Published : 25 Feb 2026, 10:46 AM
ইনস্টাগ্রামে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রতি ৫ জন ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ১ জন তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অ্যাপটিতে নগ্ন বা যৌনতাপূর্ণ ছবি দেখেছে বলে উঠে এসেছে মেটার অভ্যন্তরীণ এক জরিপে।
ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া মেটার অভ্যন্তরীণ ওই নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা টিনএজার ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
আদালতের নথির তথ্য অনুসারে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রতি ৫ জন ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ১ জন মেটাকে বলেছে, ইনস্টাগ্রামে এমন সব ‘নগ্নতা বা যৌনতাপূর্ণ ছবি’ তারা দেখেছেন, যা তারা দেখতে চাননি।
মামলার অংশ হিসেবে শুক্রবার এ নথিটি প্রকাশ্যে আনা হয়। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা এ নথিতে ২০২৫ সালের মার্চে ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরি’র দেওয়া জবানবন্দির কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মামলার অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে আসা অন্য এক নথিতে দেখা গেছে, কোম্পানিটিকে টিনএজার ব্যবহারকারীদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মেটার একজন গবেষক।
টিনএজাররা তাদের পরিবারের জন্য ‘ক্যাটালিস্ট’ বা পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ফলে তাদের ছোট ভাইবোন ও মা-বাবা কীভাবে অ্যাপটি ব্যবহার করবেন তার ওপর বড় প্রভাব ফেলে তাদের ব্যবহারের বিষয়টি।
২০২১ সালের ২০ জানুয়ারির এ নথিতে ওই গবেষক লিখেছেন, “আমরা যদি নতুন ব্যবহারকারী সংগ্রহ করতে ও তাদের ধরে রাখতে চাই তবে আমাদের বুঝতে হবে যে একটি পরিবারের ভেতর টিনএজারদের প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের এই লক্ষ্য পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে।”
ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানাধীন কোম্পানি মেটা বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে প্রায়ই এমন অভিযোগের মুখে পড়ছে, যেখানে বলা হচ্ছে, তাদের বিভিন্ন পণ্য তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে হাজার হাজার মামলায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা এমনভাবে বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করেছে, যা আসক্তি ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে।
মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেছেন, যৌনতাপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবির সেই পরিসংখ্যানটি আসলে ২০২১ সালে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে করা এক জরিপ। এ তথ্য সরাসরি ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন পোস্ট যাচাই করে পাওয়া তথ্য নয়।
গবেষকের মেমো বা চিঠির বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মেটা।
মোসেরির জবানবন্দি অনুসারে, ২০২১ সালের ওই জরিপে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী বলেছেন, ইনস্টাগ্রামে ‘কাউকে নিজের ক্ষতি করতে বা আত্মহত্যার হুমকি দিতে’ দেখেছে তারা।
২০২৫ সালের শেষদিকে কোম্পানিটি বলেছিল, টিনএজার ব্যবহারকারীদের জন্য এমন সব ছবি ও ভিডিও সরিয়ে ফেলবে মেটা যেগুলোতে ‘নগ্নতা বা স্পষ্ট যৌন কার্যকলাপ রয়েছে, এমনকি সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি হলেও’। তবে, চিকিৎসা বা শিক্ষামূলক কনটেন্টের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে।
মেটার মুখপাত্র স্টোন বলেছেন, “আমরা এ পর্যন্ত যে উন্নতি করেছি তা নিয়ে আমরা গর্বিত এবং আমরা সবসময় আরও ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
মোসেরি তার জবানবন্দিতে আরও বলেছেন, যৌনতাপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবির বেশিরভাগই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যক্তিগত বার্তা বা ডিএম মেসেজের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়েছে। এসব মেসেজ পর্যালোচনার সময় মেটাকে ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসির বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়।
“অনেক মানুষই চান না যে আমরা তাদের ব্যক্তিগত বার্তাগুলো পড়ি।”