১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

৫০ বছর পর নতুন সেটিংয়ে সচল নাসার ভয়েজার ২

নাসার পরিকল্পনা সফল হওয়ায় ভয়েজার ২-এর অবশিষ্ট তিনটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র আগামী বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে মহাকাশের তথ্য সংগ্রহ করে যেতে পারবে।

৫০ বছর পর নতুন সেটিংয়ে সচল নাসার ভয়েজার ২
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্লুটোনিয়াম ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে মহাকাশযানটি প্রতি বছর প্রায় চার ওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হারাচ্ছে। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 03:41 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

মহাকাশে প্রায় ৫০ বছর পার করে ফেললেও এখনই অবসরে যাচ্ছে না নাসার ভয়েজার ২। মহাকাশযানটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াল নাসা।

‘বিগ ব্যাং’ নামের এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পাওয়ার সেটিংসে পরিবর্তন এনে ৪৭ বছরের পুরানো এ মহাকাশযানটির বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন যন্ত্রকে সচল রাখার ব্যবস্থা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।

এর ফলে ভয়েজার ২ নিজের বর্তমান অবস্থাতেই আরও এক বছর বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যেতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

ভয়েজার ২-এর শক্তির মূল উৎস হচ্ছে এর ‘রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর’, যা ক্ষয়প্রাপ্ত প্লুটোনিয়ামের তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্লুটোনিয়াম ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে মহাকাশযানটি প্রতি বছর প্রায় চার ওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হারাচ্ছে।

১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপণের সময় এতে ১০টি সচল বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ছিল। তবে শক্তি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে নাসা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে কেবল তিনটি যন্ত্র কার্যকর রয়েছে।

সাম্প্রতিক এ পরিবর্তনটি না আনলে এ বছরের শেষদিকে আরও একটি যন্ত্র বন্ধ করে দিতে হত।

নাসা বলেছে, ‘বিগ ব্যাং’ অভিযানের অংশ হিসেবে বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী নির্দিষ্ট কিছু ডিভাইস একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর জায়গায় কম বিদ্যুৎ শক্তির বিকল্প যোগ করেছে তারা।

পাশাপাশি এসব ডিভাইস বন্ধের পরও মহাকাশযানটি যাতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত উষ্ণ থাকে তা-ও নিশ্চিত করতে হয়েছে প্রকৌশলীদের।

নাসার এ পরিকল্পনা সফল হওয়ায় ভয়েজার ২-এর অবশিষ্ট তিনটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র আগামী বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে মহাকাশের তথ্য সংগ্রহ করে যেতে পারবে।

মহাকাশযানটি এর জমজ ‘ভয়েজার ১’-এর উৎক্ষেপণের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল সৌরজগতের গ্যাসীয় বিভিন্ন গ্রহকে পর্যবেক্ষণ করা।

১৯৭৯ সালে বৃহস্পতি গ্রহে পৌঁছায় এবং পরবর্তী এক দশকের মধ্যে সৌরজগতের সবকটি গ্যাসীয় গ্রহ প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করেছে ভয়েজার ২।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভয়েজার ২ সৌরজগতের সীমানা ছাড়িয়ে ‘ইন্টারস্টেলার স্পেস’ বা আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে প্রবেশ করে।

সূর্য তার চারপাশের গ্রহগুলোকে ঘিরে যে সুরক্ষাবলয় তৈরি করেছে, যাকে ‘হেলিওস্ফিয়ার’ বলে, এর বাইরের প্লাজমার ঘনত্ব ও তাপমাত্রা সংক্রান্ত তথ্য সে সময় থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে পৃথিবীতে পাঠিয়ে আসছে মহাকাশযানটি।