Published : 21 Sep 2025, 01:22 PM
সামাজিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হলো ফেইসবুক। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এখানে ছবি শেয়ার করেন, ভিডিও পোস্ট করেন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা গল্প সাজিয়ে রাখেন। কিন্তু এই ভার্চুয়াল ভুবনে কৌতূহলবসত একটি প্রশ্ন সবসময় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়, তা হলো ‘আমার প্রোফাইল কে দেখছে?’
বাজারে থাকা অসংখ্য অ্যাপ আর ওয়েবসাইট এই কৌতূহলকে হাতিয়ার বানিয়ে দাবি করছে তারা নাকি বলে দেবে ঠিক কারা প্রোফাইল ভিজিট করছে। কিন্তু প্রযুক্তি সাইট ‘হাও স্টাফ ওয়ার্কস’ লিখেছে, সত্যিটা একেবারেই আলাদা।
থার্ড পার্টি অ্যাপ কি আসলেই বলে দিতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এমন কোনো অ্যাপ এখনো তৈরি হয়নি যা সঠিকভাবে জানাতে পারে কে ব্যবহাকারীর ফেইসবুক প্রোফাইল দেখছে। বরং এসব অ্যাপের বেশিরভাগই ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারে ভরা।
অনেক সময় এগুলো ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয় কিংবা বন্ধুদের কাছে স্প্যাম ছড়িয়ে দেয়। আরও ভয়াবহ ব্যাপার হলো, কিছু অ্যাপ ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ঠিকানাও বের করে নিতে সক্ষম।
ফেইসবুকও বারবার ঘোষণা দিয়েছে, প্রোফাইল ভিউয়ার দেখার ফিচার তাদের নীতির পরিপন্থী। তাই এই ধরনের যেকোনো অ্যাপকে রিপোর্ট করার আহ্বান করেছে তারা।
সীমিত তথ্য পাওয়ার উপায়
তাহলে ব্যবহারকারীরা কি একেবারেই অন্ধকারে? পুরোপুরি নয়। কিছু ফিচার আছে যা থেকে ধারণা পাওয়া যায় কারা প্রোফাইলের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে।
২০১৭ সালে চালু হওয়া ফেইসবুক স্টোরিজ এ স্পষ্টভাবেই দেখা যায় কে ছবি বা ভিডিও দেখেছে। যদিও এই তথ্য পাওয়া যায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য। এ ছাড়া প্রোফেশনাল বা ফ্যান পেইজ ব্যবহারকারীরা পেতে পারেন ফেইসবুক ইনসাইটস, যেখানে দেখা যায় কতজন লাইক দিয়েছে, কতজন পোস্টে ক্লিক করেছে বা কতজন দেখেছে।
তবে এখানেও শর্ত আছে। অন্তত ৩০ জন ব্যবহারকারী না হলে ডেমোগ্রাফিক তথ্য পাওয়া যায় না, আর তথ্য পেতেও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই এটি দিয়ে কেউ তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবে না কে এখনই প্রোফাইল দেখছে।
থার্ড পার্টি অ্যানালিটিক্স
ব্যবহারকারীরা চাইলে বাইরের অ্যানালিটিক্স টুলও ব্যবহার করতে পারেন। যেমন ওয়েবট্রেন্ডস কিংবা গুগল অ্যানালিটিক্স। এগুলো ভিজিটরের সংখ্যা, সময় ও ভৌগোলিক অবস্থান জানায়। তবে এক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আছে। আইপি অ্যাড্রেস ঘন ঘন বদলে যায় বলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।
কৌশলগত এনগেজমেন্ট
অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, কৌশলগত পোস্ট করেও বোঝা যায় কারা আগ্রহ নিয়ে প্রোফাইল দেখছে। ধরা যাক, একজন ব্যবহারকারী কোনো অদ্ভুত খবর বা নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার পোস্ট করলেন। কিছুক্ষণ পর যদি এমন কেউ প্রতিক্রিয়া জানায় যিনি সাধারণত স্টোরিতে সক্রিয় নন, তবে ধরে নেওয়া যায় তিনি প্রোফাইলও ঘুরে দেখেছেন। নতুন ও ভিন্নধর্মী কনটেন্ট বরাবরই দর্শকের কৌতূহল বাড়ায়।
নিষিদ্ধ হওয়া অ্যাপ
ফেইসবুকের নিয়ম ভাঙার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। বাজারে নিয়মিত আসছে এমন সব অ্যাপ যেগুলো দাবি করে তারা প্রোফাইল ভিউ ট্র্যাক করতে পারে। তবে এগুলোর আয়ু খুবই কম। ফেইসবুক বিষয়টি টের পেলেই সেগুলো নিষিদ্ধ করে।
এমনই এক উদাহরণ হলো ‘ব্রেকআপ নোটিফায়ার’। অ্যাপটির মূল কাজ ছিল ব্যবহাকারীর কোনো বন্ধু সম্পর্কের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করলে তা জানিয়ে দেওয়া। মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় এটি ৭ লাখ ভিজিট এবং ৩৬ লাখ ব্যবহারকারী পায় অ্যাপটি। কিন্তু এক সপ্তাহের ভেতরেই ফেইসবুক এটি বন্ধ করে দেয়।
প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, এই কৌতূহল আসলে স্বাভাবিক। মানুষ সবসময় জানতে চায় কে তাকে লক্ষ্য করছে। তবে এর বিপরীতে রয়েছে ফেইসবুকের কড়া প্রাইভেসি নীতি, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষায় তৈরি। তাই যত অ্যাপই বাজারে আসুক না কেন, এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানার কোনো বৈধ উপায় নেই কে ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা চাইলে নানা উপায়ে অনুমান করতে পারেন কারা তাদের কনটেন্ট দেখছে, কিন্তু কখনোই নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় কে প্রোফাইল ভিজিট করছে। প্রতিটি প্রতারণামূলক অ্যাপ ব্যবহারকারীর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, আর ফেইসবুকও সেগুলো দ্রুত নিষিদ্ধ করে দেয়।
তাই ডিজিটাল যুগে নিরাপদ থাকতে হলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। কৌতূহলকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে প্রাইভেসির সীমানার ভেতরে। আর শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নিতে হবে যতই চেষ্টা করা হোক না কেন ব্যবহাকারীর ফেইসবুক প্রোফাইল কে দেখছে তা কখনোই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না।