১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিটামিন ডি-এর অভাবে দেহের যেসব ক্ষতি হয়, জেনে নিন

ভিটামিন ডি কেবল হাড়ের জন্যই নয়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও কোষের বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কাজেও ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন ডি-এর অভাবে দেহের যেসব ক্ষতি হয়, জেনে নিন
সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় ভিটামিন ডি-এর অভাব ও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Dec 2025, 12:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:17 PM

আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান ভিটামিন ডি। বেশিরভাগ সময় আমরা এটিকে ‘সূর্যালোকের ভিটামিন’ বলি। কারণ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে আমাদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি করতে শুরু করে। কিন্তু এই ভিটামিনের অভাবে কোন কোন সমস্যা হতে পারে?

চর্বিওয়ালা মাছ, চিজ, ডিমের কুসুমের মতো কিছু খাবারে ভিটামিন ডি রয়েছে। এ ছাড়া সমৃদ্ধ খাবার ও সাপ্লিমেন্ট থেকেও ভিটামিন ডি পেতে পারি আমরা।

ভিটামিনটি মূলত হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য পরিচিত। এটি আমাদের শরীরকে ক্যালসিয়াম পেতে সাহায্য করে, যা শক্ত ও সুস্থ হাড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ভিটামিন ডি কেবল হাড়ের জন্যই নয়, আমাদের দেহের আরও অনেক বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও কোষের বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কাজেও ভূমিকা রাখে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।

আমাদের দেহ যখন পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পায় না তখন বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার মুখে পড়ে, যা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বা অভাব নামে পরিচিত। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বা অভাবে দেহের যেসব ক্ষতি হতে পারে তা জেনে নেওয়া যাক–

হাড়ের সমস্যা

ভিটামিন ডি’র অভাবে সবচেয়ে পরিচিত প্রভাব আমাদের হল হাড়ের ওপর। দেহে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে দেহ হাড়কে শক্তিশালী রাখার জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে না। ফলে হাড় নরম, পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। 

শিশুদের মধ্যে গুরুতর ভিটামিন ডি-এর অভাবের কারণে ‘রিকেটস’ রোগ হতে পারে, যা হাড়কে নরম ও দেহের কংকাল বিকৃতির কারণ হয়।”

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ডি-এর অভাবে ‘অস্টিওম্যালেসিয়া’ রোগ হতে পারে, যার ফলে তাদের হাড়ের ব্যথা ও পেশী দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিটামিন ডি-এর অভাব কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, কয়েক ধরনের ক্যান্সার ও মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস।

গবেষকরা বলছেন, ভিটামিন ডি’র সঙ্গে এসব রোগের সম্পর্ক ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বজায় রাখা আমাদের দেহের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

ভিটামিন ডি আমাদের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না পেলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যতটা ভালোভাবে কাজ করা উচিত ততটা ভালোভাবে কাজ নাও করতে পারে, যা আমাদের দেহকে সংক্রমণ ও রোগের জন্য আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় ভিটামিন ডি-এর অভাব ও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিষণ্ণতা ও চিন্তা সক্ষমতার অবক্ষয়।

কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, যাদের দেহে পর্যাপ্ত  ভিটামিন ডি আছে, তাদের তুলনায় ভিটামি ডি’র অভাবে থাকা লোকজনের বিষণ্নতা ধরা পড়ার ঝুঁকি বেশি।

ভিটামিন ডি-এর অভাব আমাদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক পরিণতি ঘটাতে পারে। আমাদের হাড় থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত এ পুষ্টি উপাদানটি আমাদের সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ কারণেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ, তা সূর্যের আলো, খাবার বা সাপ্লিমেন্ট, যা থেকেই হোক না কেন।

তবে মনে রাখা জরুরি, পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকা অপরিহার্য হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি’র গ্রহণও ক্ষতিকর। নতুন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই সবসময় একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

আপনার ব্যক্তিগত চাহিদা ও দেহের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকেরাই আপনার জন্য সঠিক পরিমাণ সাপ্লিমেন্ট নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে।