১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বদলে দিতে পারে ‘স্মল এআই’: বিশ্বব্যাংক

‘স্মল এআই’ বিশেষায়িত এক ধরনের মডেল, যেটিকে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা কাজের জন্য ছোট ও নির্দিষ্ট ডেটাসেট ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বদলে দিতে পারে ‘স্মল এআই’: বিশ্বব্যাংক

সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যখন ভোক্তাদের জন্য ক্রমেই আরও জটিল ও উচ্চমানের এআই পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত তখন বিশ্বব্যাংকের এই আহ্বান এল। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 02:28 PM

Updated : 19 Oct 2026, 02:28 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অবিলম্বে ‘স্মল এআই’ বা ক্ষুদ্র আকৃতির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, ইন্টারনেটের নিম্ন গতি বা দুর্বল সংযোগেও স্মার্টফোনে সরাসরি ব্যবহার উপযোগী এসব মডেল স্থানীয় উন্নয়নকে আরও বাড়াবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যখন ভোক্তাদের জন্য ক্রমেই আরও জটিল ও উচ্চমানের এআই পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত তখন বিশ্বব্যাংকের চিফ নলেজ অফিসার পাসকল ডনাহিউ বলেছেন, এআই উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর জন্য প্রযুক্তিটিকে স্থানীয় প্রয়োজন অনুসারে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

‘স্মল এআই’ বিশেষায়িত এক ধরনের মডেল, যেটিকে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা কাজের জন্য ছোট ও নির্দিষ্ট ডেটাসেট ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ডনাহিউ বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যেসব অংশীদার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আমরা কাজ করি, তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে পরিবর্তন আসতে হয়ত শতাব্দীর পর শতাব্দী লেগে যেত এই প্রযুক্তির ব্যবহারে তা এখন কেবল কয়েক দশকের মধ্যেই ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব।

“স্মল এআই এমন এক প্রযুক্তি যা স্থানীয় পরিবেশেই কার্যকর থাকবে, দুর্বল সংযোগ বা কম গতির ইন্টারনেটেও চলবে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় কাজ করবে, যা সহজেই মানুষের হাতের মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে।”

আয়ারল্যান্ডের সাবেক এই অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের কৃষি বিষয়ক উদ্যোগ ‘এগ্রিকানেক্ট’-এর আওতায় ভারতের অনেক কৃষক তাদের নিজেদের ভাষায় মাটির পুষ্টি ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের তথ্য জানতে চান।

ডনাহিউ বলেছেন, “ভারতের প্রতিটি ক্ষুদ্র খামারে গিয়ে সেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কৃষি বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞ খুঁজে পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ঠিক এখানেই স্মল এআইয়ের ভূমিকা। এটা এমন প্রযুক্তি, যা একজন কৃষকের ফোনে থাকবে ও তার প্রয়োজনীয় তথ্যের সঠিক জোগান দেবে।”

বিশ্বব্যাংকের মতে, স্থানীয় ভাষায় ও কম শক্তিনির্ভর এই প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান বৈশ্বিক দক্ষিণ ও উদীয়মান অর্থনীতির জন্য নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।

এ ধরনের বিশেষায়িত প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা তৈরি ও সম্প্রসারণের জন্য বিশ্বব্যাংক, বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ত্রিভূজভিত্তিক যৌথ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মনে করে বিশ্বব্যাংক।

এআই বিকাশ কীভাবে কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে তা থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এ সপ্তাহে আয়োজিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

সোমবার প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কিত এক প্যানেল আলোচনায় আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এআই প্রযুক্তির সঠিক ও সফল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

“প্রথমত আপনার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত প্রয়োজন ডিজিটাল অবকাঠামো। পাশাপাশি মানুষকেও এই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। আর সরকারের দায়িত্ব সাইবার সুরক্ষা দেওয়া ও ক্ষতিকর অপব্যবহার থেকে জনগণকে রক্ষা করা, যাতে প্রযুক্তিটির সুফল সবাই নিরাপদে পেতে পারে।

“আমরা যদি এসব মৌলিক ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করি তবে এআইয়ের প্রসার গণতান্ত্রিক হয়ে উঠবে, ঠিক যেভাবে মোবাইল ফোন মানুষের হাতে হাতে পৌঁছেছে সেভাবেই।”

এর আগে, অগাস্টে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’-এ এআইয়ের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হলেও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাব-সাহারান আফ্রিকার গ্রামীণ এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্কুলেই বিদ্যুৎ সংযোগ নেই ও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি স্কুলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছায়নি।

ফলে প্রযুক্তির সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো প্রাথমিক বাধা দূর করাই এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।