Published : 08 Aug 2026, 04:28 PM
শক্তিশালী সোলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যপৃষ্ঠের এ যাবৎকালের সবচেয়ে স্পষ্ট ও নিখুঁত ছবি তুলেছেন বিজ্ঞানীরা, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
এ নজিরবিহীন ছবিতে ধরা পড়েছে সূর্যপৃষ্ঠে চৌম্বকীয় প্লাজমার অদ্ভুত ঘূর্ণি আর ঢেউ। এসব ছবি সৌরঝড়ের পূর্বাভাস ও গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, সূর্যপৃষ্ঠের পাঁচশ থেকে দুই হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই ঘূর্ণি বা ‘ভোর্টেক্স’ দেখার জন্য প্রয়োজন ছিল নজিরবিহীন স্পষ্টতার। তা সম্ভব করেছে নতুন এক টেলিস্কোপ।
এসব ছবি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’-এর ‘ড্যানিয়েল কে ইনোউয়ে সোলার টেলিস্কোপ’-এর কার্যসক্ষমতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে তোলা হয়।
পরবর্তীতে সেইসব ছবি পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন, তারা সূর্যের উজ্জ্বল বহিরাবরণের ছবি এমন উচ্চ রেজুলিউশনে ধারণ করেছেন, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি।
এসব নতুন ছবিতে সূর্যের পৃষ্ঠজুড়ে পালকের মতো অদ্ভুত কিছু প্যাটার্নের ঢেউ খেলে যেতে দেখেছেন গবেষকরা।
নতুন এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও ‘স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র সৌর-পদার্থবিদ রুইঝু চেন বলেছেন, “দৃশ্যটি আমাকে বিখ্যাত কিছু চিত্রকর্মের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেমন ভ্যান গগের চিত্রকর্মে ‘স্টারি নাইট’-এর আকাশে ঘূর্ণায়মান আলো ও রঙের খেলা দেখা যায়।”
গবেষকরা বলছেন, ভিন্ন ভিন্ন গতিতে একে অপরের পাশ দিয়ে যাওয়া চৌম্বকীয় প্লাজমার ঘর্ষণে সূর্যের পৃষ্ঠে এই অস্থিতিশীল তরঙ্গ তৈরি হয়েছে, যা বাতাসের ধাক্কায় পানির বুকে ঢেউ খেলার প্রক্রিয়ার মতোই পরিচিত একটি ঘটনা, যা তরল ও গ্যাসের গতিবিধি নির্দেশক এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
পৃথিবী ও বৃহস্পতি বা শনির মতো অন্যান্য গ্রহে এ ধরনের তরঙ্গ ও ঘূর্ণির দেখা মেলেনি তা নয়।
এ গবেষণার সহ-লেখক ও ‘ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরি’র বিজ্ঞানী ফ্রিডরিখ ভেগার বলেছেন, “সূর্যের পৃষ্ঠে এত স্পষ্ট ও সূক্ষ্মভাবে এমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।”
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ।
বিজ্ঞানীদের সূর্যপৃষ্ঠের এ অভ্যন্তরীণ গতিবিধি নিয়ে অনুসন্ধানের মূল উদ্দেশ্য ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ নামে পরিচিত শক্তিশালী বিস্ফোরণ আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
এ বিস্ফোরণের প্রভাবে যে সৌরঝড় তৈরি হয় তা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে জিপিএস ও সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। একইসঙ্গে বায়ুমণ্ডলে তৈরি করে রঙিন মেরুপ্রভা বা ‘অরোরা’।