Published : 02 Feb 2026, 03:50 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের জগতে এক নতুন দুয়ার খুলছে গুগল ডিপমাইন্ড, যেখানে ব্যবহারকারীদের ভিডিও দেখা ও ভিডিওর ভেতরে বাস করার পার্থক্য ঘুচে যেতে পারে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, গেল বছর গ্রীষ্মে ‘জিনি ৩’ প্রকাশ করে গুগল ডিপমাইন্ড, যা ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’ হিসেবে পরিচিত। এ এআই সিস্টেমটি ছবি তৈরি করতে ও ব্যবহারকারী যখন এই সফটওয়্যারে তৈরি করা পরিবেশের ভেতর দিয়ে চলাফেরা করেন তখন সেই অনুসারে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
ওই সময় ‘জিনি ৩’কে কোম্পানিটির এআই এজেন্টদের প্রশিক্ষণের এক হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছিল ডিপমাইন্ড। এখন ‘প্রজেক্ট জিনি’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য মডেলটি উন্মুক্ত করছে মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি।
‘প্রজেক্ট জিনি’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুরুতেই প্রতি মাসে গুগলের আড়াইশ ডলারের ‘এআই আল্ট্রা’ প্ল্যান থাকতে হবে ব্যবহারকারীদের এবং তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ও বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে।
লঞ্চের সময় ‘প্রজেক্ট জিনি’ মূলত তিনভাবে কাজ করে, যেখানে ওয়ার্ল্ড স্কেচিং, এক্সপ্লোরেশন ও রিমিক্সিং– এ তিনভাবে কাজ করা যাবে। প্রথমে গুগলের ‘ন্যানো ব্যানানা প্রো’ মডেলটি একটি মূল ছবি তৈরি করে দেবে। ছবিটিকে ব্যবহার করেই ‘জিনি ৩’ ব্যবহারকারীর জন্য ভার্চুয়াল জগৎ তৈরি করবে।
এ পর্যায়ে নিজের চরিত্র কেমন হবে তা বর্ণনা করতে পারবেন ব্যবহারকারী, যেখানে ক্যামেরা ভিউ কেমন হবে, বিশেষ করে ফার্স্ট পার্সন, থার্ড পার্সন বা আইসোমেট্রিক এবং কীভাবে সেই জগতটি ঘুরে দেখতে চান তাও ঠিক করে দিতে পারবেন।
মূল ভার্চুয়াল জগতটি তৈরি হওয়ার আগেই ‘ন্যানো ব্যানানা প্রো’ ব্যবহারকারীকে একটি ‘স্কেচ’ বা খসড়া দেখাবে, যাতে ব্যববহারকারী চাইলে সেখানে কিছু পরিবর্তন করতে পারেন।
এ ছাড়া, অন্য কেউ জিনি ব্যবহার করে কোনো জগত তৈরি করে থাকলে নিজের প্রম্পট লিখে সেগুলোকেও নতুন রূপ দিতে পারবেন ব্যবহারকারী।
তবে মনে রাখা জরুরি, ‘জিনি ৩’ কোনো গেইম ইঞ্জিন নয়। এর বিভিন্ন আউটপুট দেখতে গেইমের মতো মনে হলেও তা কেবল জাগতিক ভৌত প্রতিক্রিয়া অনুকরণ করতে পারে। এতে প্রথাগত গেইমের মতো কোনো নিয়ম বা মেকানিজম নেই।
এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন প্রতিটি জেনারেশন সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এর ভিডিও কোয়ালিটি ৭২০ রেজোলিউশনের মধ্যে থাকবে এবং ফ্রেম রেট প্রতি সেকেন্ডে ২৪টি হবে।
এসব সীমাবদ্ধতার পরও একজন ‘এআই আল্ট্রা’ গ্রাহক হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে ডিপমাইন্ডের করা অত্যাধুনিক কাজগুলো নিজ চোখে দেখার বিষয়টিও দারুণ এক সুযোগ।