২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যাপ স্টোরে শীর্ষে মেটার এআই এজেন্ট টুল ‘মিউজ’

অ্যানথ্রপিকের ক্লড, স্পেসএক্সএআইয়ের গ্রক ও ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটার নিজস্ব ‘মেটা এআই’ অ্যাপের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে মিউজ।

অ্যাপ স্টোরে শীর্ষে মেটার এআই এজেন্ট টুল ‘মিউজ’

মেটার এই সাফল্যের রেশ দেখা গেছে পুঁজিবাজারের শেয়ারেও। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 08:10 PM

Updated : 22 Sep 2026, 08:10 PM

বাজারে আসার পর থেকেই অ্যাপ স্টোরের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে মেটার নতুন পার্সোনাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট টুল মিউজ। কেবল দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে অ্যাপটি।

মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেটার ‘মিউজ’ অ্যাপটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল আইওএস অ্যাপ স্টোরের ফ্রি স্মার্টফোন ক্যাটেগরিতে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, পলিমাকেট ও কাশি’র মতো জনপ্রিয় পরিষেবাগুলোকে পেছনে ফেলে শীর্ষে অবস্থান করছে।

অ্যানথ্রপিকের ক্লড, স্পেসএক্সএআইয়ের গ্রক ও ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটার নিজস্ব ‘মেটা এআই’ অ্যাপের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘সেন্সর টাওয়ার’-এর তথ্য অনুসারে, ৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসার পর কেবল পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার বার ডাউনলোড হয়েছিল মিউজ।

শুক্রবার অ্যাপটি আইওএস ফ্রি অ্যাপের তালিকায় চ্যাটজিপিটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে। বাজার গবেষক কোম্পানিটির তথ্য অনুসারে, সোমবার পর্যন্ত অ্যাপটির মোট ডাউনলোড ছাড়িয়ে গেছে ২৫ লাখ।

সেন্সর টাওয়ার বলেছে, উদ্বোধনের পর একই ১৩ দিনের উইন্ডোতে ক্লাউড ও গ্রকের চেয়ে বেশি ডাউনলোড হয়েছে মিউজ। ওই সময়ে ক্লাউড ও গ্রক যথাক্রমে ৪ লাখ ও ২ লাখ বার ডাউনলোড পেয়েছিল। তুলনামূলকভাবে একই সময়ে চ্যাটজিপিটি পেয়েছিল ৩১ লাখ ডাউনলোড।

এসব অ্যাপের প্ল্যাটফর্ম রিলিজ অ্যাপল ও গুগল প্লে স্টোরের মধ্যে ধাপে ধাপে বিভক্ত ছিল, যা তাদের মোট ডাউনলোডের সংখ্যায় প্রভাব ফেলেছে।

সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুসারে, সোমবার পর্যন্ত মিউজ আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ স্টোর থেকে যথাক্রমে প্রায় ১৫ লাখ ও ১১ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে।

ইলেকট্রনিক ফর্ম পূরণ করা বা ইমেইল ইনবক্স গোছানোর মতো ওয়েবভিত্তিক বিভিন্ন কাজ নিজে থেকেই পরিচালনা করার উপযোগী একটি সুপারচার্জড ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট হিসেবে অ্যাপটি বাজারে এনেছে মেটা।

কোম্পানিটির নিজস্ব ‘মিউজ স্পার্ক’ এআই মডেল পরিবারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি অ্যাপটি সিইও মার্ক জাকারবার্গের এআই এজেন্ট বাজারে প্রবেশের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ বছরের শুরুতে ডেভেলপার ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ফ্রি-টু-ইউজ ‘ওপেনক্ল ক্লড’ টুলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর মেটা এ খাতে কাজের জন্য জোরেশোরে নেমেছে।

সোমবার সিএনবিসি’র ‘স্কোয়াক অন দ্য স্ট্রিট’ অনুষ্ঠানে ‘বার্নস্টাইন’-এর বিশ্লেষক স্টেসি রাসগন বলেছেন, “আমার মনে হয়, এতদিন পর্যন্ত এআই এজেন্টগুলোর ব্যবহার মানুষের নাগালে ছিল না। তবে এখন মেটার মিউজ ও অন্যান্য এজেন্ট বাজারে আসায় এগুলো বড় পরিসরে মানুষের ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”

মেটার এই সাফল্যের রেশ দেখা গেছে পুঁজিবাজারের শেয়ারেও।

সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছ। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ‘ওয়েলস ফার্গো’ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৯৬ ডলারে গিয়েছে।

ব্যবহারকারীরা মিউজ অ্যাপটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারলেও মেটা ব্যবহারের পরিধি অনুসারে প্রতি মাসে ২০ ডলার বা ১০০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজও অফার করছে।

কোম্পানির মূল অনলাইন বিজ্ঞাপন ব্যবসার বাইরে এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে আয়ের এটা এক বড় কৌশল।

তবে মেটার মিউজ অ্যাপের আত্মপ্রকাশ এমন এক সময়ে ঘটল যখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এআইয়ের নিরাপত্তা ও সাইবার সিকিউরিটি ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নানা ধরনের উদ্বেগ চলছে।

পাশাপাশি, ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কারণে শিশু ও টিনএজারদের ক্ষতির মিথ্যা দাবির অভিযোগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোটের করা মামলায় সম্প্রতি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে মেটা।

ওপেনএআইয়ের সোরা বা মেটার নিজস্ব ‘ভাইবস’ এআই ভিডিও টুলের মতো অন্যান্য এআই পরিষেবা অতীতে বাজারে আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেললেও পরবর্তীতে সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি।

মিউজ অ্যাপের এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। গেল বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার পর মেটার নিজস্ব এআই অ্যাপের ডাউনলোড বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছিল ভাইবস টুলটি।

ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ‘মিউজ’ অ্যাপটি দীর্ঘমেয়াদে মেটাকে কোনো আইনি বা নৈতিক বিপদে ফেলবে কি না– এমন প্রশ্নে বিশ্লেষক রাসগন বলেছেন, “তারা নিরাপত্তার বিষয়টি হয়ত গুরুত্ব দেয় তবে প্রাইভেসির প্রতি তারা কতটা যত্নশীল তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।”

এদিকে, এসব এআই এজেন্টের ক্রমাগত জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতেও। ব্যক্তিগত তথ্য ও সিকিউরিটি ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন তাদের শপিং সাইটে মিউজ অ্যাপের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছে।

অ্যামাজন বলেছে, মিউজ তাদের স্টোরে প্রবেশ করবে– এমন কোনো আগাম সতর্কতা তাদের দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কোম্পানিটি আরও কিছু উদ্বেগের কথা বলেছে।

অ্যামাজনের ভাষ্য, এআই এজেন্টটি শপিং এক্সপেরিয়েন্সের সঙ্গে যোগ পারসোনালাইজেশন ও অন্যান্য ফিচারগুলোকে এড়িয়ে চলে।

পাশাপাশি, মিউজ ব্যবহারকারীদের ক্রেডেনশিয়াল বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করে ও অ্যাকাউন্ট ডেটা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে কোম্পানিটি।

বিবৃতিতে অ্যামাজনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা মনে করি, বিষয়টি স্পষ্ট যে, যেসব থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশন অন্য ব্যবসার পক্ষে গ্রাহকদের হয়ে কেনাকাটা সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয় তাদের উচিত স্বচ্ছতা ধরে রাখা ও কোনো প্ল্যাটফর্ম এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় কি না সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো।”

অ্যামাজনের এমন পদক্ষেপের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট গিকওয়্যার। তবে অ্যামাজন বিপরীত অবস্থান নিলেও মেটার সঙ্গে কাজ করছে স্পটিফাই।

সোমবার এক ঘোষণায় প্লাটফর্মটির সিইও টোবিয়াসের লুৎকে বলেছেন, তাদের অনলাইন স্টোরগুলোতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটা সুবিধা চালুর জন্য মিউজের সঙ্গে পার্টনারশিপ করেছে স্পটিফাই।