ব্যাংকের আর্থিক সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রবল

এখন বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যেখানে শুধু প্রম্পটের মাধ্যমেই পুরোপুরি নতুন কিছু তৈরি করা সম্ভব।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Jan 2024, 10:54 AM
Updated : 3 Jan 2024, 10:54 AM

পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাংকগুলোয় লোকজনের আর্থিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যেতে পারে, যেখানে সম্ভাব্য দূর্বল গ্রাহকদের শনাক্ত করা, কল সেন্টার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এমনকি সামাজিক মাধ্যমে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট চালানোর মতো সুবিধা মিলবে।

ডাবলিনভিত্তিক আইটি কোম্পানি অ্যাক্সেঞ্চারের ব্যাংকিং পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান টম মেরি’র মতে, এ জটিল প্রযুক্তি ‘ব্যাংকিং খাতের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই’ কাজ করতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যের ব্যাংকিং খাতে বেশ কয়েক বছর ধরেই এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত করার পাশাপাশি সেগুলোর ঝুঁকি বিশ্লেষণেরও করার নজির মিলেছে।

তবে, এখন বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যেখানে শুধু প্রম্পটের মাধ্যমেই পুরোপুরি নতুন কিছু তৈরি করা সম্ভব।

মূলধারার প্রযুক্তি খাতে এরইমধ্যে নিজস্ব উপস্থিতির জানান দিয়েছে চ্যাটজিপিটি ও গুগলের বার্ডের মতো এআই চ্যাটবটগুলো।

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা টম মেরি বলছেন, যেসব ব্যাংকের মালিক এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ‘সচেতন’, তাদের কাছে এটি ‘চমক দেখানো হলেও ভীতিকরও’ হবে।

তবে, এ প্রযুক্তি নিয়ে নিরীক্ষা চালাতে ইচ্ছুক, এমন ব্যাংক থেকে অনুরোধ অনেক বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন মেরি।

এর সম্ভাব্য মানে দাঁড়ায়, কোনো গ্রাহকের পছন্দসই পণ্য নকশা করার ক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত খরচ ও ব্যাংকিং ডেটা ব্যবহার করা বা তাদের আর্থিক সক্ষমতা উন্নত করার লক্ষ্যে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পরিসর বাড়ানো।

এদিকে, বিভিন্ন ব্যাংকে ‘ভয়েস রিকগনিশন’ প্রযুক্তি নিয়ে নিরীক্ষা চালানোর সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে। এর মানে, এআই কলদাতার ভাব প্রকাশের অনুভূতির মাধ্যমে তিনি মানসিকভাবে দূর্বল অবস্থায় আছেন কি না, তা শনাক্ত করতে পারবে। এ ছাড়া, ওই গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে এ প্রযুক্তি।

অন্যদিকে, মেরি পরামর্শ দিয়েছেন, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা বা মানব সম্পদ বিভাগের কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও কল সেন্টার কর্মীদেরকে গ্রাহকদের কাছে ‘অ্যাভাটার’ রূপে উপস্থাপন করার সুবিধা মিলবে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কোম্পানি কেপিএমজি’র যুক্তরাজ্য অংশের ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান পিটার রথওয়েল বলছেন, ব্যাংকিং খাতে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির প্রচলন বাড়লে গ্রাহকদের বিশ্বাস করাতে হবে, তাদের প্রদান করা তথ্য সঠিক কারণে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।

“ব্যাংক আপনাকে যত বেশি জানবে, আপনাকে তারা তত বেশি সহায়তা দিতে পারবে।” --বলেন রথওয়েল।

“তবে, এর জন্য প্রয়োজন বিশ্বাস, ডেটা নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা।”

উদাহরণ হিসেবে, ব্যাংকে গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করলে, আবেদনকারীর আর্থিক পরিস্থিতি জানার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এআই প্রযুক্তি।

“ওই পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে…আমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে তারা নিজেদের নয় বরং আমার স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।” --বলেন রথওয়েল।

এদিকে, কয়েকটি গবেষণা থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে এখনও অনেক পথ বাকি আছে ব্যাংকিং সেক্টরের।

ব্যাংকভিত্তিক এআই প্ল্যাটফর্ম ‘এলিজিবল’-এর জরিপে উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় এক চতুর্থাংশ গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংক থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয় না।

এলিজিবল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাহরা হাসান বলেছেন, একজন ব্যক্তি কোনো আর্থিক পণ্য কতোটা ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। আর এতে সম্ভাব্য দূর্বল গ্রাহক শনাক্ত করাও সহজ হয়ে ওঠে।

“এর ভিত্তিতে আমরা ধারণা পেতে পারি, গ্রাহকদের কোন কোন ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ করতে কাঠখড় পোড়াতে হয়।” --বলেন তিনি।

“গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে, প্রতিক্রিয়াশীল সম্পর্ককে সক্রিয় সম্পর্কে রূপান্তরের সক্ষমতা রাখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।”

ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, এ প্রযুক্তি এমন এক সময় এল, যখন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ঋণদাতা ব্যাংকগুলো নিজেদের শত শত শাখা বন্ধ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দিকে পাড়ি জমাচ্ছে।

কেপিএমজি’র গবেষণায় উঠে এসেছে, গত বছর যুক্তরাজ্যের ২০ শতাংশ গ্রাহক কোনো ব্যাংকের শাখা পরিদর্শন করেননি, যা ২০২২ সালে ছিল ১৪ শতাংশ।

গত মাসে চালানো জরিপে উঠে এসেছে, এর আগের সপ্তাহে কেবল ১৩ শতাংশ গ্রাহক ব্যাংকে গিয়েছেন। সে তুলনায় এর এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ।