এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আসে ইউক্রেইনের শীর্ষ তথ্য নিরাপত্তা কর্মী, সামরিক বাহিনীর ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের মাধ্যমে।
Published : 22 Sep 2024, 02:43 PM
সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা খাত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় কাজ করা কর্মীদের অফিসিয়াল ডিভাইসে টেলিগ্রামের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ইউক্রেইন।
২০২২ সালে ইউক্রেইনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন চালানো শুরু করে রাশিয়া। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিল (আরএনবিও) বলেছে, পদক্ষেপটির লক্ষ্য হচ্ছে, দেশটিতে রাশিয়ার হুমকি ‘কমানো’।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে আরএনবিও’র জানায়, “সাইবার হামলা, ফিশিং ও ক্ষতিকর সফটওয়্যারের ব্যবহার, ব্যবহারকারীর ভূ-অবস্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সমন্বয় করার জন্য সক্রিয়ভাবে টেলিগ্রাম মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে শত্রুরা।”
এদিকে, বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে টেলিগ্রাম বলেছে, তারা “কখনও কোনো দেশকে কোনও মেসেজিং ডেটা বা তথ্য দেয়নি, এমনকি রাশিয়াকেও নয়।”
টেলিগ্রাম অ্যাপটি ইউক্রেইন ও রাশিয়া উভয় দেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসম্ভব জনপ্রিয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
আরএনবিও বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত এসেছে ইউক্রেইনের শীর্ষ তথ্য নিরাপত্তা কর্মী, সামরিক বাহিনীর ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে।
টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, এমনকি তাদের মুছে ফেলা বার্তায় প্রবেশ করার লক্ষ্যে রাশিয়ার বিশেষ ধরনের কিছু পরিষেবার সক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন ইউক্রেইনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভ।
“আমি সবসময় বাক স্বাধীনতাকে সমর্থন করি এবং আমার এ সমর্থনের ধারা অব্যাহত রেখেছি। তবে টেলিগ্রামের বিষয়টি বাক স্বাধীনতার বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।”
তবে যেসব কর্মীর জন্য টেলিগ্রাম ব্যবহার তাদের কাজের দায়িত্বের অংশ ছিল তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবেন, বলেছে আরএনবিও।
এ নিয়ে মিথ্যা তথ্য বা বিভ্রান্তি ঠেকাতে ‘আরএনবিও’-এর প্রধান আন্দ্রিই কোভালেঙ্কো জোর দিয়ে বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অফিসিয়াল ডিভাইসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, কারো ব্যক্তিগত স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে নয়।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম পেইজ রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদ করার কাজটি অব্যাহত রাখতে পারবেন।
২০২৩ সালের ‘ইউএসএআইডি-ইন্টারনিউজ’-এর জরিপে দেখা গেছে, সংবাদের জন্য ইউক্রেইনের শীর্ষ সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ছিল টেলিগ্রাম। অ্যাপটি ব্যবহার করে দেশটির ৭২ শতাংশ মানুষ।
২০১৩ সালে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ফিচার নিয়ে যৌথভাবে টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন রুশ বংশোদ্ভূত পাভেল দুরভ ও তার ভাই।
দুরভকে গত ২৫ আগস্ট উত্তর প্যারিসের একটি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেন, মাদক পাচার, জালিয়াতি ও শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে তিনি টেলিগ্রামকে ‘নৈরাজ্যের এক স্বর্গ’ বলে যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে তা ‘একেবারেই অসত্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
২৮ অগাস্ট জামিন পান দুরভ।