০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এআইয়ের কারণে সাইবার অপরাধের গতি, পরিসর বাড়ছে: ইন্টারপোল

উন্নত অনুবাদ প্রযুক্তি ও ভুয়া ডিজিটাল পরিচয়ের কারণে জালিয়াতিপূর্ণ ও আসল যোগাযোগের মধ্যকার তফাত করা মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

এআইয়ের কারণে সাইবার অপরাধের গতি, পরিসর বাড়ছে: ইন্টারপোল

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বড় বাধা কর্পোরেট শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও তাদের কৌশলগত সাইবার নীতির মধ্যকার পার্থক্য। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 07:42 PM

Updated : 04 Oct 2026, 07:42 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কারণে স্ক্যাম ও জালিয়াতির মতো প্রচলিত অপরাধমূলক কৌশল আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘টেক উইক সিঙ্গাপুর’-এর সাইডলাইনে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন ইন্টারপোলের বৈাশ্বক প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিয়র্ন আর. ওয়াটনে।

ওয়াটনে বলেছেন, এআই সরাসরি কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন বা নতুন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে না, বরং পুরনো অপরাধ কৌশলগুলোরই ‘বিবর্তন’ ঘটাচ্ছে।

“এটা বিবর্তন, কোনো বিপ্লব নয়। এআই বর্তমান কৌশলগুলোর গতি ও পরিসর বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

ইন্টারপোলের এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, স্ক্যাম অপারেটররা এখন একইসঙ্গে অসংখ্য ভুক্তভোগীকে টার্গেট করতে এআই ব্যবহার করছে।

এ ছাড়া উন্নত অনুবাদ প্রযুক্তি ও ভুয়া ডিজিটাল পরিচয়ের কারণে জালিয়াতিপূর্ণ যোগাযোগ ও আসল যোগাযোগের মধ্যকার তফাত করা মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

কোম্পানিগুলোর জন্য করণীয়

সাইবার হুমকির ধরন পাল্টালেও কোম্পানিগুলোকে হঠাৎ করে সবকিছু সুরক্ষার পেছনে না ছুটে সুনির্দিষ্ট কৌশল নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়াটনে।

তার ভাষ্য, কোনো কোম্পানিরই এমন সব বিষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ার প্রয়োজন নেই, যেগুলো দিয়ে তারা আদতে কখনও আক্রমণের শিকারই হচ্ছে না।

এর বদলে কোম্পানিগুলোর করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ব্যবসা সচল রাখার জন্য সবচেয়ে জরুরি সম্পদ বা ‘ক্রাউন জুয়েল’গুলো প্রথমে চিহ্নিত করে দেখতে হবে কারা সেগুলো চুরি করতে বা ক্ষতি করতে আগ্রহী।

প্রতিপক্ষরা কোন ধরনের কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তা বুঝতে থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের সাহায্য নিয়ে সেই অনুসারে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাজাতে হবে।

কোন কোম্পানি কেমন অপরাধীদের মুখে পড়ছে তা সুযোগসন্ধানী অপরাধী নাকি উন্নত ও সুসংগঠিত হুমকিদাতা চক্র এর ওপর ভিত্তি করে সুরক্ষার ধরনও আলাদা হতে হবে।

তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বড় বাধা করপোরেট শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও তাদের কৌশলগত সাইবার নীতির মধ্যকার পার্থক্য।

ওয়াটনে আক্ষেপ করে বলেছেন, “এমন অনেক শিল্পখাত রয়েছে যেখানে এখনও অনেকে বুঝতে পারেনি যে, বর্তমান যুগে প্রতিটি খাতই এক একটি আইটি কোম্পানি।”

প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি তালিকায় সাইবার ঝুঁকির অবস্থান এখন ওপরের দিকে উঠে এলেও অনেক কোম্পানির বোর্ডরুম বা নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা এখনও পুরোপুরি স্থান করে নিতে পারেনি।

এজেন্টিক এআই নিয়ে নতুন ঝুঁকির সতর্কতা ইন্টারপোলের

এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এখন কেবল তথ্য দেওয়ার গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের পক্ষে সরাসরি কাজ করার সক্ষমতা বা ‘এজেন্টিক এআই’-এর রূপ নিচ্ছে। এ সময়ে তা নতুন মাত্রার ঝুঁকির জন্ম দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ইন্টারপোলের ওয়াটনে।

তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির এ নতুন রূপের কারণে ভুল তথ্য পাওয়ার আশঙ্কা তো থাকছেই। পাশাপাশি বাস্তবে এর নেতিবাচক পরিণতি আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

“একটি বিষয় হচ্ছে এআই আপনাকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তবে যখন একটি এআই নিজে থেকে কোনো কাজ করতে শুরু করে ও সেই কাজ ভুল হয়, বিশেষ করে বাস্তব দুনিয়ায়, তা মানুষের শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।”

গাড়ি বা স্বচালিত বা চালকবিহীন যানবাহনের মতো বিভিন্ন ডিভাইসে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ইন্টারপোল কর্মকর্তা।

তার ভাষ্য, আর্থিক খাতের তুলনায় মানুষ প্রযুক্তির ওপর যেভাবে অন্ধভাবে ভরসা করে তাতে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মানুষ আর্থিক সেবামূলক কাজে পিন কোড বা কার্ড স্কিমিংয়ের মতো ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক মনোভাব ধরে রাখে। তবে নতুন কোনো প্রযুক্তি বা অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষ সেই মাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করে না।

“প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানুষের আস্থার মাত্রা আকাশচুম্বী।”

মানুষ খুব সহজেই প্রম্পটে ক্লিক করে ও নতুন প্রযুক্তির হাতে বিভিন্ন বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় তখন বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিভিন্ন এআই সিস্টেম যখন ব্যবহারকারীর পক্ষে আরও বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা পায় তখন এই অতিরিক্ত আস্থার বিষয়টি নিয়েও গভীরভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।