাব প্রকাশের পর বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতার বিষয়টি।
‘জেডি ডটকম’-এর সিইও স্যান্ডি সু সতর্ক করে বলেছেন, বাজারে চলছে এমন এক ‘অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, যা আদতে ‘দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়’। এদিকে, ‘মেইতুয়ান’-এর সিইও ওয়াং শিং বলেছেন, এখন প্রতিযোগিতা ‘নতুন এক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। আর ‘পিডিডি হোল্ডিংস’-এর সহসিইও ঝাও জিয়াঝেন বলেছেন, পুরো প্রান্তিকজুড়েই এই প্রতিযোগিতা ‘আরও তীব্র হয়েছে’।
এ বছরের শুরুতে প্রতিযোগিতার প্রথম ধাক্কা এসেছে ‘জেডি ডটকম’-এর কাছ থেকে। কারণ ‘মেইতুয়ান’ কোম্পানির পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন হয়ে নিজেদের প্রধান খাবার সরবরাহ ব্যবসার সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন একটি অ্যাপ চালু করে ‘জেডি ডটকম’। এরপর আলিবাবাও একই পথে হাঁটে ও নিজেদের ফুড ডেলিভারি অ্যাপে ‘ইলে.মি’তে বিনিয়োগ আরও বাড়ায়।
তিনটি কোম্পানিই বাজারে শেয়ার বা গ্রাহক ও বিক্রির অংশ দখল করতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
‘নোমুরা’র বিশ্লেষকরা বলেছেন, কেবল দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনে এ খাতে চারশ কোটির বেশি ডলার খরচ হয়েছে। এতে পুরো খাতজুড়ে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা ‘ক্যাশ বার্ন’ হিসেবে বিবেচিত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
‘ইউবিএস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক’-এর চীনা ইন্টারনেট গবেষণা বিভাগের প্রধান কেনেথ ফং বলেছেন, “পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে, যেন বিষয়টি এক ধরনের ‘বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা’র খেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে যে কোম্পানি আগে পিছু হটবে তাদের আগের সব বিনিয়োগই নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের ধারণা এ তীব্র প্রতিযোগিতা অন্তত নভেম্বরে সিঙ্গলস ডে উৎসব পর্যন্ত চলতেই থাকবে।”
‘এসএন্ডপি গ্লোবাল’-এর বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে খাবার সরবরাহ ও তাৎক্ষণিক খুচরা বিক্রির বাজার ধরে রাখতে বা বাড়াতে অন্তত ১৬ হাজার ইউয়ান খরচ করবে মেইতুয়ান, জেডি ডটকম ও আলিবাবা।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, লাভে বড় রকমের নিম্নমুখী সংশোধন আসতে পারে ও আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে লাভের হার আবার আগের অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা খুব কম।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মেইতুয়ান। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই আসে খাবার সরবরাহ থেকে। এদিকে, ‘জিড ডটকম’ তাদের খাবার সরবরাহ খাতে এতটা ক্ষতি মেনে নিয়েছে যে, তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের লাভ প্রায় পুরোপুরি মুছে গিয়েছে।
তবে চীনা ই কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ‘তাৎক্ষণিক খুচরা বিক্রি’র বিষয়টি তাদের মোট ব্যবসার কেবল ছোট একটি অংশ।