Published : 13 Sep 2025, 01:33 PM
এআইয়ের ঢেউয়ে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকল।
বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সামান্য কমলেও আগের দিন এআই ক্লাউড ব্যবসায় বড় সাফল্যের কারণে ওরাকলের শেয়ারদর রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
শত শত কোটি ডলারের বিভিন্ন ক্লাউড চুক্তির ঢেউয়ে ভর করে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার নির্মাতা ওরাকলের চোখধাঁধানো উত্থান এআই দৌড়ে শীর্ষে ওঠার জন্য কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করা নানা কোম্পানির কম্পিউটিং শক্তির প্রতিযোগিতাকেই সামনে এনেছে।
‘ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনভেস্টর’-এর মার্কেট প্রধান রিচার্ড হান্টার বলেছেন, “এআইনির্ভর লেনদেনের বাজারে আগুন জ্বেলে দিয়েছে ওরাকল।”
তিনি আরও বলেছেন, কোম্পানিটি যে তাদের এআই ক্লাউড ব্যবসায় শত শত কোটি ডলারের চাহিদা তৈরি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তা পুরো শেয়ারবাজারে ‘জোয়ারের ঢেউয়ের’ মতো বড় প্রভাব ফেলেছে।
বুধবার মার্কিন বাণিজ্য দৈনিক ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ বলেছে, কম্পিউটিং শক্তি পেতে ওরাকলের সঙ্গে ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি। এ চুক্তিই ওরাকলের মঙ্গলবার ঘোষিত নতুন আয় বা রাজস্বের বড় একটি অংশের ব্যাখ্যা দিতে পারে।
বুধবার শেয়ারদর ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে ওরাকলের শেয়ারের দাম কমেছে দুই দশমিক দুই শতাংশ। বুধবার লেনদেন শেষ হওয়ার সময় কোম্পানির বাজারমূল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার তিনশো কোটি ডলারে।
এ বছর ওরাকলের শেয়ারের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যার ফলে ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ সূচকের অন্যতম শীর্ষ পারফর্মার বা সবচেয়ে ভালো ফল করা কোম্পানি হয়ে উঠেছে ওরাকল, যেখানে তথাকথিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ কোম্পানিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে তারা।
ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার দুইশো ৬০ কোটি ডলারে, যা মূলত তার ওরাকলের ৪১ শতাংশ শেয়ার অংশের কারণে হয়েছে। তার তুলনায় টেসলার সিইও ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৪৩ হাজার নয়শ ৯০ কোটি ডলার, যা এখনও পর্যন্ত ফোর্বসের ধনী তালিকার শীর্ষে রেখেছে মাস্ককে।
অন্যান্য ক্লাউড সার্ভিস কোম্পানির চেয়ে বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে ওরাকলের শেয়ার। আগামী ১২ মাসের আয়ের হিসেবে তাদের শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত ছিল ৪৫ দশমিক ৩। সেখানে অ্যামাজনের ছিল ৩১ দশমিক ৩ আর মাইক্রোসফটের ৩১।