Published : 06 Nov 2025, 03:34 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের চাহিদা মেটাতে এবার মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।
এ লক্ষ্যে ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে প্রথম পরীক্ষামূলক সরঞ্জাম বা স্যাটেলাইট গুচ্ছ পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠােবে কোম্পানিটি।
গুগলের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা বলছেন, সৌরশক্তি চালিত প্রায় ৮০টি স্যাটেলাইটের গুচ্ছ কক্ষপথে বা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় চারশ মাইল উঁচুতে বসানো হতে পারে। এসব স্যাটেলাইটে এমন শক্তিশালী প্রসেসর থাকবে, যা এআইয়ের চাহিদা পূরণ করবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত গুগলের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মহাকাশ উৎক্ষেপণের খরচ এত দ্রুত কমছে যে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চলমান খরচ পৃথিবীতে থাকা ডেটা সেন্টারের সমান হতে পারে।
বর্তমান বিভিন্ন ডেটা সেন্টারকে ঠান্ডা রাখার জন্য অনেক পরিমাণে মাটি ও পানির প্রয়োজন হয়। স্যাটেলাইট ব্যবহার করলে এসব সম্পদের ওপর প্রভাব কমানো যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
পৃথিবীর কক্ষপথে এসব ডেটা সেন্টার সৌর প্যানেলের মাধ্যম চলবে, যা পৃথিবীর সৌর প্যানেলের তুলনায় আট গুণ বেশি শক্তি উৎপাদন করতে পারে। তবে মহাকাশে একটি রকেট পাঠানোর মানে হচ্ছে শত শত টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত করা, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
গুগলের ‘প্রজেক্ট সানক্যাচা’-এর অধীনে পরিকল্পিত কক্ষপথে থাকা এসব ডেটা সেন্টার অপটিক্যাল লিংকের মাধ্যমে ফলাফল বা তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে, যা তথ্য পাঠাতে আলো বা লেজার রশ্মি ব্যবহার করে।
এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি কোম্পানি। পৃথিবী পৃষ্ঠে তৈরি ডেটা সেন্টারে মোট প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে এসব কোম্পানি, যা ভারত থেকে টেক্সাস ও লিংকনশায়ার থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত হবে।
মোটা অংকের খরচের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, এসব ডেটা সেন্টার চালাতে যদি পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার না হয় তবে পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
গুগল বলেছে, “ভবিষ্যতে এআইনির্ভর কম্পিউটার বড় পরিসরে চালানোর জন্য মহাকাশ হতে পারে সেরা স্থান।
“এদিক বিবেচনায় আমাদের নতুন গবেষণামূলক উদ্যোগ প্রকল্প সানক্যাচার পরিকল্পনা করছে সৌরচালিত ছোট ছোট স্যাটেলাইটের গুচ্ছ তৈরির, যা গুগলের টিপিইউ প্রসেসর বহন করবে এবং ফ্রি-স্পেস অপটিক্যাল লিংকের মাধ্যমে সংযোগ থাকবে। এ পদ্ধতি বিশাল পরিসরে কাজের সম্ভাবনা রাখে ও একইসঙ্গে পৃথিবীর সম্পদের ওপরও প্রভাব কমাবে।”
টিপিইউ হল বিশেষ ধরনের প্রসেসর, যা বিভিন্ন এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ কার্যসক্ষমতার জন্য তৈরি। আর ‘ফ্রি-স্পেস অপটিক্যাল লিংক’ বেতার তথ্য পাঠানোর প্রযুক্তি, যা আলোর মাধ্যমে ডেটা পাঠায়।
গুগলের পরিকল্পনা, ২০২৭ সালের শুরুতে দুইটি প্রটোটাইপ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে তারা। পাশাপাশি নিজেদের গবেষণার ফলাফলকে ‘বড় পরিসরে মহাকাশভিত্তিক এআই বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ’ হিসেসে বর্ণনা করেছে কোম্পানিটি।